আবারও ডেজলিং ডায়িংয়ের বর্জ্যে খামারির মাছে মড়ক

1138

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ মাসের ব্যবধানে আবারও ডেজলিং ডায়িং কারখানার বিষাক্ত ক্যামিকেল মিশ্রিত বর্জ্যে খামারির মাছে মড়ক লেগেছে। গত দুই দিনে আনুমানিক ১২ লাখ টাকার মাছ মরার অভিযোগ করেছেন হাজীগঞ্জ এলাকার সালাউদ্দিন। এ ঘটনায় তিনি সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি।


জানা গেছে, গতকাল ভোরে হাজীগঞ্জ এসিআই রোডের পাশে সালাউদ্দিনের খামারে মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করে। সাথে সাথে তিনি খামারের পাশের ডেজলিং ডায়িং কতৃপক্ষকে অভিযোগ করেন। তারা তার কথায় কোন ধরনের কর্ণপাত না করায় তিনি সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেন।
আরও জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ২ একর জমি ইজারা নিয়ে মাছের খামার শুরু করেন হাজীগঞ্জের সালাউদ্দিন। খামারে তিনি ৪ লাখ টাকার পোনা ছাড়েন। পোনার খাবার পরিচর্চা করার পর সর্বনাশা ডায়িংয়ের বিষাক্ত ছোবলে শেষ হয়ে গেছে মাছের খামার।
ভুক্তভোগী সালাউদ্দিন জানান, সিটি কর্পোরেশনের ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছের খামার চালিয়ে আসছেন। খামারের আয় দিয়ে তিনি সুখে শান্তিতে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করছেন। এ সুখ তার কপালে আর সইলো না। ডেজলিং ডায়িং কোন নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই বিষাক্ত ক্যামিকেল তার খামারে ফেলছে। যার ফলে এ বছরের মধ্যে ২ বার তার খামারের মাছে মড়ক লাগলো। ডেজলিং ডায়িংয়ের পরিচালক বিজয় ভৌমিককে বার বার নিষেধ করলেও তারা বিষাক্ত ক্যামিকেল মিশ্রিত পানি তার খামারে ফেলা বন্ধ করেনি। এ বিষয়ে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা মৎস কর্মকর্তা ও সিটি কর্পোরেশন কতৃপক্ষকে অভিযোগ করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গতকাল খামারের মাছে মড়ক লাগলে তিনি সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করলে উপ পরিদর্শক জসিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি খামার পরিদর্শনের পর ডেজলিং ডায়িংয়ে কথা বলতে যান। ডেজলিং ডায়িং কারখানা থেকে বেরিয়ে তিনি খামারে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে বলে চলে যান। কারখানার ভেতর থেকে সালাউদ্দিন জানতে পারেন, এস আই জসিম ডেজলিং ডায়িং থেকে ২ লাখ টাকা নিয়েছেন। যে কারনে তিনি অভিযোগের বদলে ওই কারখানার পক্ষে কথা বলছেন।
জানতে চাইলে সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক জসিম উদ্দিন বলেন, কারখানার কোন কিছু খামারে পড়ে না। ওই খামারের পানিতে ময়লা আবর্জনা রয়েছে তাই মাছ মারা গেছে।

print