পুরানো ঢাকায় আইজিপি’র নামে চাঁদা উত্তোলনকারী সোর্সকে নিয়ে বিতর্কিত হচ্ছে যুগান্তর

60
পুরানো ঢাকায় আইজিপি’র নামে চাঁদা উত্তোলনকারী সোর্সকে নিয়ে বিতর্কিত হচ্ছে যুগান্তর

তৌহিদুর রহমান

পুরানো ঢাকার কোতয়ালী, বংশাল ও চকবাজার থানা এলাকার আলোচিত সেই পুলিশের লাইনম্যান ও সাবেক আইজিপি’র নামে চাঁদা উত্তোলনকারী সোর্স মেহেদীকে নিয়ে বিতর্কিত হচ্ছে দৈনিক যুগান্তর। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সে এসব এলাকার একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও পুলিশের লাইনম্যান এবং চাঞ্চল্যকর মামলার জেলখাটা আসামী।

তার বিরুদ্ধে ডিএমপি ও জেলার বিভিন্ন থানায় বিস্তর মামলা ও জিডি রয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, মহাপরিচালক (র‌্যাব), ঢাকার পুলিশ কমিশনার সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে রয়েছে অর্ধশতাধিক অভিযোগ। এছাড়া ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে অদ্য পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৩২টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রাইমারী শিক্ষায় স্বল্প শিক্ষিত এই মেহেদী দেশের প্রথম শ্রেণির সংবাদপত্রগুলোতেও চরম সমালোচিত হয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে প্রমান মিলেছে, জাতীয় পরিচয় পত্র অনুসারে তার নাম কুদ্দুস মাঝি, সে পিরোজপুর জেলার সদর থানার কালিকাঠি গ্রামের মৃত ইছাক মাঝির দ্বিতীয় পুত্র। তার মায়ের নাম জহুরা বেগম। সে নিজ এলাকায় ভাঙ্গারী কুদ্দুস নামে পরিচিত। তবে মেহেদী হাসান তার ছদ্ম নাম।

এই ছদ্ম নামধারী মেহেদী বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি ড.জাবেদ পাটোওয়ারীর নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা তোলার দায়ে কোতয়ালী থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে যায়। এ মামলায় বেশ কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে অপকৌশলে বহুল প্রচারিত, পাঠক নন্দিত, জনপ্রিয় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ফটো সাংবাদিক পদে ঢুকে পড়ে।

এ ঘটনায় হাজার-হাজার কোটি টাকা মূল্যমানের পত্রিকাটি নিয়ে পাঠক ও সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ওই চাঁদাবাজীর ঘটনায় ৩০ মে ২০১৮, দৈনিক যুগান্তরে চাঁদাবাজ মেহেদীসহ তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের বিরুদ্ধে ‘লালবাগে ১১ পুলিশের নামে চাঁদা আদায়, আইজিপি’র নামেও চাঁদা, প্রতিবাদ করলেই নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এরপর কোতয়ালী থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে ৪ জুন ২০১৮, মনির নামক এক ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী মেহেদীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী মামলা করে। থানার ওই মামলা নং-১১। ওই সময়ে ডিএমপি’র লালবাগ বিভাগের অনেক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে তার গভীর সখ্যতা থাকলেও শেষ রক্ষা পায়নি।

পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে থানা পুলিশ তাকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। এ ঘটনার পূর্বে দৈনিক সোনালী খরব পত্রিকায় ১৩ ও ২১ ডিসেম্বর ২০১৭, ওই চক্রের ৩ হোতা মেহেদী হাসান কুদ্দুস, ছোট ভাই ইউনুস মাঝি ওরফে সোহেল হাওলাদার ও ভাগ্নে সালাম বেপারীর ছবিসহ ২টি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যার ফলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে স্ব-দলবলে ২২ ডিসেম্বর ২০১৭, ওই প্রতিবেদকের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

ওই সময় তাকে গুরুত্বর আহত করে মোবাইল, মানিব্যাগ ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই সাংবাদিক কোতয়ালী থানায় মেহেদীসহ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। থানার ওই মামলা নং-২৬। এছাড়া ভয়ংকর চাঁদাবাজ মেহেদী বাহিনীর বিরুদ্ধে অসংখ্য জিডি’র মধ্যে যেগুলোর সন্ধান মিলেছে তা হলো কোতয়ালী থানার ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখের জিডি নম্বর ৩৭২ এবং একই থানায় চাঁদাবাজীর অভিযোগে ২ অক্টোবর ২০২০, জিডি নম্বর ৮০ এবং ২৪ অক্টোবর ২০২০, জিডি নম্বর ১১৭৭।

ঢাকা জেলার দক্ষিন কেরাণীগঞ্জ থানার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখের জিডি নম্বর ৬৪৫, একই থানার ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখের জিডি নম্বর ১০৪৯, এবং ১১ জুলাই ২০১৮ তারিখের জিডি নম্বর ৫০৩, ৩ মার্চ ২০২০ তারিখের জিডি নম্বর ১২২। ছদ্ম নামধারী এই দুর্ষধর্ষ্য চাঁদাবাজ মেহেদী চক্রের ভয়ংকর অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ে ইতিপূর্বে দৈনিক কালের কন্ঠ, যুগান্তর, নয়াদিগন্ত, আজ-কালের খবরসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তাদের ছবিসহ ৩২টি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সুচতুর এই মেহেদী পূর্বে পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে যেসব অবৈধ স্পট ও প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় করত, সে দেড় বছর ধরে ওই সব জায়গায় দৈনিক যুগান্তর এর পরিচয়ে দাপট দেখিয়ে দ্বিগুন চাঁদা আদায় করছে।

এছাড়া যুগান্তরের সাংবাদিক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে বাবু বাজার ব্রিজের নিচে বিশাল জায়গা জোরপূর্বক দখল করে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিম্ন মানের ভেজাল ও নকল পণ্যের বাজারসহ ১৪টি টং দোকান বসিয়ে প্রতি দোকানদার থেকে দৈনিক ৩ শত টাকা করে চাঁদা তুলছে।

অপরদিকে বড় ট্রাক ও কন্টেইনার পার্কিং করিয়ে প্রতিবারে ৬শত টাকা থেকে ২ হাজার পর্যন্ত আদায় করছে। এসব চাঁদা গৌতম, জসিম, সজল ও সোহেল কে দিয়ে তুলছে অপরদিকে সে ২ সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে ওই মাজারের উত্তর পার্শ্বে ব্রীজের নিচে আরো একটি জায়গা জোরপূর্বক দখল করে প্রতি শুক্রবার ভোরে ৩শ থেকে ৪শ বিভিন্ন পন্যের দোকান বসিয়ে পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতি দোকানদার থেকে ৫শ থেকে ১হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নিচ্ছে।

এভাবে সে দৈনিক যুগান্তরের সুনাম ক্ষুন্ন করে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ হাজার এবং শুক্রবারের ভোরের বাজার থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ডিএমপি’র লালবাগ ও ওয়ারি বিভাগের অধিকাংশ পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ, ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট ও টিআই তার চাঁদাবাজীর স্বীকার হচ্ছে।

আবার কারো-কারো সাথে বাকবিতন্ডে জড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি নয়াবাজার ট্রাফিক পুলিশ বক্সের ইনচার্জ টিআই মঞ্জু, বাবু বাজার পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ এসআই রাজীব ও বংশাল ফাঁড়ীর সাবেক ইনচার্জ নুরে আলম, কোতয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নাজমুল, বংশাল থানার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইমরান হোসেন জন, ৩৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি জাবেল হোসেন পাপন, বাবু বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাকির হোসেন রনিসহ অনেক ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মেহেদীর মত একজন অশিক্ষিত-অদক্ষ, একাধিকবার জেল খাটুয়া চিহ্নিত আসামী ও পুলিশের লাইনম্যান বহুল প্রচারিত ও পাঠক প্রিয়, দৈনিক যুগান্তর এর ফটো সাংবাদিক পরিচয় বহন করায় তীব্র সমালোচনাসহ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

print