সিদ্ধিরগঞ্জে রেন্টএ-কার স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বিক্ষোভ

232
সিদ্ধিরগঞ্জে রেন্টএ-কার স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বিক্ষোভ

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি 
সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে উঠা রেন্টএ-কার স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গাড়ির মালিক শ্রমিকরা। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে এপ্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়। এ নিয়ে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। যে কোন সময় ঘটতে পারে রক্তক্ষীয় সংঘর্ষ।
গাড়ি মালিকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই স্ট্যান্ড পরিচালনার জন্য গাড়ি মালিকদের সমন্নয়ে একটি কমিটি গঠন হয়ে আসছে। বর্তমানে ক্ষমতাসী দলের স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতার শেল্টারে গত ৪ বছর আগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া রাজু ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি মনগড়া কমিটি গঠন করে। অথচ তারা গাড়ির মালিক নয়। এ কমিটি গঠন করার পর থেকেই শুরু হয় বেপরোয়া চাঁদাবাজি। স্ট্যান্ডে কোন গাড়ি তালিকাভূক্ত করতে হলে কমিটির নেতাদের ১৫ হাজার টাকা সালামি দিতে হয়। এই কমিটি বিগত ৪ বছর ধরে প্রতিটি মাইক্রোবাস থেকে মাসিক ১৮‘শ টাকা আর প্রাইভেটকার থেকে ১৫‘শ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। এই রেন্টএ-কার স্ট্যান্ডের অধিনে আড়াই শতাধিক মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার রয়েছে। সে পরিসংখ্যান মতে স্ট্যান্ড থেকে মসিক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে কমপক্ষে ৪ লক্ষাধিক টাকা। এনিয়ে এর আগেও বহুবার মালিক শ্রমিকরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। চাঁদাবাজি নিয়ে স্ট্যান্ডে একাধিকবার মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। কয়েকমাস আগে কমিটির সভাপতি আমিনুল হক ভূঁইয়া রাজুকে স্ট্যান্ডে গণপিটুনি দিয়েছিল গাড়ি মালিকরা। তার পরও গত ২৬ আগস্ট আমিন হক ভূঁইয়া রাজু ও সালাউদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে আবার একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি গঠনের প্রতিবাদে গাড়ি মালিকরা ফুঁসে উঠলেও কর্ণপাত করছেনা কমিটির শেল্টারদাতা প্রভাবশালী স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা। কারণ হিসেবে গাড়ি মালিকরা ক্ষোভের সাঙ্গে জানায়, চাঁদাবাজির সিংহ ভাগ অংশ ওই শীর্ষ নেতাদের পকেটে যাচ্ছে।
গাড়ির মালিক নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সিব্বির আহমেদ বলেন, নবগঠিত কমিটির সভাপতি আমিনুল হক ভূঁইয়া রাজুর রেন্টএ-কারে কোন গাড়ী নেই। প্রকৃত গাড়ির মালিকদের নিয়েই কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও বহিরাগত লোকদের দিয়ে কমিটি করায় এক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া এই কমিটি দীর্ষদিন ধরে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করে আসছে।
আরেক গাড়ির মালিক ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, করোনা ভাইরাসের কারণে লক ডাউনের সময় রেন্টএ-কার স্ট্যান্ড বন্ধ ছিল । চালকরা জমানো টাকা পয়সা শেষ করে ধার-দেনায় জর্জরিত হয়েছে। সম্প্রতি স্ট্যান্ড চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঁদা আদায় শুরু করে দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, চাঁদাবাজি নিয়ে মারামারি ঘটনার পর মাস ছয়েক আগে থানা পুলিশ স্ট্যান্টি উচ্ছেদ করে দিয়েছিল। কিছু দিন যেতে না যেতেই রহস্যজনক কারণে আবার স্ট্যান্ড চালু হয়।
এবিষয়ে সভাপতি আমিনুল হক ভূঁইয়া রাজুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার কোন গাড়ি নাই বলে স্বীকার করেন। চাঁদাবাজির বিষয় সঠিক নয় দাবি করে তিনি আরো বলেন, গাড়ি মালিকরা না চাইলে আমি এ পদে থাকতে চাইনা। যারা বিক্ষোভ করেছে তারা বহিরাগত।
সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিননের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃদ ফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করলে রিং হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার উনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক জানান, কোন চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবেনা। চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

print