যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

1100

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সংযোগ সড়ক সাইনবোর্ডে ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হচ্ছে সাধারন মানুষ। যে কোন সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রনে নেই কোন পদক্ষেপ। সম্প্রতি সরকার মহাসড়কটির দুইপাশে চার লেন করে আট লেনে উন্নীত করেছে। এছাড়া যাত্রী উঠানামা করার জন্য আরও দুটি করে লেন নির্মাণ করেছে। ফলে বিশাল এ সড়কে রাস্তা পারাপারে রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাইনবোর্ড মহাসড়কে রাস্তা পারাপারের জন্য কোন ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয় নি। এখানে নেই কোন ফুটওভার ব্রিজ। নেই কোন জেব্রা ক্রসিং। তিন রাস্তার মোড় হওয়ায় এদিক সেদিক থেকে গাড়িগুলো এখানে এলোমেলো চলাচল করছে। সড়কের স্থানটি মারাত্মক দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত। সড়কে রয়েছে পদে পদে ঝুঁকি। সাধারন মানুষগুলোকে দেখা গেছে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পারাপার হচ্ছেন। রাস্তা পারাপার হতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে নানা ধরনের বিড়ম্বনায়। এদিক থেকে গাড়ি আসছে, ওদিক থেকে গাড়ি আসছে। এতকিছুর মধ্য দিয়েই তারা সড়কের একদিক থেকে অন্য দিকে পার হচ্ছেন।
এ সময় গৃহিনী অনিতা বলেন, প্রতিদিনই অফিস করতে সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হয়। দিনে অন্তত দুই বার রাস্তা পার হতে হয়। রাস্তা পার হতে গিয়ে অনেক ভয় লাগে। কিন্তু করার কিছুই নেই। এখানে সড়কের উপর কোন ফুটওভার ব্রিজ নেই। এ এলাকার সাংসদের কাছে আকুল আবেদন তিনি যেন এখানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে দেন।
ব্যবসায়ী শাহআলম বলেন, ব্যবসায়ের কাজে এ সড়ক দিয়ে দিন অন্তত চার পাঁচ বার চলাফেরা করতে হয়। রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ির সামনে মনে হয় এই বুঝি আর ঘরে ফিরতে পারবো না। এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দৈনন্দিন কাজকর্ম সারতে হয়। আমাদের জনপ্রতিনিধিরা আমাদের সমস্যাগুলো কি দেখতে পাচ্ছেন না।
সড়ক ও জনপথের কয়েকটি সূত্র জানায়, সড়কে ফুটওভার ব্রিজ করতে হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে মন্ত্রণালয়ে একটি চাহিদা পত্র দিতে হয়। সেই চাহিদা পত্রের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় একটি বাজেট তৈরী করে। বাজেটের পর সেই একটি নির্দেশ আসে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। ওই দপ্তর বাজেটের উপর ভিত্তি করে কাজের নকশা তৈরী করে। এরপর কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্র আহবান করা হয়। সেই দরপত্রের কাজের জন্য একজন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। শুরু করা হয় কাজ।
জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার বলেন, সাইবোর্ডের সড়কে ফুটওভার ব্রিজ নির্মানের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ আসতে হবে। নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আমাদের কিছুই করার নেই।

print