শামীম ওসমানের হাত ধরে বিএনপির ৫ জনপ্রতিনিধির আওয়ামী লীগে যোগদান

1069

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি নেতা কাউন্সিলর ই¯্রাফিল প্রধানের পর আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন আরও ৫ জনপ্রতিনিধি। গতকাল দুপুরে ইসদাইর বাংলা ভবনে আওয়ামী লীগের কর্মী সভায় সাংসদ শামীম ওসমানের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি ত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।
এ সময় সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, যারা ভিতরে ভিতরে বিএনপি আর উপরে উপরে আওয়ামী লীগ করেন আমাদের এমন লোক দরকার নাই। লোক কমুক অসুবিধা নাই। সাচ্চা লোক নিয়ে কাজ করতে চাই। বিএনপি থেকে অনেকেই আসতে চাইছেন। আমরা সবাইকে নেবো না। যারা ভালো মানুষ। তাদেরকেই নেবো। আমার ই¯্রাফিল ভাই ভালো মানুষ। এলাকায় তার গুড উইল আছে। আজকে যারা জয়েন করেছেন তারাও ভালো মানুষ। তাই বলবো যদি ভালো হন। তাইলে দশ তারিখের মধ্যে আইসা জয়েন করেন। এগারো তারিখে কিন্তু নো চান্স। দশ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। অনেক ব্যক্তি আছে যারা আমাদের ভিতরে ঢুইকা গেছে। তারা মনে মনে খালেদা জিয়া তজবি গুনে আর সামনে কয় শেখ হাসিনা। আমি বলবো হয়তো কেউ কাজিম ভাইয়ের লগে আইসা ঢুইকা পড়ছে। কেউ নিজামের লগে আইসা ঢুইকা পড়ছে। কেউ আইসা হেলালের লগে ঢুকছে। কেউ সাজনুর লগে ঢুকছে। ভাজ দিয়া আস্তে কইরা শরীরটাকে ঢুকাইয়া দিয়া বইসা আছে। ঠিক সময় মত দেখবেন ‘ফস্’ কইরা ছোবল মারবে। আইডেন্টিফাই হওয়া দরকার। যার যার এলাকায় আইডেন্টিফাই করেন। কারা আমাদের সাথে আইসা সংস্কার করছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ঠিকমত ভাত খাইতে পারে নাই। ওরা নানরুটি খাইয়া ঘুইরা বেড়াইছে। যারা নারায়ণগঞ্জ নিয়ে খেলতে চায়। তাদের উদ্দেশে বলছি বিএনপি জামাত রাজনীতি করতে চান করেন নো প্রোবলেম। মিছিল করতে চান করেন নো প্রোবলেম। আমার কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু খেলতে আইসেন না। খেলতে আসলে বাড়ির একটা ইটও থাকবে না। এই যে ঘন ঘন মামলা হয়, আমি এটার পক্ষে না। আমি যে কোনো মানুষের পক্ষে। এখন পুলিশদের কাছে কি তথ্য আছে তারাই জানেন। আমিতো পুলিশ না। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রিপোর্ট আছে কারা কি করতে চায়। আমরা চাইনা রাজনীতি করতে এসে কেউ বোমা হামলার শিকার হোক। আমি আল্লাহকে হাজির নাজির করে বলছি। আবারও এই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাই কাউকে কোনো ধরণের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকেই মাঠে নেমেছেন খেলতে। আমরা যদি খেলি তাহলে এসব ইউনূস-টিউনূস, কামাল-জামালরা টিকে থাকতে পারবে না। কারণ আমরা খেলোয়াড়। কীভাবে খেলতে হয় তা ভালো করেই জানি।
আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া নেতারা হলেন, এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান প্রধান, ওই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার সামছুল হক, ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার বাতেন তালুকদার, ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার নেছার উদ্দিন।
জানা গেছে, আতাউর রহমান প্রধান দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তিনি বৃহত্তর মাসদাইরের আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ওরফে মতি প্রধানের ভাই। ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির মামা। মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফেল প্রধানের চাচা।
বিএনপি সমর্থিত জনপ্রতিনিধিদের আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের সাবেক পৌরসভার প্রশাসক আব্দুল মতিন প্রধান, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি নাজিমউদ্দিন, সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফ উল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী প্রমূখ।

print