ডেমরা নারায়ণগঞ্জে জলাবদ্ধতার দায় নেবে কে?

1243

বিশেষ প্রতিনিধি

করোনা ভাইরাসের তীব্রতার মধ্যেই রাজধানী ঢাকা ডেমরা নারায়ণগঞ্জ (ডিএনডি) এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এক রাতের বৃষ্টিতে সাধারন মানুষের বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ন সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও কোমর পানি কোথাও হাটু পানি। নাগরিকদের দুর্ভোগের বর্ননা দিয়ে শেষ করা যাবে না। তবে এ জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগের দায় নেবে কে? পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক, সংসদ সদস্য কেউ কি দায় স্বীকার করবেন? প্রকল্প ব্যয় ৫৫৮ কোটি টাকা নির্ধারন করা হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৭৫০ কোটি টাকার বেশি নির্ধারন করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগর এলাকায় ডিএনডি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যত টাকা লাগে এই প্রকল্প সম্পন্ন করতে তা করা হবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পের কাজ চলবে।’ তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ডিএনডি হবে ঢাকার চেয়ে আধুনিক শহর। এটা আমার স্বপ্ন, এটা আমাদের স্বপ্ন।’ ‘এই প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীকে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। কাজ শেষ করতে দুই বছর মেয়াদ দেওয়া হলেও তারা কথা দিয়েছে তার আগেই কাজ শেষ হবে।’‘এই প্রকল্প কাজে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সহায়তা প্রয়োজন।’ ‘দুই সিটি করপোরেশনকে সহায়তা করতে আমি প্রস্তুত।’ এ প্রকল্পের বাইরে ফতুল্লা অঞ্চলের রাস্তাঘাট করার জন্য আরও ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছেন বলেও জানান শামীম ওসমান।

জলাবদ্ধতার বিষয়ে বাংলা নিউজ বলেছে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ডিএনডি এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ডুবেছে পথঘাট ও ঘরবাড়ি। বেশিরভাগ ঘরেই প্রবেশ করেছে বৃষ্টির পানি এবং অনেক সড়কে হাঁটু পানি ভেঙে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল থেকে ঢাকা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় ডিএনডি এলাকায়। এ ছাড়া জালকুড়ি এলাকার কিছু স্থানে প্রায় কোমর পানি ভেঙে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ।

জালকুড়ি এলাকার বাসিন্দা আফজল আলী বাংলানিউজকে জানান, সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে ডুবেছে ঘর-রাস্তা সবেই। বৃষ্টিতে আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। এবার বৃষ্টির পানিতে আমাদের ডুবতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় আমাদের পানির সঙ্গেই মানিতে চলতে হচ্ছে। পানি সঙ্গে মানানো যায়, কিন্তু পানির সঙ্গে আসা ময়লা-আবর্জনা ও বিভিন্ন পোকামাকড় নিয়ে পড়তে হয় সমস্যায়। পানির কারণে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ভয়ে থাকতে হয়।
একই অভিযোগ করে ডিএনডি এলাকার বাসিন্দারা। তারা দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। এ অবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তির আকুল আবেদন জানান ডিএনডি এলাকার বাসিন্দারা।

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক, মার্কেট ও বসবাসের বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। এতে পানি প্রবেশ করেছে মার্কেটের দোকানে ও বাসা বাড়ির অভ্যন্তরেও। সরেজমিনে শহরের জামতলা ও চাষাঢ়া সমবায় মার্কেটে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

এতে দেখা যায়, সমবায় মার্কেটে পানি প্রবেশ করায় দোকানিরা মার্কেট খুলে দোকানের ভেতরের পানি বাইরে বের করতে চেষ্টা করছেন। একই অবস্থা বাসাবাড়ির ক্ষেত্রেও। সেখানেও ঘরে ঘরে পানি প্রবেশ করায় তারা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এর অধ্যে অনেক সড়কে হাঁটু পানি জমেছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া এলাকাও পানিতে তলিয়েছে।
চাষাঢ়া সমবায় মার্কেট পরিচালনা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম জানান, পানি মার্কেটে প্রবেশ করে অনেক দোকানেই ডুকেছে। এটি তো আমাদের করার কিছু নেই। সিটি করপোরেশন পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবে।

জামতলা এলাকার বাসিন্দা করিমুল মিয়া জানান, পানিতে ঘরে একেবারেই খারাপ অবস্থা। ঘরেই পানি। এ পানি কিভাবে সরাবো সেটাই ভেবে পাচ্ছিনা। ঘরের আসবাবপত্র ও যা ছিল সবকিছুই পানিতেই আছে।

এ বিষয়ে জানতে ডিএনডি প্রকল্পের মেজর মাহতাব, সাংসদ শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে কেউ কল রিসিভ করেন নি। খুদে বার্তার জবাবও দেন নি।

print