সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ দখলবাজদের নিয়েই এমপি হাবিব হাসানের পবিত্র যাত্রা

102
সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ দখলবাজদের নিয়েই এমপি হাবিব হাসানের পবিত্র যাত্রা

বিশেষ প্রতিনিধি

যে-ই যায় লঙ্কায়, সে-ই সাজে হনুমান; আর হনুমানের হাতে খন্তি দিলে যা ঘটার তাই ঘটে। যুগ যুগ ধরে দাদা-দাদামহদের মুখে প্রচলিত প্রবাদ বাক্যগুলো যে এই ডিজিটাল সময়ে এসেও শতভাগ মিলে যাবে তা রীতিমত কল্পনাতীত। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাস্তানীর মধ্য দিয়ে হাবিব হাসানের উত্থান ঘটলেও রাজনীতিতে যথেষ্ঠ গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেন তিনি। কর্মিবান্ধব এ নেতা সাংগঠনিক দক্ষতাতেও অনেক এগিয়ে। বরাবরই কথা বলতেন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জবর দখলসহ সব রকম অপরাধের বিরুদ্ধে। এ কারণে এডভোকেট সাহারা খাতুনের জীবদ্দশাতেও হাবিব হাসান হয়ে উঠেন উত্তর ঢাকার নির্ভরযোগ্য নেতা, আওয়ামী কান্ডারি। দলও তার যোগ্যতা, দক্ষতা ও দলীয় আনুগত্যের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে লোকাল, ন্যাশনাল, ভিআইপি শ্রেণীর প্রায় দুই ডজন প্রার্থীর মধ্যে হাবিব হাসানকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে দেশবাসীকে অবাক করে দিয়েছে, আওয়ামীলীগ দেখিয়েছে দলের প্রতি আনুগত্য থাকা নেতা কর্মিকে কিভাবে মর্যাদা দিতে হয়। দলীয় মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে নির্বিঘ্নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন তিনি। কিন্তু সেই যে প্রবাদ…যে যায় লঙ্কায়….। সদ্য নির্বাচিত এমপি হাবিব হাসানও সেই প্রবাদ কথার বাইরে এক ধাপ পা ফেলতে পারলেন না। বরং তিনিও চাঁদাবাজ, দখলবাজ আর চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে শুরু করলেন নতুন যাত্রা, দেশ গঠনের (!) যাত্রা।
নবনির্বাচিত এমপি’র ডানে বামে কারা আসন করে নিয়েছে, কারা এমপি’র প্রিয়ভাজনে পরিনত হয়েছে-তাদের চেহারা উত্তরাবাসীর বড়ই চেনা। একদিকে ফুটপাত দখলবাজিসহ বাজারের শীর্ষ চাঁদাবাজ রাসেল, অন্যদিকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাদক বাণিজ্যের হোতা উজ্জ্বল। আব্দুল্লাহপুরের দুর্র্ধষ পরিবহন চাঁদাবাজ নূরুও ঠাঁই পেয়েছেন এমপি হাবিব হাসানের হৃদয়ে, এমনকি চাঁদাবাজ নূরুর ক্যাশিয়ার রইচও বাদ পড়েননি। আসলেই বক্তৃতা বিবৃতিতে যতই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজির বিপক্ষে অভিমত প্রকাশ করা হোক না কেন-পথ চলতে তাদের ছাড়া যেন গতি নেই। রাজনীতি চালাতে, সংসদীয় আসন এলাকার খোঁজ খবর নিতে দুই চার ডজন চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী দখলবাজ পাশে না থাকলে খরচের যোগান আসবে কোত্থেকে?

print