শাড়ীর রংয়ে মাতোয়ারা বিশ্ব যখন দিশেহারা

2875
শাহাদাৎ
শাহাদাৎ

শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া
আমরা সব সময়ই সরকারের দোষটাই খুঁজে বের করতে চাই। যাদের বলা হয় সাংবাদিক বুদ্ধিজীবি সুশিল সমাজ। তবে কথা হচ্ছে তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা। জনগনের বৃহৎ স্বার্থে তাদের শিক্ষা ধ্যান জ্ঞান মননশীলতা আর সৃজনশীলতা দিয়ে তারা সরকার ও জনগনকে রাস্তা দেখাবে। তা না করেই আমরা সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত দোষ নিয়ে কখনও সমালোচনার পাহাড় গড়ে তুলি। আবার কখনো তোষামোদে তাদের মাথা তেল মাখি আর পা চাটতে শুরু করি। আমাদের যা করা প্রয়োজন তা আমরা কখনোই করি না। অন্যদিকে দেশের জনগনের কল্যানে যারা নেতৃত্ব দেন তাদের একটি অংশের নাম বিরোধী দল। আজকাল তাদের অনেকে রাতের বেলায় ব্যবসা বানিজ্য ভাগাভাগি করেন আর দিনের বেলায় সভা সমাবেশ আর মিডিয়া কিছু বকতে হবে তাই যা ইচ্ছে তাই বকে উজাড় করে দেন। ফলে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজামের লেখা রাজসভার ছাগল মন্ত্রীগন জানেন যে তারা যত ভাল কাজই করুক না কেন তাদের এমন এমন দোষ খুঁজে বের করা হবে যা থেকে তাদের পরিত্রান পাবার কোন সুযোগই নেই। এহেন পরিস্থিতিতে তারা আর তাদের বুদ্ধি বিবেককে কাজে লাগানো একেবারে বন্ধই করে দিয়েছেন। তাদের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে হবে তাই কিছু একটা মিছু বলে নিজের দায়টা সেরে নিচ্ছেন। এরপরই শুরু হয় এক মহাপ্রলয়। দেশের আপামর মানুষ মিলে তাদের জাত গুষ্ঠি উদ্ধার করে ছাড়ছেন। আমার প্রশ্ন হলো এ দেশে সঠিক কাজটা তবে করছেন কে?


বিশ^ আজ ভালো নেই। আর এ ভাল না থাকার জন্য দায়ী কে? অবশ্যই আমরা। আমাদের সাম্রাজ্যবাদ, রাজত্ব আর দাম্ভিকতাকে টিকিয়ে রাখতে আমরা একের পর এক জাতিকে সমাজকে নিজেদের পায়ের নিচে দুমড়ে মুচড়ে একাকার করে রেখেছি। ফলে অপর জাতি আমাদের উপর প্রতিশোধ নিতে তৈরী করছে একের পর এক মরণাস্ত্র। বিশ^ যখন অসহায় তখন আমরা বেশ ভাল আছি। যদিও আমাদের মধ্যে উদ্বেগ ভয় আর উৎকন্ঠা কাজ করছে তবুও আমাদের দেশের আপামর মানুষ আল্লাহর উপর ভরসা নিয়ে বেশ ভালই কাটাচ্ছি। কারো মতে আগামী সপ্তাহ বেশ কঠিন সময় আমাদের পার করতে হবে। কেউ অসহায় খেটে খাওয়া দিনমজুর রিক্সাচালক আর গরীব মানুষগুলোর খাবারের দাবীতে আওয়াজ তুলেছেন। তবে বিশে^র ক্ষমতাবান দেশের মানুষগুলোর মতো ভয়ে চুপসে যায় নি। আমাদের দেশে যারা চুপসে গেছেন তারা হলেন রাজনীতির নামে যারা লুটেরা আর ব্যবসায়ের নামে যারা জনগনের করের টাকাকে কাগজে লিখে পকেট ভারি করেন বিদেশে অর্থ পাচার করেন তাদের অবস্থা একেবারেই করুন।

এতকিছুর পরও ভোরের সূর্য উঠবে। পরিবার পরিজনের জন্য মা বৌ খাবার রান্না করবে। বাচ্চারা হাসি খেলায় মেতে উঠবে। পড়ার টেবিলে বসে তারা বড়দের ফাঁকি দেবে। জীবন হয়ে উঠবে মধুময়। প্রিয়তমার সাথে আবার বেড়াতে বেরোবে ভালোবাসার মানুষ। অফিস আদালত আবার মুখোরিত হয়ে উঠবে সেবা প্রত্যাশীদের আনাগোনায়। সড়কে ছুটে চলবে সাঁই সাঁই করা সেই যানবাহনগুলো। আবার আমরা স্বাভাবিক হয়ে নতুন জীবন নতুন পথচলা শুরু করবো। তবে পুরনো সেই ভুলগুলো আর করবো না।

লেখক- সম্পাদক, বাংলা সংবাদ

print