ঢাকা-০৫ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গন সংযোগ

2596

ডেমরা প্রতিনিধি

ঢাকা-৫ আসন ডেমরা-যাত্রাবাড়ী থানা নিয়ে গঠিত।আসন্ন জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনের রেখে এবার এ আসনে আওয়ামী লীগের  পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা  নানা কৌশলে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মহল্লায়, ওয়ার্ডে ও চায়ের দোকানেও এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।আলোচনা-সমালোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে যে বিগত দিনে এলাকার উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রার্থীদের যোগ্যতা।মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে। খোঁজ নিচ্ছেন সাধারণ মানুষের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও চলছে তাদের প্রচার।

জানা যায়, ঢাকা-৫ (ডেমরা-যাত্রাবাড়ী) আসনের বর্তমান সাংসদ আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মোল্যা বয়সের ভারে ন্যুব্জ।তার পরও তিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।এছাড়াও এ আসনে আওয়ামীলীগের আরও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন,বিশিষ্ট শিল্পপতি, বৃহ্ত্তর ডেমরা থানা ও ডেমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ও আমুলিয়া মডেল টাউনের চেয়ারম্যান হাজী আতিকুর রহমান (আতিক), যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মনিরুল ইসলাম মনু, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ মুন্না, ডেমরা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাড. রফিকুল ইসলাম খান মাসুদ, সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্যা’র ছেলে ও ডেমরা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল।

তবে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন,রয়েছেন,বৃহ্ত্তর ডেমরা থানা ও ডেমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ও ডেমরা থানার বতমান সিনিয়র ভাইস  প্রেসিডেন্ট  আলহাজ্ব মো:আতিকুর রহমান(আতিক)।আশির দশক থেকে তার রাজনৈতিক গোড়াপত্তন শুরু হলে ও ৯৬ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এলাকায় তার ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা রয়েছে।দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডের কারণেও তিনি মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন।এ ছাড়া বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরতে নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি, পথসভা, মতবিনিময়, গণসংযোগ এবং রাজনৈতিক-সামাজিক অনুষ্ঠানেও যোগ দিচ্ছেন তিনি।প্রতিটি নির্বাচনে তিনি দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।তাই এ আসনের স্থানীয় সরকারের বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধিও চান তিনি মনোনয়ন পাক।

ডেমরার বাসিন্দা আফতাব আহমেদ  পলাশ  জানান, হাজী আতিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন।জনগণের খোঁজখবরও নিয়মিত রাখেন।তার নেতৃত্বেইে আমাদের পিছিয়ে পড়া ডেমরা থানা আওয়ামীলীগের কার্যক্রম অনেকটা গতিশীলতা পেয়েছে্।এমপি না হয়েও তিনি ডেমরা-যাত্রাবাড়ী তথা ঢাকা-৫ আসনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নানান ভাবে ভূমিকা রাখছেন এবং বিভিন্ন ভাবে আমাদের এলাকার অনেক বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টি করছেন।অসংখ্যা মসজিদ-মাদ্রাসা,মন্দির ও স্কুল-কলেজ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করেছেন।

শিক্ষানুরাগী আতিকুর রহমান আমেরিকার নিউইয়ক সিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করে তার মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে ডেমরার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছেন।শুধু তাই নয় ডেমরা থানাকে একটি মডেল থানা হিসেবে পরিনত করতে তিনি নিউইয়ক এর লাগুরদিয়া কমিউনিটি কলেজ থেকে ডিপ্লোমা ইন রিয়েল এসেস্ট ডিগ্রি লাভ করেন।

মনোনয়নের ব্যাপারে আতিকুর রহমান আতিক বলেন,ডেমরার একমাত্র একক প্রার্থী  আমি।বাকি সবাই যাত্রবাড়ী থানার,যেহেতু আমি ডেমরার গর্বিত সন্তান তাই এই আসনটি আমিই একমাত্র পাওয়ার উপযুক্ত।জনগন আমাকে ভালোবসে তাই আমি জনগনের সাথে মিশে আছি।আমার জনপ্রিয়তার কারনে এলাকাবাসী আমাকে আপন করে নিয়েছে।গনতন্ত্রের মানসকন্যা খ্যাত ও বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকেই নেীকার টিকেট দিবে এবং নেীকার বিজয়ের মালা নিয়ে আমার নেত্রীর হাতে ফুলের তোড়া উঠিয়ে দেবো।তিনি এই প্রতিবেদককে আর ও বলেন,জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার পিতার নামে ২০১৩ সালে হাজী এম এ গফুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় উপহার দিযেছেন।শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য আমার নিজস্ব অর্থাযনে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি এবং আমার নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির প্রস্তাবনা চলছে এছাড়া ও একটি মেডিকেল কলেজ তৈরি করার ইচ্ছা আছে।আমার নেতা ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সাধারন সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের হাত ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিনকে আ,লীগের দূঘ্য হিসেবে তৈরি করেছি।এ সরকারে আমলে সারাদেশের যতটা উন্নয়ন,শিক্ষার হার বৃদ্ধি,বেকারত্ব দূর  হয়েছে অন্য সরকারে আমলে তা হয়নি।তাই আওয়ামীলীগ সরকারকে আবারো ও দেশের উন্নয়নের স্বার্থে ক্ষমতায় আনতে হবে।

আর এর মধ্যে হারুনুর রশীদ মুন্না,অ্যাড. রফিকুল ইসলাম খান মাসুদ,আলহাজ্ব মনিরুল ইসলাম মনু এর আগেও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন।এবার তারা সবাই মনোনয়নে আশাবাদী।তারা এলাকায় নিয়মিত কাজ করে চলছেন।যাত্রাবাড়ীতে খোজ নিয়ে দেখা গেল,হারুনুর রশিদ মুন্না ও কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লা আসন্ন নির্বাচনী গন-সংযোগে ব্যস্ত।নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি পাড়া ও মহল্লায় নির্বাচনী প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এ থানার একাধিক প্রার্থী্।যাত্রাবাড়ী থানার আ,লীগ নেতা অপূব তালুকদার জানান,যেহেতু এ আসনে দলীয় একাধিক প্রার্থী তাই দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই কাজ করবো।

কিন্ত শেষ পর্যন্ত বিচক্ষণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ,শিক্ষাবিস্তারের অগ্রগামী ও দলীয় ক্লিন ইমেজের কারণে হাজী আতিকুর রহমান আতিককের পক্ষেই মনোনয়ন চমক থাকবে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

 

print