পাটমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় রূপগঞ্জ যুব মহিলা লীগ

175
পাটমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় রূপগঞ্জ যুব মহিলা লীগ

নারায়ণগঞ্জ অফিস

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী বীর প্রতীক গোলাম দস্তগীর গাজীর পদত্যাগ চায় তার নির্বাচিত আসনের রূপগঞ্জ যুব মহিলা লীগের সক্রিয় নেত্রী ইভা মনি। তিনি নিয়মিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে রূপগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও সুশীল মহলে মন্ত্রী বিরোধী গোষ্ঠী তৈরী হয়েছে। এরমধ্যে বালুমহল, ভূমিদখল, পরিবারতান্ত্রিকতা, আওয়ামী লীগের নিবেদিত নেতাদের হটানো প্রধান কারন বলে স্থানীয়দের অভিমত রয়েছে।

পাটমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় রূপগঞ্জ যুব মহিলা লীগ

ইভা মনির বক্তব্য

রূপগঞ্জ উপজেলার খাদুন, মৌকুলী, রূপসী, পোনাবোর শতশত বসতবাড়ী শতশত বিঘা ফসলী জমি মহাজন জোর করে দখল করেছে। সেখানে গাজী নগর, গাজী ক্রিকেট একাডেমী, আধুনিক হাসপাতাল সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। পূর্বাচল স্যাটেলাইট শহরের ৬ কাঠার প্লটগুলোকে ৪ কাঠায় রূপান্তর করে ৩০ বিঘার বেশি জমি নিজের নামে করে নিয়েছেন মন্ত্রী। গাজী বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানির বিশাল অঙ্কের টাকা খেয়ে জমি দখল ও বালি ভরাটের সুযোগ করে দিচ্ছেন। ফলে স্থানীয় পূর্বপুরুষদের আবাসভূমি ও সম্পদ হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ছে হাজার হাজার বাসিন্দা। তিনি যদি বালি ভরাট বন্ধ করতে না পারেন তবে তিনি করুক। ওনার মতো মন্ত্রী দরকার নেই। যে মন্ত্রী জনগনের সম্পদ লুট করে।

পাটমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় রূপগঞ্জ যুব মহিলা লীগ

বালুমহাল ও ভূমিদস্যুতা

রূপগঞ্জ এখন সোনার খনি। পূর্বাচল উপশহর গড়ে ওঠার পর থেকে এ উপজেলায় আবাসন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব বেড়ে যায়। জমি দখল করে বালি ভরাট করতে স্থানীয় সাংসদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের গোপন সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। ভূমিদস্যুতা ও বালু ভরাট করে যারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম রূপসীর বালু হাবিব। স্থানীয়দের মতে, সে বর্তমানে কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক। সুদীর্ঘ দাড়ি, দেখতে সুদর্শন, মেদবিহীন হাবিব রাতের আধাঁরে সাধারন মানুষের উপর নির্যাতন চালানোর বর্বরতা বর্ণনাতীত। অনেকের মতে বালি ভরাটের কারনে রাতের বেলা একমান শিশু সন্তান নিয়ে মা বাড়ির টিনের চালে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। এমন আরো বহু গল্প শুনতে পাওয়া যায় রূপসী, গোলাকান্দাইল, মুড়াপাড়া এলাকায় ভ্রমন করলে। তবে সে সব গল্পের কোন প্রমান নেই।

পাটমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় রূপগঞ্জ যুব মহিলা লীগ

পরিবারতান্ত্রিকতা
মন্ত্রী গাজী যখন প্রথম রূপগঞ্জে আসেন তখন অনেকে তাকে কোথাও কথা বলার সুযোগ দেয় নি। একটি মহল তার কাছ থেকে রাতের বেলা পয়সা নিলেও দিনের বেলা এড়িয়ে চলতো। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে খেতাবধারী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সান্নিধ্য পেয়েছেন বিধায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাগন তাকে খুবই সম্মান করতে থাকেন। ধীরে ধীরে তাকে সকলেই গ্রহন করে নেয়। এমনকি তার নেতৃত্বের সুনাম রূপগঞ্জ ছাড়িয়ে নারায়ণগঞ্জ শহর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। বছর কয়েক যেতে না যেতেই তার পুত্র গোলাম মুর্তজা পাপ্পাকে নিয়ে দলের মধ্যে কোন্দল শুরু হয়। এরপর তার স্ত্রী হাসিনা গাজীকে পৌরসভা মেয়র বানানোর সিদ্ধান্ত নিলে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এর ফলস্রুতিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোলাম দস্তগীর আওয়ামী লীগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এ সুযোগের রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান (বসুন্ধরার কর্ণধার আব্দুস সোবহানের আস্থাভাজন) রফিকুল ইসলাম (রূপগঞ্জে তিনি আন্ডা রফিক নামে ব্যাপক পরিচিত) নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে নেমে পড়েন। এরপর একে একে বেশ কয়েকজন প্রত্যাশী মাঠে নেমে পড়েন। ফলে মন্ত্রী গাজীর মনোনয়ন পাওয়া একেবারে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তখন গাজীর শিবিরে নিরাশার ছায়া দেখা গেছে। বহুদিনের কাছের মানুষগুলোকেও দূরে সরে যেতে দেখা গেছে। তবে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা পুরোনোদের সুযোগ দেয়ার কারনে তিনিসহ সারা অনেকেই মনোনয়ন পান যাদের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পাওয়ার কোন সম্ভাবনাই দেখা যায় নি। অনিশ্চয়তা থেকে পরিবারতান্ত্রিকতা এখন ক্ষোভে পরিনত হয়েছে।

পাটমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় রূপগঞ্জ যুব মহিলা লীগ

আওয়ামী লীগের নিবেদীত নেতাদের হটানো
রূপগঞ্জের কিংবদন্তী আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহজাহান ভূঁইয়া। তিনিই রূপগঞ্জে মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ভূঁইয়াই গাজীর প্রধান বিরোধী। শাহজাহান রূপসী পৌরসভার মেয়র হতে চেয়েছিলেন। তার সে স্বপ্ন অন্ধকারেই থেকে গেছে। বরং নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময়ে তাকে ঘরবন্দীও থাকতে হয়েছে। তার আদর্শ ধারনকারীরা নিয়মিতই পদপদবী বঞ্চিত থাকছেন বিভিন্ন সময়ে। এছাড়াও এ কয়েক বছরের আরও বেশ কয়েকটি মতবাদের আওয়ামী লীগ নেতাদের বঞ্চিত করার কারনে মন্ত্রী বিরোধী একটি মতের সৃষ্টি হয়েছে।

পাটমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় রূপগঞ্জ যুব মহিলা লীগ
print