মাদারগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণী ছাত্রীকে ১৬ বছর বয়স দেখিয়ে জন্ম নিবন্ধন নেয়ার অভিযোগ

83
জন্ম নিবন্ধন

রোকনুজ্জামান সবুজ, জামালপুর 

জামালপুর জেলা মাদারগঞ্জ উপজেলার মিথ্যা তথ্য দিয়ে তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ১৬ বছর বয়স দেখিয়ে জন্ম নিবন্ধন নেয়ার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৬ সালের ২১ অক্টোবরে আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেয়া এই জন্ম সনদ দিয়ে পোড়াবাড়ি গ্রামের অপ্রাপ্ত বয়স্ক এক স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিয়ে সম্পন্ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসী বলছেন, তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যায়নরত থাকা একজন ক্ষুদে শিক্ষার্থীর বয়স একই সালে কি ভাবে ১৫ বছর ৯ মাস ২০ দিন হতে পারে তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তারা। বিয়ে রেজিষ্ট্রির সময় যে জন্ম সনদটি নিকাহ্ রেজিষ্ট্রারের কাছে উপস্থাপন করা হয়, তা সঠিক কি না এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। এই বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক জহুরুল গত ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে তার অপ্রাপ্ত বয়সী কন্যা যুথী আক্তারকে একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের পুত্র আমির হোসেনের সাথে বিয়ে দেন। পোড়াবাড়ি গ্রামে জহুরুলের বাড়িতে বাল্য বিবাহ হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশকে জন্ম নিবন্ধন দেখিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। এতে বিস্মিত হন গ্রামবাসীরা।
কৃষক জহুরুলের কন্যা যুথী আক্তারের জন্মনিবন্ধনের খোঁজ নেয়ার জন্য আদারভিটা ইউনিয়নের পরিষদে গিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২১ অক্টোবর তারিখে যুথীর নামে জন্মনিবন্ধন ইস্যু করা হয়েছে। ওই জন্মনিবন্ধনে জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে ০১/০১/২০০১ ইং। সেই অনুপাতে ২০১৬ সালে যুথীর বয়স ছিল ১৫ বছর ৯ মাস ২০দিন। অথচ যুথী উপজেলার পোড়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৬ সালে তৃতীয় শ্রেণী ও ২০১৭ সালে চতুর্থ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হোসনে আরা। তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে যুথী ওই সময়ে বিনামুল্যে পাঠপুস্তক ও উপবৃত্তিসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সকল সুযোগসুবিধা ভোগ করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন তৃতীয় শ্রেণীর একজন ক্ষুদে শিক্ষার্থী বয়স কিভাবে প্রায় ১৬ বছর বয়স হয়। যদি তা না হয় তাহলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কি ভাবে তার জন্ম নিবন্ধনের সনদ দেয়া হয়েছে। আর যদি ইউনিয়ন পরিষদের সনদ সঠিক হয় তাহলে কিভাবে ১৬ বছরের একজন মেয়ে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিনামুল্যের পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে। এই প্রশ্ন এখন শুধু পোড়াবাড়ি গ্রামের সচতন মানুষ নয়। এ প্রশ্ন এখন বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ ছাত্র-ছাত্রীদের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জহুরুল তার অপ্রাপ্ত বয়স্ক কন্যাকে বিয়ে দেয়ার জন্য প্রতারক চক্রের সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদের অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে জাল এই সনদটি সংগ্রহ করেছে। এলাকাবাসীর ধারণা স্থানীয় প্রতারক চক্রটি এভাবেই জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করে বাল্য বিবাহের সহযোগিতা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এই জন্ম নিবন্ধনের সনদটি আদৌ সঠিক কি না তা তদন্তপুর্বক জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।

print