প্রবীণ সাংবাদিকের ঘাড় মটকে দিতে চাইলেন ওসি আসলাম

1099

খাদিজা আক্তার ভাবনা, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে এক প্রবীণ সাংবাদিকের সাথে অশোভন আচরনের অভিযোগ উঠেছে। ২৭ মার্চ শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার ভেতরেই ফতুল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল ইসলাম নুরুর সাথে এমন অশোভন আচরন করেন ওসি আসলাম হোসেন ও অপারেশন তারিকুল আলম জুয়েল। অশোভন আচরনের শিকার সাংবাদিক নুরুল ইসলাম নুরু জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে থানার ভেতরে প্রবেশ করার সাথে সাথেই অপারেশন তারিকুল আলম জুয়েল ধমকের সুরে বলেন, আপনি কোথায় যাবেন। থানার ভিতরে কেন আসছেন। তখন নুরুল ইসলাম নুরু ওয়াস রুমে যাওয়ার কথা জানালে তিনি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বলেন, এটা ওয়াস রুমে যাওয়ার জায়গা না। এসময় ওসি আসলাম অপারেশন তারিকুল আলম জুয়েল পাশেই দাড়িয়ে ছিলেন। সাংবাদিক নরুল ইসলাম নুরু ওসি আসলাম হোসেনকে বললেন, ভাই আপনি তো আমাকে চিনে আপনার সামনে তারিকুল সাহেব এ ধরেনে ব্যবহার করতেছে। আপনি কিছু বলেন। আমরা সাংবাদিকরা থানায় তথ্য সংগ্রহরের জন্য আসি। তখন ওসি আসলাম হোসেন অপারেশনের এমন আচরনের প্রতিবাদ না করেই নিজেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তিনি প্রবীন সাংবাদিক নুরুল ইসলাম নুরুকে বলেন, আপনি কিসের বালের সাংবাদিক। আপনার ঘাড় মটকে ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে দিবো। আপনি এসপির সামনে আমার বিরুদ্ধে কথা বলেন। আপনি কত বড় সাংবাদিক। আপনাকে আমি এ থানায় থাকলে দেখায় দিবো। আজকে থেকে এ থানার ভেতরে আপনার আশা সম্পূর্ন নিষেধ। এমন অশোভন আচরনে ফতুল্লার সাংবাদিক সমাজে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে যদি ওসি আসলাম হোসেন অপসারন না হয় তাহলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারী উচ্চারন করেন তারা। উল্লেখ্য গত ১৫ মার্চ ফতুল্লা মডেল থানায় অনুষ্ঠিত ওপেন হাউস ডে তে বক্তব্য রাখেন প্রবীন সাংবাদিক নরুল ইসলাম নুরু। তার বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন সাংবাদিক পুলিশ একে অপরের পরিপুরক। কিন্তু এ থানা তার ব্যতিক্রম। ওপেন হাউস ডের নামে চলে ফতুল্লা মডেল থানায় চলে গোপন হাউস ডে। ওসি আসলাম হোসেনে বিরুদ্ধে এমন বক্তব্য দেয়াতে তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে এমন অশোভন আচরন করেছেন বলে জানান নুরুল ইসলাম নুরু।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন বাংলা সংবাদকে বলেন, তিনি থানার পাশে বসে জিডি লিখে মানুষের কাছ থেকে টাকা গ্রহন করেন। দিনের মধ্যে বহুবার থানার শৌচাগার ব্যবহার করেন। থানার পরিদর্শক অপারেশন জাহিদুর তাকে নিষেধ করলে তার সাথে বাক বিতন্ডায় জড়ায়। আমি জানতে পারলে তাকে বাজে ব্যবহার করতে নিষেধ করি। সে প্রায়ই পুলিশের বিরুদ্ধে কথা বলে। ওপেন হাইজ ডে তেও সে আমার সামনে আজে বাজে কথা বলেছে। তাই তাকে থানার শৌচাগার ব্যবহারে নিষেধ করা হয়েছে।

print