আদালতের নির্দেশনায় সার্ভে কমিশন সিদ্ধিরগঞ্জ মাঝিপাড়ায়

57
আদালতের নির্দেশনায় সার্ভে কমিশন সিদ্ধিরগঞ্জ মাঝিপাড়ায়

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি 
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ মাঝিপাড়া এলাকার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর ১০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃতঃ ঈমান আলী সরদারের পুত্র আশিফুর রহমান রমজান (৬২) নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ দ্বিতীয় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন নূর হোসেন গংদের বিরুদ্ধে।

যার দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ২৩৪/১৯। দীর্ঘদিন যাবৎ জমি সংক্রান্ত বিরোধের ন্যায়বিচারের জন্য আশিফুর রহমান রমজান আদালতের শরণাপন্ন হন। অসহায়, সহজ-সরল ও দরিদ্র এই রমজান মামলা করেও স্থানীয় অনেকের চোখ রাঙানোর স্বীকার হয়ে আসছেন।

প্রতিপক্ষের লোকজন অর্থবিত্ত ও পেশীশক্তিধর হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিরোধের নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞ আদালত মামলা চলাকালীন সময়ে উভয় পক্ষের এডভোকেটগণদের উপস্থিতিসহ বাদী-বিবাদীকে মোকদ্দমার নালিশী ভূমি বিষয়ে তদন্ত কার্য/ পরিদর্শন কার্য/ সাহাম বরাদ্দ/ দখল প্রদান করার লক্ষ্যে ১৭ মার্চ ২০২১ইং বুধবার সকাল ১১টায় স্ব-স্ব পক্ষগণের নকশা-পর্চা-দলিলাদি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ নালিশী ভূমিতে উপস্থিত থেকে কমিশন কার্যে সহযোগিতা করার জন্য আদালতের নিয়োগপ্রাপ্ত সার্ভে কমিশনকে নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের এই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বাদী-বিবাদী উভয়পক্ষের আইনজীবীর উপস্থিথিতে সার্ভে কমিশন আসাদুজ্জামান লিটন স্থানীয় এলাকাবাসীর সম্মুখে উভয়পক্ষের সরেজমিন দখল এবং সেই সাথে দখলকৃত ভূমিতে স্থাপনাসহ বিবিধ বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধ করেন।

এসময় উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উভয় পক্ষের এডভোকেট মোঃ মোবারক হোসেন প্রধান ও বিবাদী পক্ষের এডভোকেট মোঃ হেলাল উদ্দীন চৌধুরী ও সার্ভে কমিশন নিজে এবং বিবাদী পক্ষের সার্ভেয়ার মোঃ তুষার ও রসূলবাগ ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন ও প্যানেল মেয়র ২ মিনুয়ারা বেগমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

সার্ভে কমিশন নালিশী ভূমি সিদ্ধিরগঞ্জ গোদনাইল মৌজার সি এস ও এস এ দাগ নং ১৫২৯ ও ১৫২৮ যার আর এস দাগ নং ৩৩৯৫ ও ৩৪১১। বাদী বিবাদী কতটুকু দখলে আছেন তা সার্ভে কমিশন উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে সার্ভে স্কেচ করেন। এছাড়াও স্থাপনায় কার কয়টি ঘর ও ছেমীপাকা ঘর সহ কী কী আছে, তা-ও উভয় পক্ষই সরজমিনে থেকে তা নির্ধারণ করে সার্ভে কমিশনের কাছে বলেন। পরিশেষে সার্ভে কমিশন এডভোকেট দ্বয়ের উপস্থিতিতে বাদী বিবাদীকে বলেন, এই জরিপ আদালতে পেশ করা হবে, তখন আদালত ২ জনের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে কার কতটুকু সম্পত্তি আছে এবং কতটুকু কে পাওনা একমাত্র আদালতই তা নির্ধারণ করবেন।

সার্ভে কমিশন এ-ও বলেন, যাতে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি-শৃংখলা বজায় থাকে।

সার্ভে চলাকালীন সময়ে বিবাদী আশিফুর রহমান রমজান বলেন, আমার একটি পুরনো টিনের ঘর তাও বিবাদীরা ভেঙ্গে দিতে চান। আমি আদালতের কাছে ন্যায় বিচারের আশায় এখনও দিন গুণছি। আদালত আপনাকে প্রেরণ করেছে উল্লিখিত ভূমিতে আমার কতটুকু সত্য দখল আছে আর আমি আমার দখল থেকে কতটুকু বঞ্চিত। আপনার এ প্রতিবেদনই আমার ন্যায় বিচারের সহায়ক হয়ে দাড়াবে। আমি আমার ওয়ারিশকৃত সম্পত্তির অধিকার চাই।

print