তল্লায় ৭০ বছরের বৃদ্ধা রহিমাকে মারধর

37
তল্লায় ৭০ বছরের বৃদ্ধা রহিমাকে মারধর

প্রশাসনের নজরদারী প্রয়োজন

বসতবাড়ি জবর দখলের চেষ্টা লাভলী গং
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন তল্লা সুপারিবাগ এলাকায় ৭০ বছরের বৃদ্ধা রহিমা বেগম এর শেষ সম্বল বসতবাড়ি লাভলী গং-দের জবর দখলের চেষ্টা। দফায় দফায় গ্রাম্য শালিস বসলেও লাভলী শালিসীগনদের বৃদ্ধা আঙ্গুলী দেখিয়ে তার প্রভাব খাঁটিয়ে বৃদ্ধা রহিমার বাড়িটি জবর দখল করার জন্য মড়িয়া হয়ে ওঠেপরে লেগেছেন লাভলী গং-রা।
১২ অক্টোবর সোমবার বেলা ১০টায় জোরপূর্বক ঘরের দেয়াল ভেঙ্গে ঘরের ভিতরে থাকা আসবাবপত্র বাহিরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ওই বাড়ি-ঘর জবর দখলের চেষ্টা করা হয়।
জানা যায়, ওয়ারিশ সূত্রে ও ক্রয়মূলে বৃদ্ধা রহিমা ১.১৪ শতাংশ জমির উপর ৪টি ঘর বিশিষ্ট বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। বিগত কয়েকমাস পূর্বে লাভলী মালিকানা দাবি করে ওই জমিতে নির্মাণকৃত চারটি ঘরের মধ্যে দুইটি ঘর বেদখল করে নিয়ে যায়। বাকি দুইটি ঘরের মধ্যে একটি ঘরে বৃদ্ধ রহিমা জীবনের শেষ দিনগুলো অতিবাহিত করে আসছে। অন্য একটি ঘরে এতিম বালক অপু তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করছে। অপুর স্ত্রীর প্রসব জনিত কারণে তার ঘরটি তালাবদ্ধ করে খালার বাসায় যান। এ সুযোগে সোমবার সকাল ১১ টায় মৃত রমিজ উদ্দিন সরদার এর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী কবির হোসেন(৪০) ও তার স্ত্রী লাভলী(৩০ তাদের সঙ্গীয় দলবল নিয়ে বৃদ্ধা রহিমাকে ঘর হতে বের হয়ে যাবার হুমকি দেয়। রহিমা বেগম ঘর থেকে বের না হতে চাইলে বৃদ্ধা রহিমাকে লভলী ও তার স্বামী চুলে ধরে টেনে হেঁচরে বের করে এবং এলোপাতারি কিলঘুষি মেরে নীলা ফুলা জখম করে। তাকে বের করার পর তার ঘরের আসবাবপত্র বাহিরে ছুঁড়ে ফেলে সেই সাথে অপুর ঘরের দেয়াল ভেঙ্গে জোর পূর্বক দরজা লাগাবার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে খবর পেয়ে বৃদ্ধা রহিমার ছেলে বিপ্লব ও তার স্ত্রী রেহেনা খাতুন ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সাথে মারমুখী আচরণ করে লাভলী। সেই সাথে লাভলী সহ তার সঙ্গীয়রা মিলে সবাইকে প্রাণনাশের হুমকী দেয়। পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে আইনী ভাবে হয়রানি করার হুমকী প্রদান করে। এমনকি আইনের আশ্রয় নিলেও তোরা আমাদের কিছুই করতে পারবি না বলে অপক্ষমতার বড়াই দেখায় লাভলী গং-রা।
বৃদ্ধা রহিমা তার ছেলেসহ পরিবারের জীবন রক্ষা নিয়ে চিন্তিত। তারা নিরুপায় হয়ে ফতুল্লা মডেল থানা একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব পান এস আই আরিফ তালুকদার। ঘটনার প্রসঙ্গে এস আই আরিফ তালুকদারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি থানার বাহিরে কর্তব্যরত কাজে ব্যস্ত থাকায় বাদি হেলেনা খাতুন আমাকে বিষয়টি অবগত করেছেন। আমি অভিযোগটি হাতে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাবো এবং আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বাদি হেলেনা খাতুন বলেন, আমাদের এই বসতবাড়িটি পূর্ব পুরুষের ওয়ারিশকৃত সম্পত্তি। আমাদের পারিবারিক বিরোধ মিটাতে সম্প্রতি স্থানীয় গ্রাম্য প্রতিনিধি ইউসুফ মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালী মাহমুদ খান, যুবলীগ নেতা বিপ্লব এক আপোস মিমাংসা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ লাভলী অর্থাৎ আমার জাঁ ও দেবর কবির হোসেন বিচারকদের সেই নির্দেশনা অমান্য করে এই জঘন্য ঘটনা ঘটায়। আমরা তাদের এরুপ অন্যায় আচরণের উপযুক্ত বিচার চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট। পুলিশ প্রশাসন প্রকৃত ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে আমাদেরকে ন্যায় বিচার করবেন বলে আমরা আশাবাদি।

print