সংবাদকর্মীর পরিচয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ইজিবাইক চলছে

62
সংবাদকর্মীর পরিচয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ইজিবাইক চলছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

মহাসড়কে নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের কারণে যানজটে নাকাল হচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জবাসী। যত্রতত্র এসব যানবাহন অঘোষিত স্ট্যান্ড বানিয়ে যাত্রী পরিবহন করায় ঢাকা-চট্রগ্রাম ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কের ব্যস্ততম মোড় শিমরাইলে প্রতিনিয়ত লেগে থাকে যানজট। শুরুতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুবিধা হওয়ায় এসব যান জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও পরে দিন দিন এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন তা সুবিধার পরিবর্তে জনজীবনে মহাভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জের পাড়া-মহল্লা অলি-গলিতে এসব যানের বেপরোয়া চলাচলে বাড়ছে দুর্ভোগ-দুর্ঘটনা। এসব যানকে অবৈধ ঘোষণা করা হলেও লাইসেন্স না থাকায় কথিত সাংবাদিক বাবুর (স্বপ্নযাত্রা সমাজকল্যাণ সংস্থা) নামে হরহামেশেই চলাচল করছে এসব যানবাহন। বাবু সিদ্ধিরগঞ্জের সানাড়পাড় এলাকায় বসবাস করেন।

মহাসড়কে চলাচল করলে পুলিশ ধরে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে অটো চালক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ভাই আমি অল্প কিছুদিন হয় গাড়ি চালাই। এই গাড়ির মালিক (কথিত সাংবাদিক বাবু) বাবু ভাই। পুলিশ ধরলে আমরা বাবু ভাইকে ফোন করি তারপর পুলিশ আমাদের ছেড়ে দেয়। শাহাদাৎ আরো বলেন, বাবু ভাই সামবাদিক! সেই পুলিশকে ম্যানেজ করে। এজন্য আমাদের কোনো সমস্যা হয় না।

অন্যদিকে অনলাইন পত্রিকা (সংবাদ দিগন্ত) ব্যানারে চলতে দেখা গেছে মিশুক নামের বেশ কয়েকটি অটো রিক্সা। যার মালিক আরো এক সাংবাদিক (কথিত সাংবাদিক) খোরশেদ আলম। কে এই খোরশেদ আলম? যার নামেই মহাসড়কে চলাচল করে নিষিদ্ধ অটোরিক্সা। তার বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জের সানাড়পাড় নিমাইকাশারি এলাকায়।

কথিত সাংবাদিক খোরশেদ আলমের গাড়ি চালক শফিকের সাথে কথা হয়। প্রথমে তিনি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে স্বীকার করেন এই গাড়ির মালিক (কথিত সাংবাদিক) খোরশেদ আলম। যার নামের উপরে চলছে তার একাধিক পরিবহন। মহাসড়কে চলাচল করলে পুলিশি ঝামেলা হয় কিনা জানতে চাইলে শফিক বলেন আমাদের গাড়িতে স্টিকার লাগানো আছে। আমাদের মালিকের (কথিত সাংবাদিক খোরশেদ আলম) সাথে পুলিশের ভালো সম্পর্ক। তাই আমাদের গাড়ি পুলিশ আটকায় না।

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়, ডাচ্ বাংলা ইউটার্ন এলাকা, মাদানী নগর এলাকা, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র এসব ইজিবাইক ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এসব অবৈধ যানের কারনে এলাকায় পথচারীদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সড়কের ওপরে স্ট্যান্ড হওয়ায় এসব এলাকায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। কোনো রকম নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এসব যান চলাচল করায় মহাসড়কের ব্যস্ততম মোড় শিমরাইল ইউটার্ন এলাকা থেকে কাচঁপুর সেতু পর্যন্ত সারা দিনই ব্যাপক যানজট লেগে থাকে। এসব যান বিপজ্জনক গতিতে চলাচল করায় অহরহ ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা।

মহাসড়কে নিষিদ্ধ যান চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে শিমরাইল ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট বাহার জানান, এসব অটোরিক্সা দিন দিন বাড়ছে। তাদের জরিমানা করেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকদের গাড়িই রাস্তায় চলাচল করে বেশি। যদি কোনো গাড়ি ধরে জরিমানা করতে যাই তাহলে চালক বলে এটা ওই সাংবাদিকের গাড়ি নেন ফোনে কথা বলেন! তখন আমাদের কিছুই বলার থাকে না।

 

রিপোর্ট : অ হা

print