আল জয়নালে ট্রেড সেন্টারে রাজউক অভিযান চুপসে গেছে উচ্ছেদে তৎপরতা

1085

নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাপক হাঁকডাক দিয়ে আল-জয়নাল ট্রেড সেন্টার উচ্ছেদে এসেও রহস্যজনক কারণে আবার ফুটো বেলুনের মতো চুপসে গেছে রাউজক। কেউ কেউ বলছে, মোটা অংকের সুবিধা নিয়ে রাজউক ম্যানেজ হয়ে গেছে। আবার কেউ বলছে সাংসদ সেলিম ওসমানের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে বলে সংস্থাটি নীরব হয়ে গেছে।

তবে, রাজউক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠে শক্তভাবে মাঠে নামার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। অন্যদিকে আল-জয়নাল ট্রেড সেন্টারের মালিক জয়নাল আবেদীনের দাবি, রাজউক ফাজলেমি করছে। রাজনৈতকভাবে হেনস্থা করার জন্য এসব করছে তারা।

সূত্র মতে, মালিকানা সত্ত্ব এবং রাজউকের অনুমোদন না নিয়ে চাষাড়ায় আল-জয়নাল ট্রেড সেন্টার নির্মাণ করেন জয়নাল আবেদীন। এমন অভিযোগে ২৯ আগস্ট ভবনটি উচ্ছেদ অভিযান চালায় রাজউক জোন-৮। সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে বিপুল সংখ্যক পুলিশসহ এ অভিযান পরিচালনায় নামেন। তবে উচ্ছেদ না করেই দলটি ফিরে যায়। এদিন ভবন মালিক পক্ষের লোকজন দাবি করে তাঁদের সমস্ত কাগজপত্র রয়েছে। তারা পুরোপুরি বৈধ উপায়ে ভবন নির্মাণ করেছেন। কাগজপত্র দেখানোর জন্য একদিনের সময় প্রর্থনা করে রাজউকের কাছে। এর প্রেক্ষিতে রাজউক একদিনের সময় দিয়ে চলে যায়।

এদিকে রাজউকের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেও ভবন মালিকের পক্ষ থেকে কোনো কাগজপত্র দেখানো হয় নি বলে অভিযোগও করে রাউজক। এমনকি এর বিপরীতে রাজউকও কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে শহরজুড়ে আলোচিত হয়েছে অর্থের বিনিময়ে রাজউক ফুটো বেলুনের মতো চুপসে গেছে। মূলত তারা আর্থিক ফায়দা লুটে নিতেই ২৯ আগস্ট অভিযান চালিয়েছিলো।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজউক জোন-৮ এর পরিচালক একেএম মাকসুদুল আরেফিন। তিনি বলেন, আইন কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ এবং জোরালোভাবে ভবনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। ভবনটি পুরোপুরি অবৈধ। নিশ্চিত হয়েই আমরা অভিযানে নেমেছিলাম।

এদিকে ভবন মালিক জয়নাল আবেদীন দাবি করেছেন, প্রভাবশালী একটি মহল আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই রাজউক এই অভিযান চালিয়েছে। এসব রাজউকের ফাজলেমি। এর পিছনে কেউ না কেউ জড়িত আছে।

তিনি বলেন, আমি জমি মাগনা কিনি নাই। টেকা দিয়া কিনছি। রাজউক থেকে প্ল্যান পাশ করানোর জন্য কাগজ জমা দিয়েছি। কিন্তু নির্মাণ কাজ করতে দেরী হওয়ায় তারা সেই প্ল্যান আমারে না দিয়া জরিমানা করছে। এরপর আমিও হাইকোর্টে এর বিরুদ্ধে রিট করছি। তারপর ভবন নির্মাণ করছি।
প্রসঙ্গত, চাষাড়ায় আল-জয়নাল ট্রেড সেন্টার নির্মাণের পূর্বেই এ জমির মালিকানা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠেছিলো। এমনকি সেসময় এ নিয়ে নানা ধরণের ঝামেলাও হয়েছিলো। তবে শেষ পর্যন্ত প্রভাবশালী একটি পরিবারের আশির্বাদে ভবন নির্মাণ হয় এবং উদ্বোধন হয়। আর এটি উদ্বোধনও করেছিলেন সাংসদ শামীম ওসমান।

print