বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা গৃহকর্মী

29
ধর্ষন
ধর্ষন

মাজেদ আলী, পত্নীতলা (নওগাঁ) 

নওগাঁর পত্নীতলায় বিয়ের প্রলোভন দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের ফলে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে এক গৃহকর্মী। এ ঘটনায় সোমবার (২২ মার্চ) ওই গৃহকর্মী বাদী হয়ে জনৈক আমিনুল ইসলাম সৈকত (৪০) নামে এক যুবককে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম সৈকত পত্নীতলা উপজেলা সদর নজিপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আখতার হোসেন ওরফে সাবু মিঞার ছেলে। ধর্ষণের বিষয়টি এতদিন চাপা দিয়ে রাখা হলেও ওই গৃহকর্মী বর্তমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ধর্ষণকারীর পরিবার বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় ওই তরুণী ২২ মার্চ নওগাঁ জেলা লিগ্যাল এইডের সহায়তায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পুরাতন বাজারের ব্যবসায়ী আকতার হোসেন ওরফে সাবুর একমাত্র ছেলে দুই সন্তানের জনক আমিনুল ইসলাম সৈকতের স্ত্রী বেশ কয়েক বছর ধরে শারীরিক ভাবে অসুস্থ থাকায় বাসার কাজ ও সন্তানদের দেখাশুনার জন্য পার্শ্ববর্তী পলিপাড়া মহল্লার হতদরিদ্র কলা ব্যবসায়ী আঃ সামাদের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়েকে গৃহকর্মী হিসেবে নিযুক্ত করেন। কাজের সুবাদে ওই গৃহকর্মী রাতে গৃহকর্তার বাড়িতেই অবস্থান করত। কাজ শুরু করার কয়েক দিন পর থেকেই গৃহকর্তা আমিনুল ইসলাম সৈকত গৃহকর্মীকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করে। এতে রাজি না হলে গত ১ আগস্ট/২০২০ রাত আনুঃ ২টার দিকে গৃহকর্মীর ঘরে ঢুকে ওই গৃহকর্মী কিশোরীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং বিয়ে করবে বলে আশ্বস্ত করে।

পরে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে দিনের পর দিন ওই গৃহকর্মী কিশোরীকে ধর্ষণ করে আসছিল আমিনুল ইসলাম সৈকত। এভাবে ৪-৫ মাস পার হয়ে গেলে গৃহকর্মীর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। এসময় সে বিষয়টি সৈকতকে জানালে সৈকত বাচ্চাটিকে নষ্ট করতে বলে। কিন্তু গৃহকর্মী এতে রাজি না হয়ে সৈকতকে বিয়ে করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। পরবর্তীতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি/২১ইং গৃহকর্মীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি সৈকতের পরিবার জানতে পারলে গৃহকর্মীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে ওই গৃহকর্মী বাড়ি ফিরে বিষয়টি তার নিজ পরিবারকে জানায়।

এ অবস্থায় তারা নানা চাপের মুখে জেলা লিগ্যাল এইডের সহায়তায় গত ২২ মার্চ ২০২১ইং তারিখে নওগাঁ জেলা জজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে আমিনুল ইসলাম ওরফে সৈকতকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে ওই গৃহকর্মীর পিতা আঃ সামাদের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আসামি ও আসামির পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় নানা ভাবে হুমকি প্রদানসহ বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য লোক মারফত চাপ প্রয়োগ করছে। বর্তমানে তিনি অন্তাঃসত্ত্বা মেয়েকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম ওরফে সৈকতের পিতা আকতার হোসেন ওরফে সাবুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। আমার পরিবারকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এমন অভিযোগ করা হয়েছে।

print