আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও ওসমান পরিবারের ঐতিহ্য

1332

বিশেষ প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগের ইতিহাস প্রতিনিয়ত কালো শক্তি বদলে দিতে চায়। তবে কিছু বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও কর্মী সেই ইতিহাসকে লালন করে। তাদের হাত ধরে রাজনৈতিক ঐতিহ্য পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থান করে। ওসমান পরিবার শুধু নারায়ণগঞ্জে নয় বাংলাদেশ তথা বিশ্বের বুকে আওয়ামী লীগের রক্ষা কবজ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি পরিবার সেই পরিবারকে ধূলায় মিশিয়ে দিতে তলে তলে কাজ করে। ইতিহাস বদলে দিতে চায় চাতুরির মাধ্যমে। তারা ভর করে বিভিন্ন অপশক্তির উপর। বগল তলায় নিয়ে চলে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তিকে। আর মুখে বলে বেড়ায় জয় বাংলার শ্লোগান। এমনই অভিযোগ নারায়ণগঞ্জে আবাল বৃদ্ধ বনিতার। তাদের অভিযোগকে আমলে নিয়ে বাংলা সংবাদ অনুসন্ধানে নামে প্রকৃত ইতিহাস তুলে আনতে। কথা হয় ওসমান পরিবারের ঘনিষ্টজনদের সাথে। তাদের মুখে শুনি নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের ইতিহাস। তাদের মুখে শুনি নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

রাজনৈতিক নেতা, সাধারন মানুষ, সুশিল সমাজ, শিক্ষিত সমাজের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে সাথে এই প্রত্যাশা।

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল বলেন, বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক ইতিহাস। সকল রাজনৈতিক ইতিহাসের সাথে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস জড়িত। এটা এভাবেও হতে পারে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাস আওয়ামী লীগের ইতিহাস। বাংলাদেশে যে আওয়ামী লীগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সেই আওয়ামী লীগ সৃষ্টির পাদপ্রদীপ বা স্থান হিরা মহল। খান সাহেব ওসমান আলী হতে আরম্ভ করে। তারপর তার সুযোগ্য পুত্র ভাষা সৈনিক সামসুজ্জোহা সাহেব। সেই সামসুজ্জোহা সাহেব ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের কর্ণধার। তার রয়েছে সুযোগ্য তিন পুত্র। নাসিম ওসমান চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বাংলাদেশের সকল মুক্তিযোদ্ধা একবার মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ফের মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন। তার হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য। যদিও কাদের সিদ্দিকির সাথে আমাদের মতপার্থক্য আছে। তিনি নারায়ণগঞ্জের স্বপ্ন দ্রষ্টা ছিলেন। তিনি অনেক কাজ করেছেন। ওসমান পরিবারের ইতিহাস নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস। এক অর্থে পরিপূর্ণভাবে বলা যায়। খান সাহেব ওসমান আলীর সহচর ছিলেন, আফজাল সাহেব, শফিউল হোসেন প্রধান, মফিজ চাচা, পিপি ওয়াজেদ আলী খোকনের বাবা, আব্দুর রহমান সাহেব। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস বই পড়লে জানা যাবে সবকিছু। যত রাজনৈতিক ইতিহাস বাংলাদেশে ঘটছে। বিশেষ করে রক্তাক্ত ইতিহাস। ৫২’র ইতিহাস। ৬৬’র ইতিহাস। ৭০’র গণঅভ্যুথ্থান। ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ। ৯৬ সালের অসহযোগ আন্দোলন। সকল ইতিহাসের সাথে বাইতুল আমান ও হিরা মহল জড়িত। সবকিছুর সাথে খান সাহেব ওসমান আলী, সামসুজ্জোহা সাহেব, নাসিম ওসমান সাহেব, সেলিম ওসমান সাহেব, একেএম শামীম ওসমান সাহেব জড়িত। সর্বশেষ ৭১’র মতো ‍মুক্তিযুদ্ধ নারায়ণগঞ্জে সৃষ্টি হয়েছে। যেই ইতিহসের নাম হলো ৯৬ সালের অসহযোগ আন্দোলন। স্বপ্নদ্রষ্টা জননেত্রী শেখ হাসিনা। আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশি তাকে দিব। তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। স্বপ্নদ্রষ্টা জননেত্রী শেখ হাসিনা কিন্তু  সেটার রুপকার জননেতা শামীম ওসমান এবং নাসিম ওসমান। নাসিম ওসমান ভাইর সাথে আমাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে। উনি আমাদের রাজনৈতিক শিক্ষক। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। ওনার নির্দেশে এবং শামীম ভাইর নির্দেশে কিন্তু আমাদের ছেলেরা শেখ হাসিনার আন্দোলনকে বেগবান করেছি। সারা বাংলাদেশের মধ্যে আমরা। অামরা এই অর্থে আপনি যদি ফাইল ফুটেজে দেখেন। ইত্তেফাক সেই সময়ের পত্রিকা, জনকন্ঠ, ইনকিলাব সেই পত্রিকাগুলো দেখলে দেখবেন। নারায়ণগঞ্জের সংবাদ যদি ৮ কলামে থাকে। সেখানে সারা দেশের সংবাদ ২ কলামে। এতে কি প্রমানিত হয় না। নারায়ণগঞ্জের আন্দোলনটা সর্বোচ্চ গতিতে এগিয়ে গেছে। ওটা দেখে বাংলাদেশের সকল জেলা বেগবান হয়েছে। এটা আমার জলন্ত প্রমান। আরেকটা জলন্ত প্রমান হলো অসহযোগ আন্দোলনে শেষ ২৬ দিনে ২৮ টা তাজা প্রাণ নিহত হয়েছে। আফজাল, মুরাদ, মুকুল, জাকির হোসেন পাপ্পু, চানমারির মনির, আদমজীর শাহিন ভাই ছাড়াও অনেক নেতা। বাংলাদেশের কোন জেলায় এই ইতিহাস নাই। এতো গুলি তাজা প্রাণ নিহত হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাস নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস। আরো প্রমান দেই আপনাকে। বাংলাদেশে ৭১ সালে যে যুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সাহেব। সেটার প্রতিরোধ কোথা থেকে হয়েছে। আপনার নারায়ণগঞ্জ থেকে। মাজদাইর এলাকা থেকে। তখন ২২ জন শহীদ হয়েছিলো। আরেকটা আমি উদাহরন দেই। বাংলাদেশের মধ্যে ১ দিনে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে মারা যায় নাই। ১৩৯ জন। বক্তবলীর পরগোনায়। পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিলো। এত মানুষকে হত্যা করছে। এই ইতিহাসগুলি কিন্তু নারায়ণগঞ্জের মানুষ অনেকেই ভুলে গেছে। তবে মুক্তিযোদ্ধারা মনে রাখছে। আমরা যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ পাই নাই। এ বিষয়ে আমি পড়ালেখা করি। আমরা এইসব জিনিসগুলি জানি। এমন অনেক ইতিহাস আছে। ৬৬, ৬৯ এর আন্দোলন আদমজী থেকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সাহেব একটা কথা বলছিলেন, আদমজী বাংলাদেশের ক্যান্টনমেন্ট। নারায়ণগঞ্জের আদমজী আমার ক্যান্টনমেন্ট। নারায়ণগঞ্জ আমার ক্যান্টনমেন্ট। এ কথা কেন বলছিলেন? কারন সারা বাংলাদেশে তখন আদমজী মিল, লক্ষীনারায়ণ কটন মিল। এত লোকের পদচারনা কোন জেলায় ছিল না। একটা জেলায় ছিল যে জায়গায় বঙ্গবন্ধু আসলে এক লাখ লোক সোয়া লাখ লোক হয়ে যেত। যার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলাকে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট বলা হতো। এরকম অনেক প্রমান আছে। আপনি আরো যা জানতে চান জানতে পারেন আমার কাছে। সাংবাদিকরা আমার কাছে আসবেন আমি উত্তর দিব। যে কোন অপ্রীতিকর প্রশ্ন। হ্যা আমরা ওসমান পরিবারের রাজনীতি করি। ওসমান পরিবারকে তো শেখ হাসিনা আপা একসেপ্ট করেই নিছে। যে ওসমান পরিবারের দেখভাল আমিই করবো। তো আমি ওসমান পরিবারের রাজনীতি করলে কি আমার নেতা শামীম ভাই, সেলিম ভাই, নাসিম ভাইকে ভালোবাসলে কী আমি শেখ হাসিনাকে ভালোবাসি না? আমার ভাইগুলি যে মারা গেছে তারা কার জন্য আত্মহুতি দিছে। শেখ হাসিনাকে ভালোবেসে নয় কী? শামীম ভাইয়ের নেতৃত্বটা কার দৃষ্টি আকর্ষন করছে। আমার ২২ বছর বয়সী বন্ধু পাপ্পু মারা গেছে কার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে? সিদ্ধান্ত শামীম ভাইয়ের কার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার। এ রকম অনেক ইতিহাস আছে। এ ইতিহাসগুলি আপনাদের জানতে হবে। জানেন না বিধায় নারায়ণগঞ্জের কিছু পত্রিকা লেখে এ প্রেসিডেন্ট হয়ে গেছে! এ সেক্রেটারী হয়ে গেছে! এ মেয়র হয়ে গেছে! এ এমপি হয়ে গেছে! তারা বিরাট খেলোয়াড়! এটা চিন্তা করবেন না। আমরা শামীম ভাইয়ের যে সুযোগ্য ছাত্ররা আছি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলি অনেক বড় বড় খেলোয়াড় আছে যারা আমার, গোলাম সারোয়ার, শাহ নিজাম উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন সাজনু এদের চেয়ে ঐতিহ্য কম। তবে তারা বিরাট বড় পদে বসে আছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, মেয়র তবে প্রকৃত বিষয় এটা না। বিষয়টা হলো আমরা শো ডাউনের রাজনীতি করি না। শো আপ করি নাই। কিন্তু রাজনৈতিক ঐতিহ্য আমাদের বেশি। যদি প্রমান চান তবে প্রমান দেব। আমরা যখন তোলারাম বিশ্ববিদ্যাল কলেজের ভিপি জিএস হয়ে গেছি। সারা বাংলাদেশের রেকর্ড। কোন কলেজে ছাত্রলীগের সংসদ ছিলো না। প্রথম ভিপি জিএস হয়েছে বাদল হেলাল। আমার পরে হয়েছে সুলতান মুনসুর। যে সুলতান মুনসুর ঐক্যফ্রন্টে। বাংলাদেশের ইতিহাস কী সুলতান মুনসুর না জাকিরুল আলম হেলাল আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। আজকে আমাদের অনেকেই লবিং গ্রুপিং করেন। এ পোষ্ট গুলির মধ্যে দুই একজন আছে যারা এই ঐতিহ্যের চেয়ে নিচে নিচে তাদের ক্যালিভার। আমাদের চেয়ে কেউ যদি বেশি রক্ত দিয়ে থাকে আপনারা প্রমান করেন আমি শাস্তি মাথা পেতে নেব। সাংবাদিকদের আমি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেই। অাপনারা যদি মনে করেন আমি একা থাকবো। আপনারা ২০ জন সাংবাদিক মিলে আমাকে প্রশ্ন করবেন। আমি উত্তর দেব। আপনারা আমাকে প্রশ্নে জর্জরিত করবেন। যত অপ্রীতিকর প্রশ্ন করতে পারেন। আমি আমার ইতিহাস বলে যাব।

print