দশমিনায় পঁচা বর্জ্যে স্থানীয়দের ভোগান্তি

29
দশমিনায় পঁচা বর্জ্যে স্থানীয়দের ভোগান্তি

নাসির আহমেদ, দশমিনা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা সদর নলখোলা বাজার এলাকার ব্রিজের দুই পারের যেখানে সেখানে পঁচা বর্জ্য ফেলে রাখায় বায়ু ও পানি দূষণ ঘটছে নিয়মিত। পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলের পথ দূর্গন্ধময় অভিযোগ স্থানীয় পথচারীদের।

ভুক্তভোগীদের মতে, উপজেলা সদর বাজার এলাকায় ২০১০-১১অর্থ বছরে এলজিইডি বৃষ্টির পানি অপসারণের জন্য সড়কের দু’পাশে ১ফুট প্রস্থ ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে। নির্মাণের বছরে ওইসব ড্রেনের ঢাকনা ভেঙে যায়, ময়লা আবর্জনা জমে ড্রেন থেকে দূর্গন্ধ বেড়াতে থাকে।

পরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মালিকরা নিজেদের সামনের ড্রেন নিজেরাই কংক্রিট ঢালাই দিয়ে ভড়াট করে নেয়। একই সাথে বাজার মধ্যে ডাস্টবিন না থাকায় বীজ সংলগ্ন দিয়ে পঁচা বর্জ্য খালের পাড়ে ফেলতে থাকে। নলখোলা বন্দর-দশমিনা বন্দর মধ্যের ব্রীজ, দশমিনা সদর রোড-নলখোলা স্ট্যান্ড মধ্যের ব্রীজ ও দশমিনা বাজার-চরহোসনাবাদ বাজার ব্রীজের উভয় পাশে খালে পঁচা বর্জ্য ফেলে খালের গতিপথ বাঁধাগ্রস্থ করছে। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সংলগ্নে রাস্তার পাশে ও নয়নাভিরাম খননকৃত পুকুরে নিয়মিত পঁচা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।

উপজেলা সদরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোঃ ওয়াজেদ হোসেন’র অভিযোগ, তাদের ভবনের পাশে শখ করে মৎস্য চাষের জন্য রাখা পুকুর ময়লা-আবর্জনা ফেলে দূর্গন্ধময় মশক উৎপাদনের আখরা বানিয়ে ফেলেছে। সদর রোডের হিমেল মেডিকেল হলের মালিক মোঃ মজনু ঢালী জানায়, ১৯৮৩ সালে দশমিনা উপজেলা গঠনের পর থেকে অপরিকল্পিত নগরায়ণ হচ্ছে। শহর এলাকায় ময়লা আবর্জনা অপসারণের ব্যবস্থা না থাকা ও বসতিদের অসচেতনতা কারণে দীর্ঘদিনের জমানো বর্জ্য বর্ষার পানিতে পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পরে। এ সময় নাকে কাপড় দিয়ে কিংবা নিশ্বাস বন্ধ না করে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া একেবারে অসম্ভব। এছাড়াও শিশু-কিশোরসহ সকল বয়সী বসতিরা এ সময় নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি ফয়েজ আহমেদ বলেন, মাছ বাজার, কাচাঁ বাজার, মৎস্য আড়ৎসহ মাছ বাজার ও ফল পট্রির পঁচা বর্জ্য ফেলে রাখায় বায়ু ও পানি দূষণ করছে নিয়মিত উপজেলা শহরে।

এই বিষয় উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বনিক সমিতির সভাপতি এ্যাড. ইকবাল মাহমুদ লিটন বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণে পর্যাপ্ত বাজেট না হলে পরিচ্ছন্ন দশমিনা কল্পনা করা যাবেনা। আর এ উপজেলা সদর পৌরসভা ঘোষণার কাজ চলছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল আমিন বলেন, আগামী উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি আলোচনায় রাখবো। এছাড়াও উপজেলা শহরের বিশেষ বিশেষ জায়গায় ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও করোনাভাইরাস-বিষয়ক সচেতনতামূলক মাইকিং ও জীবাণুনাশক স্প্রে করা হবে।

print