জান্নাত থেকে আসা সাদা পাথরের বিস্ময়কর তথ্য !

749
জান্নাত থেকে আসা সাদা পাথরের বিস্ময়কর তথ্য !

জান্নাত থেকে আসা সাদা পাথরের- আপনি যদি এই ধূলির ধরায় বসে দেখতে চান সরাসরি জান্নাতের কিছু, তবে জেনে রাখুন পৃথিবীতে জান্নাতের দুই পাথরের একটি ঐতিহাসিক হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর।

আরও আজব তথ্য হলো পাথরটি এখন কালো নামে পরিচিত হলেও জান্নাত থেকে আসার সময় এটি ছিল দুধের চেয়েও সাদা।

জান্নাতি এই পাথরের কিছু বিস্ময়কর তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রসহ উল্লেখ করা হলো-
১- কাবাঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে, জমিন থেকে ১.১০ মিটার উচ্চতায় হাজরে আসওয়াদ স্থাপিত। হাজরে আসওয়াদের দৈর্ঘ্য ২৫ সেন্টিমিটার ও প্রস্থ ১৭ সেন্টিমিটার।

২- আগে হাজরে আসওয়াদ এক খণ্ড ছিল, কারামাতা সম্প্রদায় ৩১৯ হিজরিতে পাথরটি উঠিয়ে নিজদের অঞ্চলে নিয়ে যায়। সে সময় পাথরটি ভেঙে ৮ টুকরো হয়ে যায়।

এ টুকরোগুলোর সবচেয়ে বড়টি খেজুরের মতো। টুকরোগুলো বর্তমানে অন্য আরেকটি পাথরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যার চারপাশে দেওয়া হয়েছে রুপার বেষ্টনী।
তাই রুপার বেষ্টনীবিশিষ্ট পাথরটি চুম্বন নয় বরং তাতে স্থাপিত হাজরে আসওয়াদের টুকরোগুলো চুম্বন বা স্পর্শ করতে পারলেই শুধু হাজরে আসওয়াদ চুম্বন বা স্পর্শ করা হয়েছে বলে ধরা হবে।

৩- ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে নেমে এসেছে। আর এর রং দুধের চেয়ে সাদা ছিল। অন্য বর্ণনায় আছে, বরফের চেয়েও সাদা ছিল।

পরে আদম সন্তানের পাপ তাকে কালো করে দেয়।’ (তিরমিজি : ৮৭৭; ইবনে খুযাইমা : ৪/২৮২)।
৪- অপর এক হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রুকন (হাজরে আসওয়াদ) ও মাকামে ইবরাহিম পাথর দু-খানি জান্নাতের ইয়াকুত পাথরগুলোর মধ্য থেকে দুটি পাথর, আল্লাহ যেগুলোকে আলোহীন করে দিয়েছেন।

যদি তিনি এসবকে আলোহীন না করে দিতেন, তবে তা পূর্ব-পশ্চিমকে আলোকিত করে দিত।’ (তিরমিজি : ৮৭৮; মুসনাদ আহমদ : ২/২১৩; ইবনে খুযাইমা : ২৭৩১)।

৫- ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় ওই দুটির (হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানি) কে স্পর্শ করার দ্বারা গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (নাসাঈ : ৫/২২১)।
৬- ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে বলেন, ‘আল্লাহর কসম, হাজরে আসওয়াদকে আল্লাহ কেয়ামতের দিন পুনরুত্থান করবেন।

তার থাকবে দুটি চোখ যা দিয়ে সে দেখবে, আর থাকবে একটি জিহ্বা, যা দিয়ে সে কথা বলবে। যে তাকে চুম্বন বা স্পর্শ করবে, তার পক্ষে সে কেয়ামতের দিন সাক্ষী দেবে।’ (আহমদ : ১/২৬৬)।

print