চর সুমিলপাড়ায় মতিকে গণসংবর্ধনা

1909

নিজস্ব প্রতিবেদক
সন্ত্রাস, জঙ্গী, চাঁদাবাদ ও মাদক নির্মূলে সাহসী পদক্ষেপ গ্রহন করে পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার জন্য চর সুমিলপাড়াবাসী মতিউর রহমান মতিকে গণসংবর্ধনা দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় চর সুমিলপাড়ার পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আবু বক্করের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কালি প্রধান। এছাড়া অনুষ্ঠানে চর সুমিলপাড়া মসজিদ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজ হোসেন টিপু ও আব্দুল কাদির বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি বলেন,‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের জন্য আপনাদের কাছে দোয়া চাই। আপনাদের এলাকার উন্নয়ন দেখুন। কোন কাজ একা করা সম্ভব না। অতীতে আপনাদের এলাকায় অনেক নেতা ছিল। চেয়ারম্যান ও এমপি ছিল। কে কি কাজ করেছেন তা আপনারা জানেন।’
সাবেক চেয়ারম্যান সফর আলী ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্য করে মতি বলেন,‘সাবেক চেয়ারম্যানের হাজার হাজার কোটি টাকা আছে। এত টাকা তিনি কোথায় পেলেন? কোথা থেকে তার এত টাকা আসলো?’

তিনি বলেন, শামীম ওসমান সাধারন মানুষের জন্য রাজনীতি করেন। তিনি গরীব মানুষের জন্য রাজনীতি করেন। আমি আমার সাধ্যমত সবার জন্য করার চেষ্টা করেছি। দশ বছর আগে এই এলাকার মানুষ ৩ বেলা ঠিক মত খেতে পারতো না। খাবার জোগাড় করার জন্য তাদের চিন্তা করতে হতো। আজকে আপনাদের খাবারের চিন্তা করতে হয় না। আপনারা আজকে পাকা বাড়ি করার চিন্তা করেন। মুক্তিযুদ্ধে যখন হানাদাররা ওই আলবদরা আমাদের হামলা করেছিল তখন আমরা প্রায় ১ কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। ভারত আমাদের রাজনৈতিক বন্ধু না শুধু। ভারত আমাদের সব ধরনের বন্ধু। যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম একটি স্কুলে ভারতের জাতীয় সংগীত বাজিয়ে বোঝানো হচ্ছে বাংলাদেশে ভারতীয় জাতীয় সংগীত বাজানো হচ্ছে। কত বড় শয়তান টাইপের লোক। বোঝাচ্ছে ভারতীয় জাতীয় সংগীত বাংলাদেশে বাজানো হচ্ছে। বাংলাদেশের অনুষ্ঠানের সাথে মিলিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। এখানে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতই থাকবে। বাংলাদেশের রাজনীতিই হবে। অন্য দেশের তুলনায় আমরা ছোট রাষ্ট্র। আমরা ভারত, চীন অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে ভালোবাসা রেখে তাদের সাথে সম্পর্ক রেখে চলতে চাই। আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ভারত থেকে আসে। তবে আমরা তাদেরকে শত্রু ভাববো কেন? আমাদের নেত্রী ভারতের সাথে কোন আপোষ করে নাই। ভারত থেকে সবকিছু এনে দিয়েছে। বরং ওই খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া ভারতের সাথে চুক্তি করেছিল ক্ষমতায় যেতে পারলে তারা ভারতকে গ্যাস দেবে। ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রি করবে। তারা এদেশের ক্ষমতায় থাকাকালীন কি করেছে আপনারা সবাই জানেন। বিএনপির আমলে আমরা ঘরে থাকতে পারি নাই।
সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে কাউন্সিলর বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন ২০০৩ এর নির্বাচন। অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। তারা বলেছে আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় আসে তবে বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাবে। আপনারা আর এই মিথ্যা কথা মানুষকে খাওয়াতে পারবেন না। এই এলাকায় রাজত্ব ছিল দর্জি সেলিম নামে এক সন্ত্রাসীর। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তালিকায় সে সর্বোচ্চ সন্ত্রাসী। চর সুমিলপাড়ার কিছু লোক তার চাটুকারিতা করেছে। কিছু লোক তার গোলাম ছিল কিছু পয়সার লোভে। তবে সকলেই তার ভয়ে কাবু হয়ে থাকতেন। গিয়াস উদ্দিনের সময়ে এই এলাকায় মাদকের কারখানা ছিল। এখানে সন্ত্রাসের একটা আখড়া ছিল। আমাদের প্রাইমারি স্কুলে তিনি একটা মিটিং করলেন। স্কুল আমার বাড়ীর সিমানা থেকে ২০ ফুট। এখানে সে বক্তব্য দিয়েছিল। এই এলাকার মানুষ সন্ত্রাসী। এই এলাকার মানুষ জঙ্গীবাদী। এই এলাকার সব মানুষকে মেরে ফেলতে হবে। এই এলাকার ১০ ফিট মাটি খুদে নিতে হবে। এই এলাকা কোন মানুষ মেয়ে বিয়ে দেয় না। এই এলাকার মেয়েও অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে পারে না। তিনি কদমতলী মাঠেও এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি এলাকাবাসীকে বলেছিলেন, রাতে ১০ টার পরে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবেন না। আমি বলতে চাই আমার মা বোনেরা তাদের প্রয়োজনে রাতে ২ টার সময় যেখানে খুশি সেখানে যাবে কেউ তাদের বাধা দিতে পারবে না। গিয়াস উদ্দিন বলেন তিনি নাকি অনেক মামলা হামলার শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১০ বছরের কয়টা মামলা খাইছেন? আমার মত মতিকে আপনি গিয়াস ৩৩ টা মামলা দিয়েছেন। আপনার বিএনপির অফিসের চেয়ার টেবিল ভাইঙ্গা রাস্তায় নিয়া পোড়াইছি এই মামলা দিছেন। মোজাফ্ফর হত্যা কে করেছে? আপনি মামলা খাইছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। পরে আপনি এই মামলায় আমাকে আসামী করছেন। আল্লাহ কখনো অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেয় না। আপনি আমাকে ৭ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন। পুলিশ আমাকে একটি টাচও করে নাই। তারা বুঝতে পারছে আমি রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি। পুলিশ সুপার আমার মাথার উপর একটা ফ্যান লাগিয়ে দিয়েছে। সেই সময়ের পত্রিকায় লিখেছিল শীর্ষ সন্ত্রাসীকে জামাই আদরে রাখা হয়েছে। গিয়াস সাহেব লিখিয়েছেন শামীম ওসমান কাপুরুষ। সিংহ পুরুষ হইলো গিয়াস সাহেব।’

print