সরিষাবাড়ী পরিবার পরিকল্পনা অফিসারকে মারধর, পৌরমেয়রের বিরুদ্ধে ডায়েরী

2747

রোকনুজ্জামান সবুজ, জামালপুর 

জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকনের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসারকে মারধর ও তার বাসভবনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিত ব্যক্তি গোলাম রব্বানী মুজিবনগর সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় বৃহৎস্পতিবার সন্ধ্যায় সরিষাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
অস্ত্রের মহড়া, নারী কেলেঙ্কারী, গুম নাটক, সাংবাদিক ও কাউন্সিলরদের হত্যার হুমকি এবং অর্থ আত্মসাতসহ নানা ঘটনার হোতা হিসেবে মেয়র রুকুনুজ্জামানের বিরুদ্ধে এ নিয়ে থানায় ডজনখানেক জিডি হলো।
অভিযোগ সূত্র জানায়, সরিষাবাড়ী উপজেলায় কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা অফিসার গোলাম রব্বানী পৌরসভার আরামনগর বাজারস্থ কাঠপট্টির নিজবাসায় বসবাস করে আসছেন। মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকন বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে দলবল নিয়ে ওই বাসায় অতর্কিত হামলা করেন। গোলাম রব্বানীর ছোটভাই গোলাম মোস্তফাকে মেয়র ঘরের বাইরে নিয়ে মারধর শুরু করলে বাসার লোকজন ছুটে যান। এসময় গোলাম রব্বানী সালাম দিয়ে কথা বলতে চাইলে মেয়র তাকেও মারতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পৌরসভা ভবন পর্যন্ত টেনেহেচড়ে নিয়ে মেয়র বলেন, ‘আমার ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার আছে, তোকে এরেস্ট করলাম।’
গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের জানান, পূর্ব কোনো ঘটনা ছাড়াই এমন আচরণে আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি। মেয়রকে আমি মুজিবনগর সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে অফিসের জরুরি কাজের কথা বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘তোর অফিস থু।’ এসময় আমি মোবাইল বের করে ঘটনাটি জানাতে আমার বাল্যবন্ধু উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশাকে কল করতে চাইলে মেয়র হাত থেতে মোবাইল ছিনিয়ে নেন এবং আ’লীগের সভাপতির নাম উচ্চারণ করে গালাগাল করতে থাকেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ,মেয়রের হামলায় ওই বাসার গেট ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মারধরে আরো পাঁচজন সদস্য আহত হন। ঘটনার পরই মেয়র ভাড়াটিয়া লোকদের দিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন বলেও তারা জানান। জীবনের নিরাপত্তহীনতায় বৃহৎস্পতিবার সন্ধ্যায় গোলাম রব্বানী সাধারণ ডায়েরি করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, মেয়র ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসারের মধ্যে ঘটনাটি শুনেছি। দু’জনই সম্মানী লোক, তাই এটা দুঃখজনক।
থানার অফিসার ইনচার্জ মাজেদুর রহমান পরিবার পরিকল্পনা অফিসার কর্তৃক পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে জিডি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, নির্বাচিত হওয়ার চার বছরে মেয়র রোকন নানা কারণে বিতর্কের শীর্ষে। এলাকায় তিনি ‘রাজাকারের নাতি’ হিসেবে চিহ্নিত থাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ এবং দুর্নীতির দায়ে দুদক ও স্থানীয় সরকার বিভাগে একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলমান আছে।
এ ব্যাপারে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকন মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে গোলাম রব্বানী একটা জিডি করেছে, কিন্তু আমি তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছি। সে আমার সাথে বেশি বাড়াবাড়ি করেছে, আ’লীগের বড় বড় নেতার রেফারেন্স দিয়েছে। আমি মেয়র, আমারও ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার রয়েছে।’ পৌরসভার বিধিবিধান মেনে আগামী সাতদিনের মধ্যে তার বাড়ি ভেঙে দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

print