যেন এক বিধ্বস্ত নগরী

1143

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
শহরের বিভিন্ন সড়ক ভেঙ্গে চুরে বিধ্বস্ত নগরীতে পরিণত হয়েছে। আইটি স্কুল থেকে কালিবাজার পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়ক। আইটি স্কুল থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক একেবারে চলাচলের অযোগ্য। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন সড়কে চলাচল করা সাধারন মানুষ ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
সড়কে চলাচলকারি সাধারন মানুষ ও পরিবহনের যাত্রীরা এক মন্তব্যে সড়কগুলোকে ‘ক্যান্সার আক্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বহুবার সড়কগুলো সংস্কারের আশ্বাস দিলেও প্রকৃতপক্ষে তা বাস্তবে রূপান্তরিত হয় নি। তাদের আশ্বাসগুলো সভা সমাবেশের খোরাক হিসেবেই রয়ে গেছে। অনেকে বলছেন মেয়রের উদাসীনতায় বছরের পর বছর কেটে গেলেও রাস্তা সংস্কার করা হয়নি।
খানপুর এলাকার নুরুজ্জামান কাউসার বলেন, কিল্লারপুল, জেলা প্রশাসকের বাড়ির সামনের সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। এ সড়কের পাশেই বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রয়েছে জেলা প্রশাসকের বাসভবন। বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার বিভাগের কার্যালয়, ডিপিডিসির কার্যালয় রয়েছে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় হাসপাতালটিও এ সড়কের পাশেই। খানপুর ৩শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে জেলার প্রতিটি প্রান্ত থেকেই অসুস্থ মানুষ সেবা পাওয়ার জন্য আসেন। সেবার জন্য আসা মানুষগুলো বেহাল সড়কের কারনে রোগী হয়েই ফিরে যান। বয়স্ক মানুষগুলো রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এছাড়া প্রতিদিনই সড়কের কারনে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
রিক্সা চালক মাহবুব বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে সড়কগুলোর অবস্থা একেবারেই খারাপ। সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চলতে গেলে একে বেঁকে চলতে হয়। রিক্সার চাকা ভেঙ্গে যায়। কখনও কখনও চাকা বাঁকা হয়ে যায়। কখনও যাত্রীরা গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। রিক্সার মেরামত করতে করতে দিনের আয়ের বেশিরভাগ টাকাই খরচ হয়ে যায়।
কয়েকজন গাড়ির চালক জানান, সড়কে খানাখন্দের ফলে গাড়ি চালাতে যেমন সমস্য হয় ঠিক তেমনি গাড়ির স্থায়িত্বও কমে যায়। প্রতিটি যন্ত্রাংশ মেয়াদের আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কখনও কখনও সড়কের উপরই ভেঙ্গে যাচ্ছে। কখনও কখনও গাড়ির ইঞ্জিনই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা দ্রুত সড়কের সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ একটি ধনী জেলা হলেও এ জেলার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। জেলা শহরের নিতাইগঞ্জ, টানবাজার, লঞ্চঘাট, কালিরবাজার, মেট্রো, চাষাড়া, বাবুরাইল, পাইকপাড়া, দেওভোগ, গলাচিপা, ভোলাইল, কাশিপুর এলাকা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সড়কে চলতে গিয়ে দুর্ভোগের অন্ত নেই। কোথাও ধুলা, কোথাও পানি, কোথাও খাদ, কোথাও কাদামাটি, কোথাও গর্ত রয়েছে।
শিবু মার্কেট থেকে আইটি স্কুলের বেহাল সড়কের বিষয়ে আবু হাসান টিপু বলেন, বিগত ১ বছর থেকে সড়কটির যাচ্ছে তাই অবস্থা। রাস্তার উপর পিচ খুলে গেছে। ইটের পরত বেরিয়ে গিয়ে সেখান থেকে মাটি সরে গেছে। সবসময়ই কাদা মাটিতে মাখামাখি অবস্থা তৈরী হয়েছে। সড়কে সবসময় পানি থাকছে। ৩ কিলোমিটার সড়কে কয়েকশ গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ এলাকার লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক দিয়েই চলাচল করে। বাচ্চার স্কুলে যাচ্ছে অতি কষ্টে। সাধারন মানুষ পায়ে হেটে চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ সড়ক নিয়ে আমরা এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যের কাছে আবেদন জানিয়েও কোন প্রতিকার পাই নি। এরপর এলাকাবাসীদের নিয়ে আমরা মানববন্ধন করেছি। জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। ততেও কোন কাজ হয় নি। সড়কের অবস্থা যা ছিল তাই রয়ে গেছে।
হাজীগঞ্জ এলাকার এমএস ইসলাম আরজু বলেন, আমাদের সড়কে চলতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সড়কে কাদাপানি মাড়িয়ে চলাচল করি। সড়কটি সংস্কারের জন্য আমরা মেম্বার চেয়ারম্যান ও সাংসদের কাছে গিয়েছি। মানববন্ধন করেছি ও স্মারকলিপি দিয়েছি। কোন প্রতিকার পাইনি।
হাজীগঞ্জ এলাকার মনিম সাগর বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো নামে মাত্র সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের কিছু দিনের মধ্যেই সেই পুরোনো অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। আমাদের দুর্ভোগতো থেকেই যাচ্ছে। সারা বছরই সড়কগুলো খানাখন্দ, বড় বড় গর্ত আর পানিতে ডুবে থাকে। চলাচলে যাত্রীদের দুর্ভোগের অন্ত নেই।
জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম এহতেশামুল হক বলেন, কিছু রাস্তার সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শহরের সকল সড়কের সংস্কার কাজ পরিচালনা করা হবে।

print