ঐশ্যরিক সৌন্দর্যের আঁধার নবীগঞ্জ ফেরীঘাট

1040
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইটপাথরের নগরীতে কোলাহলমুক্ত জীবন মুক্তপরিবেশে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায় এমন স্থান খুবই কম। বিশেষ করে শহরের মধ্যে বিনোদন ও মানসিন প্রশান্তি মেলে এমন স্থান নেই বললেই চলে। শত ব্যস্ততার মাঝে হাজারো কাজের ফাঁকে মানুষ চায় একটু প্রশান্তি। মন ছুটে যেতে চায় দূর দূরান্তে। চোখ মেলে দেখতে ইচ্ছে করে প্রকৃতিকে। একটু খোলা মেলা নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও নান্দনিক পরিবেশ। নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততায় হাপিয়ে ওঠা মানুষগুলো দিন শেষে কিংবা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সুযোগ খোঁজে একটু ভিন্ন পরিবেশে পরিবারের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে। নারায়ণগঞ্জ শহরের অদূরে এমনই একটি স্থান খুঁজে পাওয়া গেছে। মানুষ বিকেল হলেই পরিবার পরিজন নিয়ে রাতে আঁধার পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে। মুক্ত বাতাসে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে। নদীর পানির কলকল শব্দে। দূরে চলে যাচ্ছে ভট ভট আওয়াজ তুলে ট্রলারগুলো। রাতের আলো আঁধারির খেলা চলতে থাকে। চাঁদনি রাতে যেন কল্পপুরিতে রূপন্তরিত হয় নবীগঞ্জ ফেরিঘাট। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এস্থানটিতে মানুষের বসার জন্য মোট ৬ টি ইটের তৈরী টেবিল বসিয়ে দিয়েছে। সুন্দর সড়ক করে দিয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছে কিছু সময় বেড়িয়ে ফির ঘরে ফিরে যাচ্ছে। কেউ কেউ তো প্রতিদিন নদীর পাড়কে নিজেদের বিকেল বেলার ঠিকানা বানিয়ে নিয়েছেন।
চাষাড়া থেকে রিকশা বা লেগুনায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটেই পৌছানো যাবে স্থানটিতে। সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের রসনা ও দৃষ্টির সুখের চাহিদা মেটাতে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে মনোরম পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটানোর জন্য সকল বয়সের মানুষ ভিড় করে এখানে। নদীর পাশেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক তৈরী করা আছে বসার স্থান। তারই আশেপাশে বিভিন্ন ফুল গাছের চারাও লাগানো রয়েছে।
নবীগঞ্জ ফেরীতে ঘুরে দেখা যায়, ঘাটের পাশ্ববর্তী বসার স্থানটি মানুষে ভড়া। ছোট ছোট শিশুরা খেলাধুলা করছে। অনেকে নদীর পানিতে পা ভিজিয়ে বসে আছে। তার একপাশে কিছু ছেলেমেয়ে একজোট হয়ে আড্ডা দিচ্ছে। অনেকে পাশ্ববর্তী দোকানে বসে খাবার খাচ্ছেন ও গল্প করছেন। আড্ডা ও গল্পের সঙ্গে উপভোগ করছেন পড়ন্ত বিকেলের মনমুগ্ধকর প্রকৃতি ও নদী পাড়ের স্নিগ্ধ বাতাস।
এ সময় কথা হয় সিরাজের সঙ্গে। সিরাজ দিনাজপুরের বাসিন্দা। প্রথমবার নারায়ণগঞ্জ ছোট খালার বাসায় বেড়াতে এসেছে। দু’দিন ঘরে থাকার পর আজ দুই খালাতো বোন ও খালার সঙ্গে নদীর পাড়ে বেড়েতে এসেছেন। সিরাজ বলেন, ‘শহরের মধ্যে এমন একটা জায়গা রয়েছে ভাবাই যায় না। দু’দিন ঘরে থেকে দমবন্ধ হয়ে আসছিল। এমন খোলামেলা জায়গায় আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
সাজ্জাদ হোসেন কর্মজীবী। বাড়ি পাঠানতলি। তার দেড় বছরের ছেলে সাকিলকে নিয়ে প্রতিদিন বিকেলে নদী পাড়ে বেড়াতে আসেন। সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বাচ্চাদের সারাক্ষণ ঘরমুখো করে রাখা উচিত নয়। আমি তাই প্রতিদিন ছেলেকে নিয়ে নদীর পাড়ে চলে আসি। ছেলেটাও অভ্যাস হয়ে গেছে। ব্যস্ততার কারণে একদিন নিয়ে আসা না হলে ছেলে আমার রাগ করে থাকে। হাজার ডাকলেও কোলে আসে না। সত্যি বলতে এখানে না আসতে পারলে আমারো ভালো লাগে না। এখানে এসে নদীর দিকে তাকালে আমার সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। ছেলের সঙ্গে সময়ও কাটানো হয়।’
রুবেল মিয় বলেন ফেরীঘাটের পাশেই বাস করেন তিনি। অবকাশের সময় ফেরীঘটে বসে বসে কফি বিক্রি করেন। ‘ছোট্টএকটা চাকরী করি আর অবকাশের সময় এখানে কফি বিক্রি করি। এখানে প্রতিদিন বিকেলে অনেক মানুষ ভিড় করে। অনেকে আবার হাটতে হাটতে এসে এখানেই বসে। ছেলেমেয়েরা আড্ডা দেয় কফি খায়। তাই আমার বিক্রি ভালো হয়। এতে আমার চলে যায়।’
নবীগঞ্জ ফেরীঘাটের পাশেই রয়েছে ছোট্ট একটি মার্কেট। যেখানে গৃহস্থলির অনেক কিছুই পাওয়া যায়। মানুষের ভিড় লক্ষ করে এখানে গড়ে ওঠেছে বিভিন্ন খাবারের দোকান। ফাস্টফুড, ফুচকা, চটপটি, চা, কফির মতো পাওয়া যায় আরো বিভিন্ন খাবার। তার পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ফেরীকরা পণ্য।
এছাড়াও ঘাটের পাশেই রয়েছে সারি সারি নৌকা। যে কেউ চাইলেই টাকার বিনিময়ে ঘন্টা অনুযায়ী নৌকা ভাড়া করে পরিবার, স্বজনদের সঙ্গে নদীর বুকে কাটাতে পারে স্মরণীয় কিছু মুহুর্ত।
print