ফতুল্লায় বাড়ি হজম করতে দু’টি হত্যাকান্ড!

65
ফতুল্লায় বাড়ি হজম করতে দু’টি হত্যাকান্ড!

নারায়ণগঞ্জ অফিস

নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা মডেল থানার গাবতলী এলাকায় একটি বাড়ি ও কোটি টাকা হজম করতে পরিকল্পিত হত্যা কান্ড ঘটিয়েছে কুলাঙ্গার মুন্না ও স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার কামরুল হাসান।

খোজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনের পাশে লোহার মার্কেটের পুরাতন লোহা লক্কর ব্যাবসায়ী নুর ইসলাম ও তার স্ত্রী সালেহা বেগম জিবনে কঠর পরিশ্রম করে গাবতলী এলাকায় স্বামী স্ত্রী উভয়ের নামে ৪ শতাংশ ৪০ পয়েন্ট জমি ক্রয় করে দোতলা ভবন নির্মান করে বসবাস করে আসছিলেন।

নিজেদের সন্তান না হওয়ায় সালেহা বেগমের ছোট ভাই শাহ আলমের বড় ছেলে মুন্নাকে লালন পালন করেন। সুযোগ বুঝে মুন্না জন্মদাতা পিতাকে অস্বীকার করে অন্যের সম্পত্তি গ্রাস করতে লালন পালন কারি নুর ইসলামকে পিতা ও ফুফু সালেহা বেগমকে মাতা বানিয়ে মিথ্যা তথ্যা দিয়ে জন্মসনদ ও জাতিয় পরিচয় পত্র করে নেন।

পরে তার নজর পরে সম্পত্তির উপর। সম্পত্তি গ্রাস করতে স্বরনাপন্ন হয় এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদের গাবতলী এলাকার মেম্বার কামরুল হাসানের। কামরুল হাসানের শলা পরামর্শে গত ১১ আগষ্ট ১৮ ইং তারিখে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে সালেহা বেগমকে। ভাই বোনদের লাশ না দেখিয়ে তরিঘরি করে লাশ দাফন করে মাসদাইর গোরস্থানে।

পরে একই কায়দায় গত ১১ ডিসেম্বর ২০ ইং তারিখে নুর ইসলামকে হত্যা করে তরিঘরি করে লাশ দাফন করে। পরবর্ততে মেম্বার কামরুল হাসানের প্রত্যক্ষ মদদে কুলাঙ্গার মুন্না পুরো বাড়ি দখলে নিতে শুরু করে নানা কলাকৌশল। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০ ইং তারিখে মেম্বার কামরুলের সলা পরামর্শে সালেহা বেগমের লেখাপড়া না যানা ওয়ারিশ গণকে উক্ত বাড়ি বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলে সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়ে যায়।

সালেহা বেগমের ওয়ারিশগণ সাবরেজিষ্ট্রারকে বলে স্যার এটাকি আমাদের বোনের বাড়ি বুঝিয়ে দেয়ার দলিল। সাবরেজিষ্ট্রার কোন কথা না বলে কুলাঙ্গার মুন্নার নামে বায়না দলিল করে নেয়। সালেহা বেগমের ওয়ারিশগণ সেখানে কামরুল মেম্বারকেও দেখতে পায়। গত ২৭ ফেব্রয়ারি ২০ ইং তারিখে সালেহা বেগমের ওয়ারিশ গণের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করে কুলাঙ্গার মুন্না।

মামলার খবর পেয়ে সালেহা বেগমের ওয়ারিশ কাগজ পত্র তুলে দেখে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে সালেহা বেগমের অংশ ২ শতাংশ ২০ পয়েন্ট জমি দোতালা ভবনসহ ৮ লক্ষ টাকা দামে ৬ লক্ষ টাকায় বায়না দলিল করে। অথচ উক্ত জমির মুল্য রয়েছে প্রতি শতাংশ ৩০ লক্ষ টাকা।

উক্ত বায়না দলিলে তার জন্মদাতা পিতা মাতাকে অস্বীকার করে লালন পালন কারি নুর ইসলাম পিতা ও সালেহা বেগমকে মাতা বানিয়ে সালেহা বেগমের ওয়ারিশগণের নিকট থেকে বায়না দলিল করা হয়েছে। যদি সালেহা বেগমের সন্তান হয় তবে তার ভাই বোনদের নিকট থেকে কেন বায়না দলিল করা হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।

বর্তমানে উক্ত বাড়ি দখল করে কামকরুল মেম্বার ও কুলাংগার মুন্না দেদারছে করছে মাদক ব্যাবসা। পরিকল্পিত হত্যাকারি, বায়না দলিল বাতিল, কুলাঙ্গার মুন্না ও কামরুল মেম্বারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করতে সালেহা বেগমের বোন রানী বেগম বাদী হয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, আইজিপি, জেলা প্রশাসক নারায়ণগঞ্জ, পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জ বরাবর আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোন সুরাহা না পাওয়ায় মাদক ব্যবসায়ী কামরুল মেম্বার ও কুলাংগার মুন্নার ভয়ে আতংকে দিন যাপন করছে সালেহা বেগমের ওয়ারিশগণ। বিষয়টি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভুগিরা।

print