বিরোধী দুই কমিটির পাল্টাপাল্টি অভিষেক

5094

নারায়ণগঞ্জ ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জ ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনে কোন্দল বহুদিন থেকেই চলছে। এবার অভিষেকের মধ্য দিয়ে সেই কোন্দল উত্তেজনায় রূপ নিতে যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, প্রবীন আইনজীবিদের বয়কট করে নবীনরাও পাল্টা একটি কমিটির উদ্যোগ নেয়। তাতে বাধা দেয় প্রবীনরা। এতে করে সংখ্যা গরিষ্ঠ আইনজীবি ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা প্রবীন আইনজীবিদের বাদ দিয়ে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের তালিকা। বিক্রি শুরু করে নির্বচনের জন্য মনোনয়নপত্র। বহু আইনজীবি তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে মনোনয়ন পত্র কেনেন। মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। যথা সময়ে বিরোধী গ্রুপ না থাকায় তারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হন। এরপর আয়কর আইনজীবিদের প্রতিষ্ঠান শিকলে বন্দি হয়ে পড়ে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ বারে সক্রিয় হয়। এ নিয়ে চলে নানা গুঞ্জন। ঘটতে পারতো হামলা সংঘর্ষ।
জানা গেছে, সেই সময় বার এসোসিয়েশনের দরজায় দুটি শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে আজ অবধি। শিকলে বাঁধা অবস্থায় ঝুলছে কয়েকটি তালা। এ নিয়ে আইনজীবিদের মধ্যে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
ঘটনায় কেউ এ পর্যন্ত দায় স্বীকার করে নি। এক পক্ষ অপর পক্ষকে দোষারপ করে। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন সাধারন ডায়েরী কিংবা অভিযোগ করে নি বার এসোসিয়েশনের দায়িত্বশীল কোন আইনজীবি।
বর্তমান সাধারন সম্পাদক আইনজীবি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আব্দুর রাজ্জাক, রুহুল আমিনের নেতৃত্বে অবৈধ কমিটির আইনজীবিরাই বারের দরজায় তালা দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংবিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইনজীবিগন।
বিপরীত পক্ষের সাধারন সম্পাদক আইনজীবি আব্দুর রব বাবুল বলেন, বর্তমান সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের লোকজন দরজায় তালা দিয়েছে। আমরা বৈঠক করতে চাইলেও আমাদেরকে তা করতে দেয়া হচ্ছে না। তাই আমরা বাইরে বৈঠক করতে হচ্ছে। তারা জোর করে ক্ষমতা দখল করতে চায়।
তারপর, ট্যাক্সেস বারের রাজ্জাক সমর্থিতরা ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে। ৩০ জুলাই ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের ২০১৮-২০১৯ সনের কার্যকরি কমিটি গঠনের জন্য ১৭ জনের প্রার্থীতা চুড়ান্ত দাবি করেছে রাজ্জাক সমর্থিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার আইনজীবি আজিজুল হক মিঠু। এ গ্রুপে অন্য কোন প্রার্থী না থাকায় তাদের নিয়েই কমিটি ঘোষণা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন সভাপতি এড. রাজ্জাক, সিনিয়র সহ সভাপতি এড. ননী গোপাল দাস, সহ সভাপতি এড. এমএসএ মনির, সাধারন সম্পাদক এড. আব্দুর রব বাবুল, সহকারি সম্পাদক এড. আলী জিন্নাহ খান, কোষাধ্যক্ষ এড. অমর চন্দ্র সাহা, পাঠাগার সম্পাদক এড. আবু সুফিয়ান, সোস্যাল ওয়েল ফেয়ার এন্ড কালচারাল সেক্রেটারী এড. সহিদুর রহমান টুটুল, আইন সম্পাদক এড. হারুনুর রশিদ ও কার্যকরি সদস্যরা হলেন এড. বজলুর রহমান, এড. রুহুল আমিন, এড. রতন কান্তি ধর, এড. মালিক সোহেল সারওয়ার, এড. আনিসুর রহমান লিংকন, এড. মোশাররফ হোসেন টিটু ও এড. জিল্লুর রহমান। এ কমিটির সদস্যগন বর্তমান সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম গ্রুপকে অবৈধ ঘোষণা করে এ কমিটি ঘোষণা করেন। তবে বিপরীত দিক থেকে এড. সিরাজুল গ্রুপও এ কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করেন।
এ প্রসঙ্গে বর্তমান সাধারন সম্পাদক এড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা সকল আইনজীবিদের নিয়ে সাধারন বেঠক করে নির্বাচনের জন্য সংবিধান অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। কিন্তু এড. রাজ্জাকের আইনজীবিদের সমর্থন না থাকায় তারা ঘরের ভেতরে বসে কমিটি ঘোষণা করেছে। তাদেরকে মাঠে আসার আহবান জানাই। তারা যেন নির্বাচনে আসেন। আইনজীবিদের সমর্থন থাকলে তাদের কমিটিকে মেনে নেব। তা না করে তারা সংবিধানের ১৭ (ক), ১৭ (ট) ২৮ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ঘরে বসে কমিটি ঘোষণা দিলেন। যা কখনো মেনে নেয়া হবে না।
রাজ্জাক সমর্থিত এড. আব্দুর রব বাবুল বলেন, আমরা কমিটি ঘোষণা করি নি। নির্বাচনের জন্য কমিশনার নির্বাচিত করে তাদের মাধ্যমে ১৭ সদস্যের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেয়। কমিশনারগন কাগজপত্র যাচাই বাছাইয়ের পর সকল প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করেন। তবে অন্য প্রার্থী না থাকায় এ ১৭ জন প্রার্থীকেই নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। তাদের নিয়েই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। অফিসে জায়গা না থাকায় আমরা বাইরে আমাদের কার্যক্রম চালাচ্ছি। সিরাজুল সমর্থিত কমিটি অবৈধ।
ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের চলমান সংকটের মধ্য দিয়ে ২২ অক্টোবর হতে যাচ্ছে পাল্টাপাল্টি অভিষেক। বার এসোসিয়েশনের কার্যালয়ে একপক্ষের সভাপতি এড. সিরাজুল ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক এড. নবী হোসেনের নেতৃত্বে অভিষেক অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে হিমালয় চাইনিজ রেস্টুরেন্টে অপরপক্ষের সভাপতি এড. আব্দুল জলিল ও সাধারন সম্পাদক আব্দুর রব বাবুলের নেতৃত্বে অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

print