সিদ্ধিরগঞ্জে আধুনিক হাসপাতালে অপকর্মের হোতা প্রতারক ডাক্তার তাইফুরুল

80
সিদ্ধিরগঞ্জে আধুনিক হাসপাতালে অপকর্মের হোতা প্রতারক ডাক্তার তাইফুরুল

নারায়ণগঞ্জ অফিস

নারায়নগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জে ক্লিনিককে পুজি করে ডাক্তার তাইফুরুল হাসান সাধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে ব্যবসায়িক মুনাফার লাভের লোভ দেখিয়ে নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারনা করে যাচ্ছে হর হামেশা।

অনেকেই সন্দিহান তার ডাক্তারি ও ক্লিনিকের বৈধ সনদ নিয়ে। তার স্ত্রী পেশাগতভাবে ডাক্তার না হয়ে ডাক্তার সেজে ক্লিনিকে অনবরত রোগি দেখে সাধারন মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়েও প্রতারনা করছে বলে এমন অভিযোগও উঠেছে। এ ক্লিনিকে রোগি চিকিৎসার নামে গোপনে ম্যাসেজপার্লারের নামে পুরুষদের মনোরঞ্জন সহ মাদক সেবনের অভয়নিবাস বলে অনেকের মুখে শোনা যায়।কাগজ পএ বিহীন অবৈধ ক্লিনিকের আড়ালে এ সকল প্রতারনা ও অসামাজিক কাজের মধ্যদিয়ে কালো টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকে বলে লোকমুখে গুঞ্জন রয়েছে।

সম্প্রতি এ ডাক্তারের বিরুদ্ধে এক অংশিদারির টাকা ফেরত না দেবার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া যায়।

সূএে যানা যায় যে,খুলনার মৃত আলহাজ্ব হাফেজ আঃ মালেক এর পুএ ডাক্তার এইচ এম তাইফুরুল হাসান নারায়ণগঞ্জ জেলা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বার্মা ষ্ট্যান্ড এ দীর্ঘ দিন আগে সুফিয়া জেনারেল হাসপাতাল বর্তমানে আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিক গড়ে তুলেন। তার সাথে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক গড়ে উঠে ফতুল্লা থানার হাজীগঞ্জ এলাকার মোঃ ফজলুল হক এর পুএ এ কে এম রুহুল আমিন এর সাথে বন্ধু চৌধুরী বাড়ির আনোয়ারের মাধ্যমে। রুহুল আমিন লেখাপড়া শেষ করে একটি গামেন্টস প্রতিষ্ঠানে দিন রাত হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের চাকুরির মধ্য দিয়ে খেয়ে না খেয়ে স্ত্রী সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে অর্জিত টাকার কিছু সঞ্চয় করেছিলেন। জীবনে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চিন্তা করে চাকুরী ছেড়ে বিদেশে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। চাকুরী ছেড়ে দিয়ে বিদেশ যাবার জন্য কাগজ পএ ঠিক করতে থাকেন। তার এই অবস্হার সুযোগ নিয়ে চতুর তাইফুরুল ফন্দি করে রুহুল কে প্রস্তাব দেয় ক্লিনিকে দুটো মেশিন দরকার। মেশিন টা কিনলে ভালো অর্থ আয় হবে।সহজ সরল রুহুল আমিন তার কৌশল বুজতে না পেরে তার প্রস্তাবে রাজি হয়। রুহুলের ঘামঝড়া সঞ্চয় শর্তসাপেক্ষে ৭০০০০০(সাত লক্ষ) টাকা দেন মিশিন ক্রয় করার জন্য। এ বিষয়ে দু জনার সাথে একটি চুক্তি নামা দলিল হয়। তাইফুরুল ৭০০০০০(সাতলক্ষ) টাকা নিয়ে রুহুল আমিন কে জামানত বাবদ নিজ একাউন্ট নামিও একটি রিটার্ন চেক ৭০০০০০(সাতলক্ষ) টাকা প্রদান করেন।

এ টাকা নেয়ার পর থেকেই তাইফুরুল এর প্রতারনার আসল চেহারা বের হয়ে আসে। টাকা নিয়ে চুক্তিনামা অনুযায়ী সে মেশিন ক্রয় করেনি।অংশীদার হিসেবে রুহুল আমিনকে বিনিয়োগ কৃত টাকার আয়ের হিসেব গোপন রেখে আয়ের নামে মাএ অর্থ বন্ধু আনোয়ারের মাধ্যমে রুহুলকে দিয়ে সিংহভাগ আয়ের অর্থ নিজে আত্মসাৎ করতে থাকে।রুহুল আমিন তার প্রতারনার বিষয়টি বুজতে পেরে মূলধনের ৭০০০০০(সাত লক্ষ) টাকা ফেরত চাইলে তখন থেকেই তাইফুরল তালবাহানা শুরু করে।

ভুক্তভোগী রুহুল চুক্তিকৃত মেয়াদ শেষ হলে তাইফুরুলের কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাইফুরুল টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো রুহুলকে অকথ্য গালিগালাজ সহ ভয়ভিতি দেখায়।রুহুল নিরুপায় হয়ে ২ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন প্রতিকার চেয়ে।এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন,এ বিষটি নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত কারী কর্মকর্তাকে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলেছি।তদন্ত কর্মকর্তা এ এস আই সাহাব উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান,আমি এখনো অভিযোগ হাতে পাইনি।

সহজ সরল অসহায় রুহুল আমিন টাকা ফেরৎ নাপেয়ে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন এবং তাইফুরুলের হুমকিতে প্রান ভয়ে দিন যাপন করছেন।কেননা তাইফুরুল এতটাই ক্ষমতাধর বলে নিজেকে রুহুল আমিন এর কাছে তার পরিচয় প্রকাশ করেছেন তার সাথে ক্ষমতাধর প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যতা রয়েছে দু চার জন এমপি মন্ত্রী তার পকেটে আর ডিসি এসপি তো তার কথায় উঠবস করে। পুলিশ প্রশাসনকে মাসহারা দিয়ে তার সবকাজ পরিচালনা করেন। তাই তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে চাইলেও কোন লাভ হবে না।

ভুক্তভোগী রুহুল আমিন তার মূলধনের টাকা ফেরত পেয়ে তাইফুরুলের মত এ প্রতারকের হাত থেকে মুক্তি চায়।এ বিশেষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন।

print