১১ কিশোরীর ধর্ষক হীরার মুখোশ উন্মোচন!

37
বরিশাল

বরিশাল প্রতিনিধি

আত্মস্বীকৃত ভূয়া সাংবাদিক নওরোজ হিরার মোবাইল চুরি হয়ে যাওয়ার পর, তার মোবাইলে থাকা একাধিক কিশোরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও আপত্তিকর বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
কথিত সাংবাদিক হিরা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর এলাকার মৃত আব্দুল খালেক সিকদারের ছেলে।
নিজের ভূয়া সাংবাদিক পরিচয়ের মাধ্যমে পুরো বাকেরগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ প্রভাব খাঁটিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করতেন বলে জানা গেছে। একইভাবে একটি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ জোর পূর্বক নিজের দখলে রাখার অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, হীরার স্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অতীতে শিশু বলাৎকারের অভিযোগে স্ত্রী কর্তৃক ডিভোর্স প্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে একাকী যাপন করছেন। যার সুবাদে নিজ প্রতিষ্ঠানের ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীদের পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাইয়ে দেয়াসহ বিভিন্ন রকম প্রলোভন, অন্যথায় জিম্মি করে বাড়িতে ডেকে এনে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। অতঃপর ধারন করা ভিডিও দেখিয়ে পুনরায় একাধিক বার সেই সব কিশোরীদের নিয়মিত ধর্ষণ করতেন।
সম্প্রতি মোবাইল চুরি হওয়ার পর ছবি এবং ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে একজন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তবে সেই অভিযোগ আমলে নেননি ধর্ষণ মামলায় চার শিশুকে গ্রেফতার করা বাকেরগঞ্জ থানার বিতর্কিত ওসি আবুল কালাম।
সর্বশেষ পুলিশ সুপারের নির্দেশে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) ধর্ষণের শিকার এক স্কুলছাত্রীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করতে বাধ্য হয় পুলিশ। যেখানে হীরা ও তার এক ভাতিজিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিগত ২০১৫ সাল থেকে বর্তমান অব্দি প্রায় ১১টি মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
অভিযুক্ত হীরা বাকেরগঞ্জ থানায় জাতীয় পার্টি মনোনীত সংসদ সদস্য বেগম নাসরিন জাহান রত্না ও জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিনের ঘনিষ্ট কর্মী। যার কারনে সহসাই তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।
অভিযুক্ত হীরা জানান, ১৭ অক্টোবর তার মোবাইল চুরি হয়ে যাওয়ার পর ১৯ অক্টোবর থেকে ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ে। তার দাবি- উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে কেউ একজন তার এই সর্বনাশ করেছে।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম জানান, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও ভিকটিমরা অভিযোগ না করায় মামলা হয়নি। পরে এক ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মামলা করলে তা গ্রহণ করা হয়।

print