নাসিক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে শ্মশানে তালা দেয়া অভিযোগ

49
নাসিক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে শ্মশানে তালা দেয়া অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সেক্রেটারী দুলাল প্রধান ও বাহিনীর বিরুদ্ধে শ্মশানের লোকজন ও গেটে তালা ঝুলানোর হুমকির অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দেয়া হয়। এর আগে শ্মশানের জায়গা দলখ ও রাস্তা ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছিল কাউন্সিলর দুলালের বিরুদ্ধে। এতে দুলাল সহ তার অনুগামীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

২৭ ডিসেম্বর বন্দর মহাশ্মশান ও শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মন্দিরের সেবায়েত দিপংকর সাহা নয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবর এই অভিযোগ দেন।

বন্দর মহাশ্মশান ও শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মন্দিরের সেবায়েত দিপংকর সাহা নয়ন অভিযোগে বলেন, বন্দর মহাশ্মশান ও শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মন্দিরের সিটি করপোরেশন কর্তৃক চলমান উন্নয়নের পাশাপাশি বর্তমান সংকট নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ২০ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর ৬ দফা দাবিতে একটি আবেদন করি। উক্ত আবেদনের ৩ নং দাবীতে শ্মশান সংলগ্ন সরকারি হালটে স্থানীয় ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর দুলাল প্রধান কর্তৃক নির্মিত আধাপাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও উক্ত স্থাপনায় যেতে শ্মশানের জায়গার উপর দিয়ে যাতায়াতের জন্য যে রাস্তা ব্যবহার হচ্ছে তা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী থাকায় ও পরে ২১ ও ২২ ডিসেম্বর স্থানীয় গণমাধ্যমে তা প্রকাশিত হলে কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সেক্রেটারী দুলাল প্রধান উত্তেজিত হয়ে বন্দর মহাশ্মশান ও কালী মন্দিরের পুরোহিত নান্টু চক্রবর্তী হতে আমার ফোন নম্বর নিয়ে ফোন করে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হুমকি স্বরুপ আমাকে বলে যে, আপনি অভিযোগ দেয়ার কে? ‘আপনারা সম্মানীত ব্যক্তি এমন কিছু কইরেন না যাতে আপনারা সম্মান হারান’- এ কথা বললে আমি ফোন রেখে দেই। একই দিনে বিবাদী কাউন্সিলর দুলালের নির্দেশে ২ নং বিবাদী মো. ফয়সালের নেতৃত্বে ৪-৫ জন সহ উক্ত শ্মশান ও কালী মন্দিরে প্রবেশ করে মন্দিরের পুরোহিত নান্টু চক্রবর্তীকে ডেনে অশোভন ভাব ভঙ্গিতে বলে যে, নয়ন কে পাঁচ মিনিটের মধ্যে এখানে হাজির হতে হবে নতুবা মন্দিরের পুরোহিতদের বের করে মন্দিরে তালা ঝুলিয়ে দিবে বলে তাকে হুমকি প্রদান করে। এ ঘটনায় আমি ও মন্দিরের পুরোহিতগণ বিবাদীদের ভয়ে নানাবিদ বিপদের আশংকায় চরম আতংক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছি। বিবাদীরা অত্যন্ত ধুরন্দর ও দুষ্ট প্রকৃতির হওয়ায় আমাদের কখন কি করে ফেলে তা বলা যায়না। অতএব, মহোদয়ের সমীপে বিনীত প্রার্থনা এই যে, স্থানীয় কাউন্সিলর দুলাল প্রধানের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও তার বিরুদ্ধে উপরোক্ত বিষয়ে তদন্ত পূর্বক আশু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, মন্দির ও আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিতে মহোদয়ের সুমর্জি হয়।

জানাগেছে, গত ২০,২৯ ডিসেম্বর দুলাল প্রধানের বিরুদ্ধে অবৈধ স্থাপনা ও শ্মশানের জায়গায় রাস্তা ব্যবহার বন্ধ সহ ৬ দাবিতে সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয় বন্দর মহাশ্মশান ও শ্রীশ্রী শ্মশান কালী মন্দিরের সেবায়েত দিপংকর সাহা নয়ন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে হুমকি আসতে শুরু করেছে বলে জানাগেছে।

print