শাহিন বন্ডে জিম্মি উত্তর কাশিপুর

1574

নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানার উত্তর কাশিপুর এলাকা শাহিন বন্ডের হাতে জিম্মি। একের পর এক অপরাধ চালিয়ে গেলেও তাদের থামাতে পারছে না জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলা প্রশাসনও এসব বিষয়ে তেমন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। গত বছর জোড়া খুনের ঘটনায় সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল কাশিপুরকে ঘিরে। সাধারন মানুষ সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খুলতেও পারছে না। দিনে দুপুরে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার পরও তার বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধ। তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। সাধারন মানুষের ক্ষোভ এসব সন্ত্রাসীদের ঘিরে দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। তবে দেখার বিষয় পুলিশ কি পারবে এসব সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রন করতে।
জানা গেছে, ফতুল্লার বেশ কয়েকটি এলাকা জুড়ে তাদের অবাধ বিচরন। সন্ত্রাস সৃষ্টি করে সাধারন মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে তার চালিয়ে যাচ্ছে নানা অপরাধ। ফতুল্লার উত্তর কাশিপুর, শান্তি নগর, ভোলাইল, দেওয়ান বাড়ি, পশ্চিম দেওভোগ, পঞ্চবটি, মোক্তারপুর সড়ক তাদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। তারা দিনে দুপুরে হত্যা, কুপিয়ে রক্তাক্ত করা, ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস সৃষ্টি, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা সহ চালিয়ে যাচ্ছে নানা ভয়ঙ্কর অপরাধ। এ বন্ডের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ২ শতাধিক। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে জজ মিয়ার ছেলে শাহিন আলম ওরফে শাহিন বন্ড, শাহিনের ভাই সেলিম, তমিজ উদ্দিনের ছেলে জহিরুল ইসলাম, জহিরুলের ভাই শরিফুল দেওয়ান, বদর উদ্দিনের ছেলে জহির ওরফে লেংড়া জহির, রব মিয়ার ছেলে কবির, হাকিমের ছেলে সৈকত, বাতেন, রুহুল আমিন, লিটন, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মনির হোসেন, খোকন ও সিরাজ।
কাশিপুরের প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল্লাহ শফি জানান, শাহিন বন্ড আমি ও আমার ছেলেকে জুমার নামাজে যাওয়ার পথে শত শত মানুষের সামনে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে। আমার বাঁচার কোন আশঙ্কা ছিল না। আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে গেছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর ফতুল্লা থানার উপ পরিদর্শক রাসেল ও উপ পরিদর্শক আবেদ ১৪ জুন শুক্রবার অভিযান চালিয়ে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে পিস্তল ও চাপাতি উদ্ধার করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করতে পারে নি। বরং তাদের অপরাধের মাত্রা দিনের পর দিন ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এছাড়া তারা প্রতিদিনই বিভিন্ন অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সামনে ঘর থেকে সাধারন মানুষ বের হতেও ভয় পাচ্ছে।
কাশিপুর এলাকার সনম জানান, তারা এমন কোন অপরাধ নাই যা করছে না। আমি তাদের ক্রসফায়ার দাবী করি। তাদের নিয়ন্ত্রনে আনতে না পারলে এ এলাকার মানুষকে ভয়ের সাথে জীবন চালাতে হবে।
এদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শাহিন বন্ডের অন্তত ২০ সদস্যের খোঁজে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে ডিবি পুলিশ। তাদের অচিরেই গ্রেফতার করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল বলেন, শাহিন বন্ড বিএনপি জামায়াত থেকে বর্তমানে আওয়ামী লীগের এসে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের কারনে ত্যাগী নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের অপরাধে বাধা দিতে গিয়ে শফিউল্লাহ শফিকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ তাদের সমর্থন করে না। নারায়ণগঞ্জের ব্যাপক জনপ্রিয় সাংসদ একেএম শামীম ওসমান তাদের সমর্থন করেন না। শাহিন বন্ডদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিলে উত্তর কাশিপুরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।
এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বিদেশে অবস্থান করায় তার মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে খোঁজ নেয়া হবে। অস্ত্র উদ্ধার করা হলে তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। তাকে শিগ্রই গ্রেপ্তার করা হবে।

print