পত্নীতলায় জাতি পরিবর্তন করে জমি বিক্রির অভিযোগ প্রতিপক্ষের

43
পত্নীতলায় জাতি পরিবর্তন করে জমি বিক্রির অভিযোগ প্রতিপক্ষের

সোহেল চৌধুরী রানা, সাপাহার (নওগাঁ)

নওগাঁর পত্নীতলায় ‘আদিবাসী’ জাতি পরিবর্তন করে সাঞ্চরিয়া নামে একব্যক্তির বিরুদ্ধে জমি বিক্রির অভিযোগ তুলেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। উপজেলার নির্মইল ইউনিয়নাধীন গুরখী গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

ভোক্তভোগী পত্নীতলা উপজেলার গুরখী গ্রামের আব্দুল জব্বার ওরফে রিয়াজুলের ছেলে মাহবুর জানান, উপজেলার কোয়ারন গ্রামের মৃত ভিকারী উরাও এর ছেলে শ্রী ছোট সাঞ্চরিয়া উরাও গুরখী গ্রামে বসবাস করা কালে জাতি আদিবাসী (সাঁওতাল) সম্প্রদায়ের হওয়া সত্ত্বেও জাতি হিন্দু সম্প্রদায়ের ‘সরদার’ পদবী উল্লেখ করে ২৩ জুলাই ১৯৭৯ সালে গুরখী মৌজাস্থ ১৩৬ নং আরএস খতিয়ান ভুক্ত ৫৩ শতক জমি জেলার ধামইরহাট উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মৃত শফিউদ্দীনের ছেলে মোঃ আকবর আলী বরাবর ৯৭৮২ নং রেজিষ্ট্রিকৃত দলিল মূলে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে আকবর আলী তাঁর ক্রয়কৃত জমি ভোগদখলে থাকা অবস্থায় ৩০ মার্চ ১৯৮১ সালে গুরখী গ্রামের আব্দুল জব্বার ওরফে রিয়াজুলের কাছে ৪১০২ নং রেজিষ্ট্রিকৃত দলিল মূলে বিক্রি করে দেন। আব্দুল জব্বার ওরফে রিয়াজুল ওই জমি কেনার পর থেকে বিভিন্ন চাষাবাদ সহ প্রায় চার দশকের অধিক সময় ধরে ভোগদখলে আছেন। বর্তমানে ওই সম্পত্তিতে বেশকিছু আম গাছও রোপন করে ভোগ দখলে আছেন রিয়াজুল।

অপরদিকে প্রায় চার দশক পর আকবর আলী মারা গেলে কিছু কুচক্রী মহলের ইন্ধনে ওই জমি বিক্রেতা বর্তমানে কোয়ারন গ্রামে বসবাসকারী সাঞ্চরিয়া ‘সরদার’ পদবীর স্থলে ‘উরাও’ পদবী নিয়ে প্রথম দলিল গ্রহীতা আকবর আলী’র ওয়ারিশ হিসেবে ছেলে মোঃ সোবহান আলীকে প্রতিপক্ষ উল্লেখ করে ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনে মোকাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর আদালত নওগাঁ বরাবর ১৯৭৯ সালের ২৩ জুলাই সম্পাদিত ৯৭৮২ নম্বর দলিল বাতিলের প্রার্থনা করেন। বিজ্ঞ আদালত গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ সালে সাঞ্চরিয়া উরাও এর আবেদন মঞ্জুর করে তাঁর পক্ষে একটি রায় দেন। আদালতে রায় পেয়ে সাঞ্চারিয়া উরাও দ্বিতীয় দলিল গ্রহিতা রিয়াজুল কে ওই জমির দখল ছেড়ে দিতে বলেন। এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যেরর সৃস্টি হয় বলেও জানান তিনি।

দ্বিতীয় দলিল গ্রহীতা রিয়াজুলের ছেলে মাহবুর আরও জানান, আমার বাবা জমিটা প্রায় ৪০ চল্লিশ বছর আগে কিনেছে, এরপর থেকেই আমরা ওই জমি ভোগ দখল করে আসছি। সাঞ্চরিয়া উরাও এর হঠৎ করে জমির দখল ছেড়ে দিতে বলায় আমরা বিপাকে পড়ে যাই, উপায় উপায়ান্তর না পেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে বিজ্ঞ আইনজীবী দ্বারা মোকামতলা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, নওগাঁ, বরাবর একটি মামলা দায়ের করি এবং সেই সাথে তর্কিত ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাজশাহী অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার রাজস্ব আদালত বরাবর একটি আপেল মামলা দায়ের করি। যা বর্তমানে চলমান আছে।

এবিষয়ে সানচারিয়া সরদার ওরফে সাঞ্চরিয়া উরাও এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, জমিটা আমি বিক্রি করেছিলাম অনেক বছর আগে, কিন্তু আদিবাসী আইন অনুযায়ী তাঁরা জমিটা নেননি, যেকারনে আদালতে মামলা করি, এবং রায়ও পেয়েছি। যদি তাঁরা আদালত থেকে এই রায় বাতিল করে তাদের পক্ষে রায় পান তাহলে ওই জমিতে আমার কোন দাবী থাকবেনা।

স্থানীয়রা বলেন, উক্ত জমি সাঞ্চরিয়া উরাও এর হলেও প্রায় চল্লিশ বছর আগে তৎকালীন বাজার মূল্যে ন্যায্য দাম দিয়ে কিনেছে ভোক্তভোগীরা, তাই বিষয়টি মানবিক দিক বিবেচনান্তে স্থানীয় ভাবে সমাধানের লক্ষে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিৎ বলে জানান তারা।

print