৫৮ দপ্তরের মধ্যে পুলিশই সেরা

17000

শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া

নারায়ণগঞ্জে একক প্রশংসা কুড়িয়ে চলছেন জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। দিকে জেলা প্রশাসনের আওতায় থাকা ৫৮ টি দপ্তর কেবল নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। তাদের তেমন কোন কর্মকান্ড নেই বললেই চলে। তাদের নিয়ে সাধারন মানুষের সমালোচনার অন্ত নেই। অপরদিকে খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে এসে এসপি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাধারন মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন।

বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সাধারন মানুষের সাথে কথা হলে তারা জানান, এসপি হারুন একজন বীর পুরুষ। তিনি সাধারন মানুষের জন্য দেবতা। আগে পুলিশ আমাদের মতো গরীব মানুষকে ধরে টাকা আদায় করতো। কিন্তু বর্তমান পুলিশ সুপার আসার পর থেকে পুলিশ অনেকটা সংযমী হয়েছে। অপরদিকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, প্রভাবশালী মহল, মাদক ব্যবসায়ী, মদের ডিলার, তেল চোর, ভূমিদস্যু, বালু মহাল, জবর দখল, ছিনতাই, ডাকাত চক্রের সদস্যরা আতংকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। অনেকে কারাগারে বসে হালুয়া রুটি সেবন করছেন। কেউ কেউ আবার কারাগারে বসেও মোটা অংকের অর্থ আদায় করছে। তবে আমরা শান্তিতে আছি। পুলিশ সুপারের মতো আরো বহু সরকারি দপ্তর নারায়ণগঞ্জে বসানো হয়েছে। তাদেরকে কখনও আমরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা ছেড়ে বাইরে বেরোতে দেখি না। তারা গোপনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেন। আবার গোপনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। তাদের কাজের কোন স্বচ্ছতা নেই। তাদের কর্মকান্ডে পরিস্কার তাদের বানিজ্যটাই তাদের সবচেয়ে বড় কর্ম। অপরদিকে এসপি হারুন রাস্তায় নেমে এসে রোদ বৃষ্টি ঝড়ে সাধারন মানুষ তাদের জিম্মি দশা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি দীর্ঘজীবি হবেন এটাই সাধারন মানুষের কামনা। এদিকে বেশিরভাগ মানুষ চায় এসপি হারুনকে আগামী বছর নারায়ণগঞ্জে রাখা হোক। বিগত শত বছরের সাধারন মানুষের সকল দুঃখ দূর করতে মানুষের একমাত্র পছন্দ এসপি হারুন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে সরকারের ৫৮ টি দপ্তর নারায়ণগঞ্জে কাজ করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জেলা প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক টি দপ্তর। পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ্যাব, আনসার গ্রাম প্রতিরক্ষা, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর, জেলা কারাগার। শিক্ষা সংস্কৃতি বিষয়ক টি দপ্তর। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা, জেলা শিক্ষা অফিস, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুারো, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, শিশু একাডেমী, জেলা ক্রীড়া অফিস, পাবলিক লাইব্রেরী। কৃষি খাদ্য বিষয়ক টি দপ্তর। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, বীজ বিপনন, জেলা মৎস অফিস, জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস, পাট অধিদপ্তর, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী কৃষি বিপনন অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য বিষয়ক টি দপ্তর রয়েছে। সিভিল সার্জনের কার্যালয়, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেনারেল হাসপাতাল, ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল, পরিবার পরিকল্পনা, নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। প্রকৌশল বিষয়ক টি দপ্তর রয়েছে। গনপূর্ত বিভাগ, সড়ক জনপথ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তিতাস গ্যাস। যোগাযোগ তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক টি দপ্তর রয়েছে। রেলওয়ে, বিআরটিএ, ডাক বিভাগ বিটিসিএল। মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক টি দপ্তর রয়েছে। সমাজসেবা, যুব উন্নয়ন, মহিলা বিষয়ক, বিআরডিবি, সমবায় জাতীয় মহিলা সংস্থা। এছাড়া আরও ১৩ টি দপ্তর রয়েছে। জেলা তথ্য অফিস, শিল্প সহায়ক কেন্দ্র (বিসিক), পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, জেলা সঞ্চয় অফিস, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জেলা হিসাব রক্ষন অফিসারের কার্যালয়, ডিপিডিসি, জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর সামাজিক বন বিভাগ।

সাধারন মানুষের কাছে প্রশ্ন জানতে চাইলে তারা জানান, বেশিরভাগ দপ্তরের নামই তারা কখনও শোনেনি। কারো কারো অফিস বেশিরভাগ বন্ধ থাকে। যেগুলো খোলা থাকে সেখানে প্রধান কর্মকর্তাকে খুজে পাওয়া যায় না। তবে কয়েকটি নামকরা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সাধারন মানুষের রয়েছে ক্ষোভ, হয়রানির অভিযোগ, দুর্নীতির অভিযোগসহ নানা ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া।

 

print