নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ’র ১নং খেয়াঘাটে নদী খননের নামে রমরমা বানিজ্য

87
নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ’র ১নং খেয়াঘাটে নদী খননের নামে রমরমা বানিজ্য

নারায়ণগঞ্জ অফিস

ঘুষের হাট নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ। জাহাঙ্গীর কোটিপতি সিবিএ নেতাগিরিতেই। দুর্নীতির সুযোগ থাকায় পদন্নোতিতেও আগ্রহ নেই তার। অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক মাঠে থাকলেও অর্থের বিনিময়ে সে ম্যানেজ করছে সাংবাদিক ও দুদক কর্মকর্তাদের। জাহাঙ্গীর অল্প সময়ের মধ্যে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। তার সাথে জড়িত রয়েছে পোর্ট অফিসার ও অন্যান্য কর্মকর্তাগন। এছাড়াও জড়িত রয়েছে স্থানীয় দালালগন। নদী খননের নামে চলছে রমরমা বানিজ্য। চেয়ারম্যানের চোখে ধুলো দিয়ে বহু স্পটে চলছে অরাজকতা। নদী খননের খরচ সরকার বহন করলেও মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নেয়া হয় দৈনিক লাখ টাকা। দীর্ঘ ৩ মাস ধরে চলছে মাটি বিক্রির মহোৎসব। ট্রাক ও ট্রলারে ভরে মাটি বিক্রি করা হয়। মূলত ওয়াকওয়ে নির্মানের টেন্ডার নেয়া হলেও ঠিকাদার কোন কাজ করছে না। বরং জাহাঙ্গীর উভয় পক্ষ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়।

জানা গেছে, দীর্ঘ ৩ মাস ধরে নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ’র ১ নং খেয়াঘাট এলাকায় নদী খননের নামে রমরমা ব্যবসা চালানো হচ্ছে। ব্যবসায় বৈধতা দিচ্ছেন পোর্ট অফিসার মাসুদ কামাল। তিনি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ব্যক্তিকে মাটি কাটাসহ বিভিন্ন ধরনের কাজের অর্ডার দিচ্ছেন। সেই অর্ডারের নামে চলে অরাজকতা। তিনি ছাড়াও এ কাজের সাথে জড়িত রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ পোর্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা। সবকিছুর মূলে রয়েছেন সিবিএ ভাইস-চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর।

যেসব এলাকায় মাটিকাটা হচ্ছে:

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের ১ নং খেয়াঘাট, ময়মনসিং পল্লী, কুমুদিনী বাগান, ড্রেজার গোডাউন।

সরকারি খরচ বহন:

নদীতীরে ওয়াকওয়ে নির্মান ও নদী খননের জন্য সরকার সকল খরচ বহন করছে। সেই খরচ তারা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। বরং নদীর মাটি বিক্রি করে দৈনিক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। সরকার দৈনিক ভেকু খরচ দেয় ৪ হাজার টাকা ও স্টাফ খরচ দেয় দেড় হাজার টাকা।

মাটি বিক্রি:

বিভিন্ন অর্ডারের মাধ্যমে দৈনিক ১০০ ট্রাক মাটি বিক্রি করা হয়। ট্রাক প্রতি মাটির মূল্য আদায় করা হয় ৫০০ টাকা করে। এছাড়াও দৈনিক ৩০ টি ট্রলার মাটি বিক্রি করা হয়। প্রতি ট্রলার মাটির মূল্য ১১ হাজার টাকা।

অপরাধে জড়িত যারা:

এ অপরাধ ও দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছে সিবিএ ভাইস-চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর, আমলাপাড়ার খসরু, খসরুর ভাই টমাস, খানপুরের রফিক, কাউন্সিলর দুলাল, আমলাপাড়ার বিএনপি নেতা জনি, বন্দরের টোটন, মার্ক টাওয়ারের আলী, বন্দরের রফিক, খান মাসুদের বন্ধু মাসুম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিবিএ নেতা জাহাঙ্গীর বলেন, কে কি লিখছে তা আমি জানি না। স্থানীয় পত্রিকা আমি পড়ি না। যা কিছু করছেন পোর্ট অফিসার করছেন। আমি কিছুই জানি না। পোর্ট অফিসার অসুস্থ রয়েছেন।

মাটি বিক্রি করে টাকা একত্রিত করে দৈনিক সন্ধ্যার পর নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ’র ভিআইপি রুমে ভাগাভাগি করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে টাকা দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এমন অরাজকতা চললেও ব্যবস্থা নেয় নি কেউ। বিভিন্ন গনমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও সেগুলো আমলে নেয় নি কতৃপক্ষ। এ নিয়ে ধীরে ধীরে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সরকারের ভাবমুর্ত্তি ক্ষুন্ন হবে। তাছাড়া ঘটতে পারে সহিংসতা।

print