ইসলামপুরে মহিলা এমপি’র নামে বরাদ্দকৃত মসজিদ উন্নয়নের টাকা আত্মসাৎ!

1084
মন্ত্রণালয়

রোকনুজ্জামান সবুজ, জামালপুর

জামালপুুরের ইসলামপুর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় নামে-বেনামে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের সংরক্ষিত আসনের এমপি হোসনে আরার নামে। কোটায় বরাদ্দকৃত প্রকল্পে এমপি হোসনে আরার অনুকূলে বরাদ্দকৃত প্রকল্পে মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে সরকারি অর্থের ‘নয়ছয়’ করার রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। খোদ এমপির কোটায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাটি ভরাট এবং সংস্কাররের প্রকল্প দেখিয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থের তছরূপ হলেও দেখার যেনো কেউ নেই।
অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পগুলো সংরক্ষিত নারী আসনের এমপির কোটা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন অনেকটাই নির্বিকার।
জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হোসনে আরার নামে টিআর কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে নন-সোলার খাতে ২২টি প্রকল্পের বিপরীতে ১৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। যার মধ্যে ইসলামপুর উপজেলায় বরাদ্দ হয় ১৫ লাখ ১৭ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য গত বছরের অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এমপি হোসনে আরা ছাড়াও পিআইও, ইউএনওর স্বাক্ষরের পর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক যৌথ স্বাক্ষরে অনুমোদন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রকল্পের বরাদ্দের খবর সংশ্নিষ্ট এলাকাবাসী জানে না। যেসব স্থানে কাজ হয়েছে তা নাম মাত্র। নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্পের কাজ শুরু এবং শেষ প্রান্তে কাজের ধরন, বরাদ্দ ও প্রকল্প কমিটির নাম সংবলিত সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও ইসলামপুরে কোথাও এর কোনো চিহ্ন নেই। তাই কোন প্রকল্পের কত বরাদ্দ, কে সভাপতি, সেটিও জানে না এলাকাবাসী এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।
জানা গেছে, এমপি হোসনে আরা অরাজনৈতিক এক প্রতিনিধির মাধ্যমে পছন্দের লোকদের নামে বেনামে বরাদ্দ দেওয়ায় তারাই প্রকল্পের কাজের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এমপির নাম ভাঙিয়ে ওই প্রতিনিধি প্রকল্প সভাপতিদের সঙ্গে সমঝোতা করে বরাদ্দের টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, টিআর কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ১লাখ ১০হাজার টাকার বিপরীতে ৯ নং প্রকল্পের নাম দেয়া হয় উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের চন্দনপুর আলাল চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন কবর স্থানে মাটি ভরাট। এ প্রকল্পের টাকা নয়ছয়ের বিস্তর অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় ময়না মিয়া, হাসমত, সুজন, বিল্লালসহ অনেকেই জানান, কবর উন্নয়নে বরাদ্দকৃত সব টাকা দেয়া হয়নি। অপরদিকে ১লাখ ৩১হাজার টাকার বিপরীতে ১০ নং প্রকল্পের নাম দেয়া হয় একই ইউনিয়নের শাহপাড়া জামে মসজিদ উন্নয়ন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যে মসজিদের নামে প্রকল্প দেয়া হয়েছে, সেখানে কাজ না করে এক কিলোমিটার দূরে নতুন শাহপাড়া জামে মসজিদে নাম মাত্র কাজ করা হয়েছে। ফলে সরকারি টাকার সিংহভাগ চলে গেছে সিন্ডিকেটের কবজায়। এ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি মেম্বার ইদ্রিস আলী জানান, ১লাখ ৩১হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও তাকে এমপি হোসনে আরার লোক মাত্র ৩৯ হাজার টাকা দেন। বাকি ৯২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে এমপি হোসনে আরার প্রছন্দের এক ব্যক্তি। ওই ব্যক্তি মসজিদ উন্নয়নের টাকা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া ইসলামপুর সাব রেজিষ্ট্রার অফিস মসজিদ উন্নয়ন নামে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়ে ৩ নং প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ প্রকল্পের বরাদ্দের অর্ধেক টাকা এমপি হোসনে আরার লোক দাবী করলে শেষ পর্যন্ত মসজিদ পরিচালনা কমিটি প্রকল্পটি নিতে অস্বীকৃতি জানান।
পরবর্তীতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি এমপি হোসনে আরা স্বাক্ষরিত ডিও নং- বাজাস/অ-১৬/০৪/২০১৯(৪২) স্বারকমূলে একপত্রে প্রকল্পটি পরিবর্তনে নতুন করে উত্তর দরিয়াাবাদ পাইলিং ঘাট জামে মসজিদ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। স্থানীয় আ‘লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস জানান, সরকারি বরাদ্দের ব্যাপারে সঠিক তদারকি না থাকলে সরকারের বদনাম হবে এটাই স্বাভাবিক। সরকারি টাকায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে কাজ না হওয়াটা দুঃখজন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান, প্রকল্পের টাকায় যথাযথভাবে কাজ না করা হয়ে থাকলে, সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত চেয়ে প্রকল্পের সভাপতি বরাবর চিঠি দেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ‘কাজ না করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নায়েব আলী জানান, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার সর্বশেষ সময় ছিল গত ৩০ জুন। তাই অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। এখন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে এমপি হোসনে আরার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

print