সিদ্ধিরগঞ্জে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

41
ধর্ষন

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ১৬ বছরের এক তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন।

তরুণীর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি চিকিৎসকের কাছ থেকে জানতে পেরে তার মা মামলা দায়ের করার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার করোনা গ্রামের রমজান আলীর ছেলে উজ্জ্বল রানা (২০), একই থানার সাটিয়া এলাকার সাতারুল হোসেনের ছেলে তাজেল ইসলাম (১৬), মৃত বাবুল হাওলাদারের ছেলে মো. জালাল (২১), ভোলা চরফ্যাশন থানার আব্দুল্লাহপুর (আমেনাবাদ) এলাকার মৃত আব্দুর রশিদ হাওলাদারের ছেলে আব্দুল আজিজ হাওলাদার ওরফে মিন্টু হাওলাদার (৫৫) এবং তার স্ত্রী বিলকিস হাওলাদার (৪২)।

আসামিরা সকলেই সিদ্ধিরগঞ্জ কদমতলী গ্যাসলাইন এলাকার হাজি হুমায়ুন কবিরের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাদী সপরিবারে কদমতলী গ্যাসলাইন এলাকার হাজি হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে আসামিদের পাশাপাশি কক্ষে ভাড়া থাকতেন।

গত ২৮ অক্টোবর তারা বাড়ি পরিবর্তন করে বর্তমান ঠিকানা নাসিক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুমিলপাড়া এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বাস করছেন।

হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে থাকাকালে গত ২৪ এপ্রিল বিকেলে ভুক্তভোগী তরুণী তাদের রুমের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় আসামি জালাল ও বিলকিস হাওলাদার কথা বলার জন্য মেয়েটিকে ফুসলিয়ে তাকে দোচালা টিনের ঘরের একটি কক্ষে নিয়ে যায়।

পরে আসামি উজ্জ্বল রানা ও তাজেল ইসলামকে রুমে ডেকে এনে ভিকটিমকে রেখে তারা বাইরে চলে যায়। পরে উজ্জ্বল রানা ও তাজেল ইসলাম দরজা বন্ধ করে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। এতে ভিকটিম অসুস্থ হয়ে পড়লে বিলকিস দোকান থেকে ওষুধ কিনে এনে খাওয়ান। কিছুটা সুস্থ হলে মিন্টু হাওলাদার, বিলকিস ও জালাল এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য তরুণীকে নানা ভয়ভীতি দেখান।

লজ্জা এবং ভয়ে এ ঘটনা ভিকটিম কাউকে জানায়নি। গত ২৯ অক্টোবর ভিকটিম অসুস্থ হয়ে বমি করতে থাকে। তখন তাকে দ্রুত কদমতলী এলাকার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান তিনি ৫ মাসের গর্ভবতী। তখন জানতে চাইলে ভিকটিম তার মা-বাবাকে ৫ মাস আগে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা জানান।

মামলার বাদী ভিকটিমের মা জানান, তিনি মেস বাসায় রান্না করেন। তার স্বামী রিকশা চালক। অভাবের সংসারে তারা তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বড় মেয়ে (ভিকটিম) গ্রামের একটি স্কুলে পড়াশোনা করতেন। করোনাকালীন সময়ে তাকে গ্রাম থেকে এনে সঙ্গে রাখেন।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন আমরা স্বামী-স্ত্রী বাইরে ছিলাম। মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে তা ধারণাও করি নাই। ঘটনা জানার পর থানায় গিয়ে মামলা করি।

বাদীর অভিযোগ, আসামিপক্ষ এ ঘটনার মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে তিনি বলেন, মীমাংসা নয় আমি আসামিদের শাস্তি চাই।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক বলেন, পাঁচ মাস আগে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়াদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয় ওই তরুণী। লোক লজ্জা ও আসামিদের হুমকিতে সে ঘটনা কাউকে জানায়নি। চিকিৎসকের মাধ্যমে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা জানার পর তার মা বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি দিয়ে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই সব আসামি গ্রেপ্তার করে।

print