সিদ্ধিরগঞ্জে মতি সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ ভূমিদস্যু- গিয়াস উদ্দিন

2289

নিজস্ব প্রতিবেদক
চর সুমিলপাড়ায় গণসংবর্ধনায় সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জের কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি। কাউন্সিলরের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন।
গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘মতি সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পালিত প্রানী। সে একাধারে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু। তার মতো একটা প্রানীকে নিয়ে কথা বলার রুচি আমার নেই। তবুও তার অতীত আজকে তার মনে নেই। তবে সিদ্ধিরগঞ্জবাসী নিশ্চয়ই ভুলে যায় নাই। সে ঠিকই বলেছে সে এক সময় ৩ বেলা ঠিকমত খেতে পেত না। মানুষের খাবার সে ছিনিয়ে নিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে বিএনপি কাছে হেরে যাওয়ার পর সে তার বসকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল। তাদের স্বভাবই হলো পালিয়ে যাওয়া। আগামী নির্বাচনের আগেই তারা ফের পালিয়ে যাবে। মানুষ জানে সিদ্ধিরগঞ্জে মতিউর রহমান মতি কি না করেছে। সে ওরিয়ন গ্রুপের জন্য ১শ পরিবারের জায়গা দখল করেছে। সাধারন মানুষের পরিবারগুলোকে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে। ওই চর সুমিলপাড়া এলাকাবাসীকে মামলা দিয়ে তাকে জমি কাকে দিয়েছে। ওরিয়ন গ্রুপের ভেতরে প্রায় ১০ একর জমি সে বিভিন্নভাবে হাতিয়ে দিয়েছে। সরকারি খাস জমি, সাধারন মানুষের জমি দখল করে সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা বানিয়েছে। ডাচ বাংলা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নামে যে প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠানের জমি কার জমি। সাধারন মানুষকে গলা ধাক্কা দিয়ে তাদেরকে ওই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের জমি দখল করে বানিয়ে ওই বিদ্যুৎ প্রকল্প। গত ১০ বছর থেকে আদমজী ইপিজেড তার দখলে রয়েছে। সেখানে সব ব্যবসা চলে তার নিয়ন্ত্রনে। তার ইশারা ছাড়া কেউই সেখানে ব্যবসা করতে পারেনা। ভাঙ্গা টিনের ঘর থেকে শুরু করে আজ তার কত হাজার কোটি রয়েছে তা সে ছাড়া আর কেউই বলতে পারেনা। গোদনাইলে অবৈধ তেলের ব্যবসা কার ইশারায় চলছে। কেউ কোন কথা বলতে পারছে না। তার কতজন সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে তা সাধারন মানুষ জানে। ৬ নং ওয়ার্ডে এমন কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই যেখান থেকে সে চাঁদাবাজি না করে। কিন্তু মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না। তবে সময় বেশি বাকি নেই। এবার পালানোর জায়গা খুজে পাবে না। এবার পালাতে দেয়া হবে না।
এছাড়া সাবেক সাংসদ গিয়াস শামীম ওসমানকে নিয়ে বলেন, তিনি আমাকে কি বলবেন। চ্যালেঞ্জতো আমরাই তাদেরকে করে বসে আছি। উল্টো তারাইতো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকার অধিনে নির্বাচন দিতে অনাগ্রহী। চ্যালেঞ্জ তো হচ্ছে নির্বাচনে ভোটের লড়াই। সেই চ্যালেঞ্জেকেই তো তারা ভয় পায়। আসেন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন দিন। তখনই দেখা যাবে জনগণ কাকে বেছে নেন, আপনাকে না আমাকে? তিনি বলেছেন ‘তার (শামীম ওসমান) ৫ ভাগের ১ ভাগ কাজও আমি করিনি কিন্তু আমি বলবো, একটি ডুবন্ত জলহস্তির মতো লোকসানের আদমজী ঝুট মিলের পরিবর্তে যেই ইপিজেড করেছি, যেখানে ৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেছি। যেখান থেকে এখন হাজার হাজার কোটি টাকা ফরেন কারেন্সি আসছে এর মতো একটা কাজের উদাহরণ আপনি দেখান। লোকসানের মুখে থাকা বন্ধ আদমজি ঝুট মিলটির পরিবর্তে এখানে ইপিজেড করলে মানুষ কতটা উপকৃত হবেন, কতো মানুষের কর্মসংস্থান হবে তা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান সাহেবকে নানা ভাবে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলাম বলেই ইপিজেড নির্মাণ হয়েছে। আর এর ফলে দেশের প্রবৃদ্ধিতে এই ইপিজেড বিশাল একটি ভূমিকা পালন করছে। যা ক্রর্মবর্ধমান ভাবে বাড়তেই থাকবে। শুধু যে ইপিজেড করেছি তা নয়; যেই সিদ্ধিরগঞ্জের জমির দাম ছিলো ৩ থেকে ৪ লাখে সেখানে এখন জমির দাম কাঠা প্রতি ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা হয়েছে এখানে ইপিজেড হওয়ার কারণে। আমি সিদ্ধিরগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে দিয়ে পৌরসভা করেছি। যার কারনে এখন এই অঞ্চল সিটি করপোরেশনের আওতায় গেছে। সিটি করপোরেশন এ কারনে সিদ্ধিরগঞ্জকে ঝকঝকে করে সাজাচ্ছে। আর এখানে এখন যেসব কাজ, উন্নয়ণ হচ্ছে তা তো সব সিটি করপোরেশনই করছে, আপনি কোন কাজটা করলেন? আমি তো মাত্র আমার কাজের একটি উদাহরণ দিলাম, দরকার হলে সময় সুযোগ হলে অন্যান্য কাজের উদাহরণও দেবো, যেসব কাজ দৃশ্যমান। কাজের তুলনা করার দরকার নেই। আপনি যেভাবে বলে বেড়াচ্ছেন ৭ হাজার ৪ শ কোটি টাকার উন্নয়ন এবার আপনি করেছেন। আমি ধরেই নিলাম আপনি একজন রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, মিথ্যা বলছেন না। কিন্তু তার একটি তালিকা প্রকাশ করেন। কোথায় কোথায় কত টাকা খরচ করলেন সে বিবরণসহ এই তালিকা প্রকাশ করেন। দেশের নাগরিক হিসেবে এটুকু জানার অধিকার আমাদের আছে। আশা করি আপনি একটি তালিকা প্রকাশ করে তা সবার মাঝে বিতরণ করবেন। আমি এমপি হওয়ার পূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে কথা দিয়েছিলাম এই অঞ্চলকে সন্ত্রাসমুক্ত করবো। আমি সেটি করতে পেরেছি। আমি নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে এখানে অস্ত্রের ঝনঝনানিতে ভীত ছিলেন এই অঞ্চলের মানুষজন। সন্ত্রাসীদের ভয়ে কথা বলার সাহস পেতো না কেউ। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও গোলাগুলির ঘটনা ঘটতো। আমি সেইসব সন্ত্রাসীদের সমূলে উৎখাত করে মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছি। আমি তো দল পরিবর্তন করতে চাইনি! দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম আপনাদের কারণে, মানসম্মান রক্ষার্থে আর ব্যক্তিত্ব বজায় রাখতে। শুধু আমি কেন, অনেকেই দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এখনও অনেকে আছেন যারা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবীদ, তাদের অনেকেই ঘরবন্দি হয়ে আছেন। নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন রাজনীতি থেকে। সম্মানের কথা বিবেচনা করে অনেকেই দলত্যাগ করেছিলেন আপনাদের কারণে। আমি কোনো দ্বন্দ্বের কথা বলছি না। আমি কোনো সাংঘর্ষিক কথা বলছি না। আমি বা আমার মতো যারা জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, তাদের সবারই একটা স্বপ্ন ছিলো। আদর্শ ছিলো। একটা সুন্দর সুজলা, সুফলা সোনার বাংলাদেশের। যে দেশের নাগিরক তার স্ব স্ব অবস্থান থেকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা পাবে। কথা বলার অধিকার পাবে। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। আমি বলবো, এখনও সেই সম্ভবানা মরে যায়নি। আপনি একদল করতে পারেন আমি আরেক দল করতে পারি। মতের পার্থক্য থাকতে পারে। তাই বলে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব সংঘাত কেন হবে? আমি শামীম ওসমানসহ সবাইকে আহ্বান করবো, আসেন নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ণের স্বার্থে এমন প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে শিষ্টাচারের রাজনীতিতে অভ্যস্ত হই। যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের দেখে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে অভ্যস্ত না হয়ে সুন্দর, মসৃণ পথে হাঁটতে পারে এবং দেশের যে কোনো স্থানে যাতে বুক উঁচু করে বলতে পারে আমি নারায়ণগঞ্জবাসী।

print