দশমিনায় নদী ভাঙন ও সিডরের ক্ষত এখনও যায়নি

49
দশমিনায় নদী ভাঙন ও সিডরের ক্ষত এখনও যায়নি

নাসির আহমেদ, দশমিনা (পটুয়াখালী) 
ভয়াল সিডরের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকার জনজীবন এখনও স্বাভাবিক হয়ে উঠেনি। প্রাকৃতিক দূর্যোগের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকাটা যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিনত হয়ে গেছে। উপজেলার মূল ভূ-খন্ড ছাড়াও দূর্গম চরাঞ্চলে এখনও নতুন করে বনাঞ্চল তৈরি করার পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকায় বিধ্বস্ত বেরিবাঁধ পুনঃ নির্মান এবং পর্যাপ্ত পরিমান ঘূর্নিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মান করা হয়নি। ফলে সিডরের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত উপজেলার অধিকাংশ এলাকা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
প্রাকৃতিক দূর্যোগ সুপার সাইক্লোন সিডর, আইলা, বুলবুল, আম্ফানের তান্ডবের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই আরেকটি দূর্যোগ এসে হাজির হয়। প্রতি বছর ঝড়-বন্যা হলেও উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মান করা হচ্ছে না। ফলে অরক্ষিত বেরিবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে ব্যাপক ফসলহানীর সাথে জনজীবন স্থবির হয়ে যায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু জমিতে চাষাবাদ করতে না পেরে অনাবাদি থেকে যায়। উপজেলা বন বিভাগ নতুন করে কোন বনাঞ্চল তেরি করতে পারেনি। দূর্যোগ মন্ত্রনালয় এলাকায় নতুন কোন ঘুর্নিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মান করতে পারেনি।
এদিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওলিউজ্জামান জানান, উপকূলের ভাঙন কবলিত এলাকায় বাঁধ নির্মান করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মান করা যায়নি। ফলে উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা আজও মাথা উচু করে দাড়াতে পারছে না।

print