প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই নির্বাচনে জেলা ক্রীড়া সংস্থা

1054

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি নেই তবুও হচ্ছে নির্বাচন। তবে এ নির্বাচন কাকে দেখানোর জন্য। কার স্বার্থে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ নির্বাচন। সরকারে কত টাকা খরচ হলো এ নির্বাচনে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে আলোচিত মদের সাপ্লাইয়ার তানভির আহমেদ টিটুকে ফের সাধারন সম্পাদক বানানো হয়েছে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জুড়ে সমালোচনার অন্ত নেই। তবে তাতে কার কি আসে যায়। নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য তারা সবই করতে পারে। তাদের সাথে সমসুরে তাল মিলিয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কার্যকরী কমিটি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে রয়েছেন এমন দু’জন স্থান পেয়েছেন কমিটিতে। এ ছাড়া কমিটিতে রাখা হয়েছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত খুনের মামলার চার্জশিটভুক্ত এক আসামিকে। এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে নারায়ণগঞ্জের ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে।

চার বছর মেয়াদি (২০১৯-২০২৩) ৩১ সদস্যের ওই কমিটির নাম মঙ্গলবার ঘোষণা করেন ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন কমিশনার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা। কমিটিতে পদাধিকার বলে সভাপতি জেলা প্রশাসক, সহসভাপতি পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক মনোনীত একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। এ ছাড়া পদাধিকার বলে জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সদস্য মনোনীত হন। বাকি ২৭টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এ বছর ওই ২৭টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবাই মনোনীত হয়েছেন।

নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা হলেন- সহসভাপতি কেইউ আকসির, খবির আহমেদ, এজেডএম ইসমাইল বাবুল, ফারুক বিন ইউসুফ পাপ্পু, সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস, যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম নাসির, মোস্তফা কাউছার, কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, কার্যকরী সদস্য খন্দকার শাহ্‌ আলম, জাকির হোসেন শাহীন, রবিউল হোসেন, গোলাম গাউস, মাকসুদুল আলম, জাহাঙ্গীর আলম, মাহমুদা শরীফ, মো. আসলাম, মাহবুবুল হক উজ্জ্বল, ফিরোজ মাহমুদ শামা, আতাউর রহমান মিলন, ডা. রকিবুল ইসলাম শ্যামল, মাহবুব হোসেন বিজন, গৌতম কুমার সাহা, কার্যকরী পরিষদ উপজেলা সদস্য সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, এসএম আরিফ মিহির, মহিলা সদস্য আঞ্জুমান আরা আকসির ও রোকসানা খবির।

কমিটির সহসভাপতি খবির উদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রী একই কমিটির সদস্য রোখসানা খবির দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তারা কীভাবে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম নাসির তাদের স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া কমিটিতে সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করা হয়নি। যে কারণে ফিরোজ মাহমুদ শামা নামে খুনের মামলার এক আসামি কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন। তিনি ছাত্রলীগ নেতা মিঠু হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। অথচ অনেক প্রকৃত ক্রীড়া সংগঠককে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি।

আবদুর রহিম ডালিম নামে একজন ক্রীড়া সংগঠক বলেন, কমিটির সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু কমিটি করার ক্ষেত্রে চরম স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন। তিনি কমিটিতে তার পছন্দের লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অথচ প্রকৃত অনেক ক্রীড়া সংগঠককে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না কমিটিতে আসতে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিস সেক্রেটারি আবদুল করিম বলেন, কুরিয়ারের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত খবির উদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রী রোকসানা খবিরের স্বাক্ষর আনা হয়েছে। আর ফিরোজ মাহমুদ শামা চন্দ্রা স্পোর্টিং ক্লাবের কাউন্সিলর। ওই ক্লাব থেকে তার নাম পাঠানো হয়েছে। এ কারণে তাকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। তবে শামা খুনের মামলার আসামি কিনা, সেটা তিনি জানেন না বলে জানান।

আবদুল করিম আরও বলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার মোট ৬২ জন কাউন্সিলর। এর মধ্যে ২৬টি ক্লাব থেকে ২৬ জন, উপজেলা থেকে ৫ জন, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে ৩ জন, জেলা প্রশাসকের মনোনীত ৫ জনসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কাউন্সিলর মনোনীত করা হয়। সেখান থেকে বাছাই করে ২৭ জনকে নির্বাচিত করা হয়। এ বছর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের কমিটিতে সদস্য পদে ৪টি পরিবর্তন এসেছে বলেও তিনি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে বার বার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার ফোনে এসএমএস পাঠানো হলেও তিনি এর কোনো জবাব দেননি।

দু’জনের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর জালের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম নাসির। তিনিও দাবি করেন কুরিয়ারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দু’জনের স্বাক্ষর আনা হয়েছে। আর ফিরোজ মাহমুদ শামা সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত নন যে শামা খুনের মামলার আসামি কি-না? তবে বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন।

যে কমিটিতে পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক সভাপতি এবং পুলিশ সুপার সহসভাপতি সেই কমিটিতে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার আগে যাচাই-বাছাইয়ের নিয়ম রয়েছে কি-না জানতে চাইলে খোরসেদ আলম নাসির বলেন, অবশ্যই এ ধরনের নিয়ম রয়েছে। তবে সেটি যথাযথভাবে মানা হয়নি বলেই হয়তো শামা কমিটিতে স্থান পেয়েছে। আমরা এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনে তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে অন্তর্ভুক্ত করব। এ ধরনের প্রবিধান গঠনতন্ত্রে রয়েছে।

print