মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০ কে হচ্ছেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট?

72
নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া

নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশে^র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি। মার্কিন নির্বাচন নিয়ে সারা পৃথিবীতে তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ। মার্কিন নির্বাচন হয়ে থাকে প্রতি চার বছর পরপর নভেম্বর মাসের প্রথম সোমবারের পর যে মঙ্গলবার পড়ে সেদিনই। সেই হিসেবে এবছর মার্কিন নির্বাচন হচ্ছে ৩রা নভেম্বর। নির্বাচনে দলীয় টিকিট পেতে দীর্ঘ যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। প্রার্থিতা ঘোষণার পর আইওয়া রাজ্য দিয়েই প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু। চ’ড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয় জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে প্রভাবশালী দল দুটির একটি থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হোন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হচ্ছেন ‘গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি’ খ্যাত রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী- যা একটি রক্ষণশীল রাজনৈতিক দল। ট্রাম্পের রানিংমেট হচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্রেটিক পার্টি হচ্ছে উদারনৈতিক রাজনৈতিক দল; যার প্রার্থী জো বাইডেন একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং বারাক ওবামার দুই মেয়াদের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর কমালা হ্যারিস হচ্ছেন জো বাইডেনের রানিংমেট। অবশ্য ছোট ছোট কিছু রাজনৈতিক দল- লিবার্টারিয়ান, গ্রীন, ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টি- তারাও কখনো প্রার্থী মনোনয়ন ঘোষণা করে। একজন মার্কিন নাগরিক ১৮ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন। তবে জনগনের সরাসরি ভোটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয় না। মার্কিন নির্বাচনী পদ্ধতিকে বলা হয় ‘পরোক্ষ’ ভোট ব্যবস্থা। এখানে একজন ভোটার মূলত ভোট দিচ্ছেন তার অঙ্গরাজ্য-ভিত্তিক নির্বাচনী লড়াইয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে প্রার্থীকে দু’ধরনের ভোট জিততে হয়-একটি হচ্ছে পপুলার ভোট আরেকটি হচ্ছে ইলেকটোরাল ভোট। নির্বাচনে প্রার্থীরা আসলে ইলেকটোরাল ভোট জিতার জন্যই লড়াই করেন। একটি রাজ্যে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি পপুলার ভোট পান তিনি ওই রাজ্যের সবগুলো ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে যান। যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ রাজ্যই চিরাচরিতভাবে রিপাবলিকান বা ডেমোক্রেট বলে চিহ্নিত হয়ে গেছে। তাই প্রার্থীরা প্রচারণার সময় ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ স্টেট নামক ১০-১২টি রাজ্যের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়ে থাকেন- যেগুলো ঠিক নির্দিষ্ট কোন দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত নয় এবং যে কোন দলই জিতে যেতে পারে। অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আসল লড়াই হয় এ রাজ্যগুলোতেই। ইলেকটোরাল কলেজের মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮। কলেজ পদ্ধতিতে প্রত্যেকটি রাজ্যের হাতে থাকে কিছু ভোট। কোন রাজ্যে কতজন ইলেকটোর থাকবেন সেটা নির্ভর করে ওই রাজ্যের জনসংখ্যার ওপর। মাইন ও নেব্রাসকা এই দুটো অঙ্গরাজ্য বাদে বাকি সবগুলো রাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট মিলে যে প্রার্থী ২৭০ টি ভোট পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। ট্রাম্প এবং বাইডেন উভয়েই যদি ২৬৯ টি করে ইলেকটোরাল ভোট পান, তাহলে ফল নির্ধারিত হবে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে রাজ্যের প্রতিনিধিদের দ্বারা। ১৮০৪ সালের পর ৫৩টি নির্বাচনে ৪৮ জনই নির্বাচিত হয়েছেন পপুলার ভোটে, বাকি পাঁচজন প্রেসিডেন্ট পপুলার ভোট বেশি না পেয়েও নির্বাচিত হয়েছেন। এই কলেজ সিস্টেমে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের একটি মৌলিক নীতি- চেকস এন্ড ব্যালেন্স রক্ষিত হয়। সম্প্রতি জনমত জরিপগুলোয় দেখা যাচ্ছে, জো বাইডেন সুইং স্টেটসহ সব জায়গায় অব্যাহতভাবে বেশ কিছু পয়েন্টের ব্যবধানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন। করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতা, কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, কর না দেয়া সংক্রান্ত খবর ফাঁস ও নানা কারনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এবার পরাজয়ের কথা বলছেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া, চীন ও ইরানের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। রাশিয়া পরোক্ষভাবে ট্রাম্পের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে চীন এবং ইরান চাইছে ট্রাম্পের পরাজয়। তবে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে ৩রা নভেম্বরের ভোটের মাধ্যমে। ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া
সাবেক শিক্ষার্থী
রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

print