দশমিনায় সংস্কারের অভাবে ডাকঘরের বেহাল দশা

36
দশমিনায় সংস্কারের অভাবে ডাকঘরের বেহাল দশা

নাসির আহমেদ, দশমিনা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর দশমিনায় উপজেলা ডাকঘরটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বেহালদশায় পরিনত হয়েছে। এক সময় অনেকেরই যাতায়াত ছিল এই ডাকঘরে। স্বজন, প্রিয়জন কিংবা পরিচিতজনের চিঠি পেতে আর হাসি কান্নার খবরের অপেক্ষায় আবেগ নিয়ে বসে থাকতে হত এই ডাকঘরে।

আগে ঠিঠি পাঠানো, পোস্টকার্ড, বুকপোস্ট, মানিঅর্ডার, টেলিগ্রাফ বার্তা, সঞ্চয় স্কিম পরিচালনা করতো ডাকঘর। অথচ এই ডাকঘরগুলো বর্তমানে সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। তেমনি একটি জরাজীর্ণ বেহাল দশার ডাকঘরটি। এখনো সকরারি ও আধাসরকারি পত্রাদি আদানপ্রদান, মোবাইল ব্যাংকিং, গুচ্ছ এসএমএস প্রদান ও প্রেসের কাজ কাজ করা হচ্ছে বলে জানায় পিওন হুমায়ুন কবির ও মেইল-ফ্যাক্স অপারেটর আনোয়ার হোসেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অফিসের চার পাশের বাউন্ডারি ওয়াল সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। অফিসটির প্রধান গেটটি ভাঙ্গা। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভবনটির গায়ে শ্যাওলা ও ছাদে গুল্ম জাতীয় বৃক্ষ বেড়ে উঠছে। অফিসের ভিতরে গিয়ে ভবনটির জীর্ণদশা দেখলে যে কেউ আতকে উঠবে। ছাদের কোনো স্থানে পলেস্তার নেই বললেই চলে। ভিতর থেকে ছাদের দিকে তাকালে মরিচা ধরা লোহার রডগুলো চোখে পড়ে। পোষ্ট মাষ্টারের আবাসিক বাসভবন যেন গোয়াল ঘর। বর্তমানে বৃষ্টির সময়ে ভবনটির সমস্ত স্থানজুরে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এর ভিতর ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে অফিসিয়াল কাজ-কর্ম চালাচ্ছে এখানকার কর্মকর্তা কর্মচারীরা। যেকোনো মুহুর্তে ভবনটি ধসে ঘটতে পারে প্রাণহানিসহ বড় কোনো দুর্ঘটনা।

উপজেলা ডাকঘর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ঘোষণার পর ১৯৮৩ সালে দশমিনায় প্রায় ২০শতাংশ জমির ওপর ডাকঘর ভবনটি নির্মিত হয়। এর পর থেকে এই ভবনেই চলে অফিসের কার্যক্রম। অফিস কার্যক্রম চালুর পরে আর সংস্কার করা হয়নি ডাঘরের ভবনটি। বর্তমানে ডাকঘরের অফিস ভবনের অবস্থা বেশ নাজুক। ভবনটি দ্রুত সংস্কার করা খুব জরুরী।

এ ব্যাপারে দশমিনা ডাকঘর মাস্টার মাহাবুবুল আলম জানান, অনেক দিন ধরে দশমিনা ডাকঘর ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আর এর মধ্যেও আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছি। ভবনটি সংস্কারের জন্য পোষ্ট অফিসের উর্ধতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানালেও এখন পর্যন্ত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

print