দশমিনায় ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের লঞ্চ আবিস্কার

45
দশমিনায় ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের লঞ্চ আবিস্কার
দশমিনায় ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের লঞ্চ আবিস্কার

নাসির আহমেদ, দশমিনা (পটুয়াখালী)

জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার চার ক্ষুদে শিক্ষার্থী মিলে তৈরি করেছেন চারতলা বিশিষ্ট চালকবিহীন লঞ্চ। আর লঞ্চটি দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় জমেছে।

উৎসুক জনতা এই লঞ্চ দেখে ৪ ক্ষুদে বিজ্ঞানীদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দু’জন ও চরহোসনাবাদ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার দু’জন শিক্ষার্থী মিলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালবেসে গত ১৫ দিন আগে একটি লঞ্চ তৈরির উদ্যোগ নেন।

ছোটদের ছোট স্বপ্ন আর অর্থ সংকট হওয়ায় তাদের পক্ষে বাস্তবের লঞ্চ তৈরি সম্ভব নয়। তাই তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে উপবৃত্তির ও টিফিনের জমানো টাকা দিয়ে একটি চালকবিহীন এমভি বঙ্গবন্ধু ১১নামে লঞ্চ তৈরির উদ্যোগ নেন। স্কুল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যমে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির মোঃ বরকত হোসেন আজমি, মোঃ রনি আহম্মেদ ও চরহোসনাবাদ সিনিয়র মাদ্রাসার দাখিল ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী লিওন এবং লিমন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ফোম দিয়ে চালকবিহীন একটি লঞ্চ তৈরি করেন।

লঞ্চটি ব্যাটারিতে চলবে পানিতে। নিয়ন্ত্রণ করবে রিমোট। দরকার হবে না কোনো চালকের। রয়েছে বাহারি রঙের বাতি। শিক্ষার্থীদের তৈরি লঞ্চটি উপজেলার নলখোলা বন্দরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস সংলগ্ন পুকুরে প্রদর্শন করা হয়। বঙ্গবন্ধু ১১ লঞ্চটি প্রদর্শনের সময় পুকুরের দুই পাড়ে উৎসুক জনতার ভিড় লেগে যায়।

ক্ষুদে আবিস্কারকদের সাধুবাদ জানিয়েছেন লঞ্চটি দেখতে আসা জনতা। বেল্লাল হোসেন ও সফিক জানান, ছোটদের তৈরি লঞ্চ দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছেন। এদের কাছে প্রকৃত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও ভালোবাসা ফুটে উঠেছে। লঞ্চটি নির্মাণকারী মোঃ বরকত হোসেন আজমি, মোঃ রনি আহম্মেদ, লিওন ও লিমন জানান, তারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে লঞ্চটি তৈরি করেছেন।

তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লঞ্চটি উপহার দিতে চান। দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাউদ্দিন সৈকত জানান, আমি আমার শিক্ষার্থীদের আবিস্কারে অত্যন্ত খুশি। তারা আরও নতুন কিছু তৈরি করতে চাইলে আমি তাদের সহযোগিতা করব।

print