দশমিনায় সর্ববৃহৎ বীজ বর্ধন খামারটি গ্রাস করছে সর্বনাশা তেঁতুলিয়া

48
দশমিনায় সর্ববৃহৎ বীজ বর্ধন খামারটি গ্রাস করছে সর্বনাশা তেঁতুলিয়া

*প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন হারিয়ে যেতে বসেছে

নাসির আহমেদ, দশমিনা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরবাঁশবাড়িয়ায় গড়ে উঠা দেশের সর্ববৃহৎ বীজ বর্ধন খামারটি তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে। চরের চারদিকে সুরক্ষিত বেড়িবাঁধ নির্মান না করার কারনে নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের এই বীজ বর্ধন খামারটি হারিয়ে যেতে বসেছে। খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমের মধ্যেই খামারের অধিকাংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে দশমিনা উপজেলা চর বাঁশবাড়িয়া , চর হায়দার এবং চর ভুথামের ১ হাজার ৪৪ দশমিক ৩৬ একর জমি অধিগ্রহন করে দেশের সর্ববৃহৎ বীজ বর্ধন খামারের কার্যক্রম শুরু হয়। বীজ বর্ধন খামারের জন্য প্রায় ৫ হাজার একর জমি অধিগ্রহনের প্রস্তাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ উক্ত বীজ বর্ধন খামারটি উদ্বোধন করেন। বর্তমানে বীজ বর্ধন খামারের অধীনে ৬ শত একর জমি রয়েছে। বাকী ৪ শত ৪৪ দশমিক ৩৬ একর জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে বীজ বর্ধন খামারে ৪ শত ২০ একর জমিতে বিভিন্ন উন্নত জাতের ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বীজ বর্ধন খামার উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিনাংশে তেতুলিয়া নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে। ইতিমধ্যে তেতুলিয়ার ভাঙনের কারনে বীজ বর্ধন খামারে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্মিত ডাক বাংলো, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অর্ধ শতাধিক বাসা বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে মসজিদ, গোডাউন,অফিস ভবন ও নব নির্মিত বায়োগ্যাস প্লান্টটি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
বীজ বর্ধন খামারের বিভিন্ন অংশে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় মসজিদ, গোডাউন, বীজ বর্ধন খামারের অফিস ভবন ও নব নির্মিত বায়ো গ্যাস প্লান্ট। বীজ বর্ধন খামার অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ নভেম্বর জিওবির অর্থায়নে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বায়ো গ্যাস প্লান্টটি খামার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বীজ বর্ধন খামারের কর্তৃপক্ষ জানায়, নদী ভাঙনের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। এই ভাবে চলতে থাকলে এশিয়ার সর্ব বৃহৎ বীজ বর্ধন খামার খ্যাত দশমিনা উপজেলায় এ গুরুত্বপূর্ন প্রকল্পটি অচিরেই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

print