ইসলামপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নেই পদচারণা

73
ইসলামপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নেই পদচারণা

রোকনুজ্জামান সবুজ, জামালপুর 

জামালপুরে ইসলামপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্রেক্স ভবন নির্মিত হলেও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নেই কোন পদচারনা। ফলে প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যায়ে সুবিশাল ভবন গুলো পড়ে রয়েছে অযত্ন অবহেলায় দিন দিন ভুতুড়ে ভবনে পরিনত হয়েছে। ভাড়া দিতে পাড়ছে না মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটও।
জানা যায়,মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন স্থানীয় সরকার বিভাগ(এলজিইডি) এর অধীন প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনের সামনেই রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শনীয় ম্যুরাল। তিনতলা ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় করা হয়েছে মার্কেট। মুলত মার্কেটের ভাড়া দিয়ে ভবনের প্রাথমিক খরচ যোগান দিতে মার্কেট করা হয়েছে। এছাড়া তিন তলায় রয়েছে অফিস কক্ষ,বিশাল আকৃতির একটি কনফারেন্স রোম। অফিস কক্ষে রয়েছে উন্নত আসবাবপত্রসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা। এসব ভবন নির্মাণের পর স্থানীয় এমপি-মন্ত্রী এমনকি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীল উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেছেন। কিন্তু ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাতায়াত নেই। নেই কোন পদচারণা। মাসের পর মাস ভবন গুলো তালাবদ্ধ থাকে। মহান স্বাধীনতা বিজয় দিবসে স্বল্প সময়ের জন্য ভবন খোলা হয়ে থাকে। সে সময় গুলোতে শুধু কমপ্লেক্স ভবনে জাতীয় ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন ময়লা আবর্জনায় ডুবে থাকে। তাই অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোট টাকার ভবন মুল্যবান সম্পদ। অপরদিকে ভবনের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালটিও পরিস্কার করা হয় না। যা এ জাতির জন্য লজ্জাজনক বটে।
এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলহাজ মানিকুল ইসলাম মানিক বলেন,মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কৃপায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মান করে দিয়েছেন। কিন্ত দীর্ঘদিন যাবত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন নেই। তাই সংসদ পরিচালনার কোন কমিটি নেই। এ জন্য ভবন রক্ষনা বেক্ষনের পিয়ন নাইটগাড নের্ই। এছাড়া নির্বাচিত কমিটি ছাড়া কেউ কাউকে মানতে নারাজ। তাই কেউ কমপ্লেক্স ভবন যথাসময়ে খোলা-বন্ধ করাসহ মুল্যবান সম্পদ রক্ষণা বেক্ষণের দায়িত্ব নিতে চান না। এ জন্য মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি বন্ধ রয়েছে। তাই মুক্তি যোদ্ধাদের পদচারনা নেই,থাকলে ভবনটির প্রাণ ফিরে পেত। ভবন থাকতো পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এমন কি সাধারণত নতুন প্রজন্মের মানুষ গুলো সেখানে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারতো। তা’ছাড়া কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তি থাকলে দোকান ভাড়া হয়ে যেত। যেহেতু দায়িত্বশীল কমিটি নেই, দোকান ভাড়া কে নিবে ? আর কে দিবে,তার কোন সদ্যেত্তর না থাকায় ভাড়া হচ্ছে না বলে জানান। তিনি আরো আক্ষেপ করে বলেন,বর্তমানে প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার বয়স প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ বৎসর। অধিকাংশ মুক্তিযুদ্ধা মারা গেছেন। যে ক’জন জীবিত আছেন, তারাও হয়তো আগামী ৫ থেকে ১০বৎসরের মধ্যে বাচঁবে কিনা। আগামী ১০বৎসর পর জীবিত বীরমুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজে পাওয়া দুঃষ্কর হয়ে যাবে। তাই জীবিতবস্থা মুক্তিযোদ্ধারা এই অট্রলিকা ভবন যদি ভোগদখল এমনকি ব্যবহার করে আত্মতৃপ্তি নাই পায়, তা’হলে মৃত্যুর পর অট্রলিকা ভবন দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার লাভ কি? এমন প্রশ্ন তোলে তিনি এক পর্যায়ে কান্না জড়িত কন্ঠে আবেক আপ্লোত হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্ব প্রাপ্ত জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য,বিষয়টি জানিয়েছি।

print