দশমিনায় এসএসসির ফরম পূরনে অতিরিক্ত টাকা আদায়

27
পটুয়াখালী
পটুয়াখালী

দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেরায় এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে নামে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছেন শিক্ষার্থী এবং অবিভাবকদের মাঝে।

অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ফলে করোনাকালীন সময় বিপাকে পড়েছেন অনেক অভিভাবক । জানা যায়, দশমিনা উপজেলায় মোট ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ চলছে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কেন্দ্র ফি সহ ১৯৫০ টাকা এবং মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য ১৮৫০ টাকা ফিস নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

কিন্তু সিংহভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৭শ টাকা থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের অভিযোগ করেছেন। করোনাকালীন সময় ফরম পূরণের অতিরিক্ত টাকা দাবি করায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। সিকদারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, এসএসসির ফরম পূরণে তাদের প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়।

উপজেলা সদরের এস.এ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এসএসসির ফরম পূরণে তাদের প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। তবে এ অনিয়মের প্রতিবাদ করার কেউ সাহস পায় না। এস এ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার মোফাজ্জেলের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা কোন ক্লাস করোনার কারণে করতে পারেনি । অথচ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের চাপ সৃষ্টি করে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা উত্তোলন করে আসছে। একই অভিযোগ উপজেলার আউলিয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় সিংহভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

শিক্ষকদের হেনস্থার ভয়ে নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক অভিভাবক অভিযোগ করে জানান, করোনাকালীন সময়ে তার রোজগার কমে গেছে । সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। বাধ্য হয়ে তাকে ধার দেনা করে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সন্তানের এসএসসির ফরম পূরণ করতে হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, করোনাকালীন দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কোন ছাড় দেয়া হচ্ছে না ।

এস এ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ কাওসার আলম জানান, কোন অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয় না । আমি অভিযোগকারী ছাড়া কোন কথা বলবো না । ডিসি,ইউএনও আমার স্কুলে আসবে তারপর কথা বলবো বলে উত্তেজিত হয়ে তিনি ফোন কেটে দেন। অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম মিয়া জানান, এসএসসির ফরম পূরণে একটু অতিরিক্ত টাকা নেয় । আমি তাদেরকে রসিদ দিয়ে টাকা নেয়ার কথা বলেছি।

print